মুন্সিগঞ্জের ‘ক্যান্ডি’ বিমানে চড়ে যাচ্ছে ইতালিতে, করা হয়েছে আলাদা পাসপোর্ট
মুন্সিগঞ্জ, ৬ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ থেকে বিমানে চড়ে ইতালিতে যাচ্ছে পোষা বিড়াল ‘ক্যান্ডি’। চার বছর ধরে পরিবারের সদস্যের মতো লালন করা ‘ক্যান্ডি’কে সঙ্গে নিতে মালিকদের খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।
বিশেষ খাঁচা, বিমানের টিকিট, সরকারি অনুমতি, পোষা প্রাণীর পাসপোর্ট—সবকিছুর পাশাপাশি ট্রানজিট বিমানবন্দরের ক্লিয়ারেন্সও নিতে হয়েছে আলাদা করে। নানা ধাপ পেরিয়ে শেষমেশ বিদেশযাত্রার পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পরিবারটি।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত সোয়া ৩টার ফ্লাইটে কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে ইতালির উদ্দেশে উড়াল দিয়েছে ক্যান্ডি।
মুন্সিগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকার গৃহিণী রিক্তা বেগম ২০২১ সালে অনলাইনে ১৫ হাজার টাকায় বিড়ালছানা ক্যান্ডিকে কেনেন। তখন তার ছেলে শিথিল স্কুলে পড়ত। সময়ের সঙ্গে পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য সদস্যে পরিণত হয় ক্যান্ডি। এখন শিথিল এইচএসসি পাস করেছেন, আর স্বামী আব্দুল হাইয়ের কর্মস্থল ইতালির রোমে পাড়ি জমাতে যাচ্ছেন তারা সবাই। তাই প্রিয় ক্যান্ডিকে পেছনে রেখে যাওয়া পরিবারের কারও পক্ষেই সম্ভব হয়নি।
রিক্তা বেগম বলেন, “ক্যান্ডিকে আমরা সন্তানস্নেহে বড় করেছি। ও এখন আমাদের পরিবারেরই অংশ। বাইরে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দেয়-তাই ওকে ছাড়া যাওয়া অসম্ভব।”
ছেলে স্বপ্নীল হাসান শিথিলও জানান, “ক্যান্ডি আমাদের ঘরের প্রাণ। ও ছাড়া ঘরটা ফাঁকা লাগে, তাই ওকে সঙ্গে নিয়েই যাচ্ছি।”
কয়েক মাস আগে দেশে ছুটি কাটাতে এসে স্বামী আব্দুল হাইও ক্যান্ডির প্রতি পরিবারের মায়া দেখে মুগ্ধ হন। তিনিও বিড়ালটিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দেন।
সব নিয়ম মেনে ক্যান্ডিকে বিমানে বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ খাঁচা, বিমান ভাড়া ও আনুষ্ঠানিকতা মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। শুধু বিমান ভাড়াই ৩৫০ মার্কিন ডলার-বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে পোষা প্রাণীর পাসপোর্ট, সরকারি ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ এবং ট্রানজিট বিমানবন্দরের অনুমতিপত্র।
মুন্সীগঞ্জ টিটলার্ক পেটওয়েল সেন্টারের ভেটেরিনারি কনসালট্যান্ট ও সার্জন ডা. শিবেন চন্দ্র লিটন বলেন, “বিদেশে প্রাণী নিতে হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী টিকা, স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট ও মাইক্রোচিপ স্থাপন বাধ্যতামূলক। ক্যান্ডির শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে একটি মাইক্রোচিপ বসানো হয়েছে, যা স্ক্যান করলে তার ইউনিক নম্বর দেখা যাবে।”
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল জানান, “এটি প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের দারুণ উদাহরণ।”
ক্যান্ডির ‘পেট পাসপোর্ট’-এ তার ছবি, বয়স, জাত, ওজন, টিকা ও চিকিৎসা ইতিহাসের তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে। ডমেস্টিক মিক্সড জাতের এই বিড়ালের ওজন প্রায় ৬ কেজি। নিয়ম অনুযায়ী ক্যান্ডিকে বিমানের কেবিনে হাতব্যাগের মতোই বহন করা হবে।
সব ঝক্কি-ঝামেলা আর ব্যয়ের পরও পরিবারের কারও আপত্তি নেই-কারণ ক্যান্ডি এখন কেবল একটি পোষা প্রাণী নয়, পরিবারের ভালোবাসার প্রতীক।
মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্ক যে সীমান্ত মানে না-তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠছে মুন্সিগঞ্জের এই বিড়াল ‘ক্যান্ডি’।


