৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | দুপুর ১:৫৫
বিক্রমপুরের শখের ঘর: এক টিনের ঘর ৩৩ লাখ টাকা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১৩ আগষ্ট, ২০২২, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মানুষের জীবনে নানারকমের শখের কথা হয়তো শুনেছেন। শখ করে কেউ তুলেছেন রাজপ্রাসাদ, কেউ আবার তাজমহল। শখ মানুষকে আনন্দ দেয়, আবার আত্মতৃপ্তিও দেয়। শখ পূরণ করতে মানুষ কত কিছুই না করে। পৃথিবীতে আর কিছু পাওয়া যাক বা না যাক শখবিহীন একজন মানুষও কিন্তু খুঁজে পাবেন না।

কথায় আছে বিক্রমপুরের পোলা লাখ টাকা তোলা। বিক্রমপুরের ছেলেদের শখ সম্পর্কে আপনার কি ধারণা আছে? দেখুন তো বিক্রমপুরের এই ব্যক্তি ১ লাখ ২ লাখ নয়! ৩৩ লাখ টাকা দিয়ে টিনের ঘর তুলেছেন তিনি।

ভাবতে পারেন? কেন এই শখ?

বিক্রমপুরের শখের এই ঘরটি তুলেছেন বিক্রমপুর অর্থাৎ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের বড় নওপাড়া এলাকার মো. মাসুদ। গেল বছর ৪ শতাংশ জমির উপর ৩৩ লাখ টাকা ব্যায় করে দোচালা এই ঘরটি নির্মাণ করেন তিনি।

ঘরের সামনে গিয়ে দেখলে মনে হবে কোন এক রাজপ্রাসাদের সামনে দাড়িয়ে আছেন আপনি। আর পদ্মা নদীর তীরে ঘরটির অবস্থান হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই এর সৌন্দর্য্য যেন বেড়ে গেছে কয়েকগুন।

টিন ও কাঠের উপর নান্দনিক কারুকাজ আর লাল রঙের টিনের ছাদ ঘরটিকে বিক্রমপুরের দীর্ঘদিনের শৈল্পিক ঐতিহ্যকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে।

ঘরটির নিচ তলায় ৬টি ও উপর তলায় রয়েছে ৩ টি ‍রুম। উপর তলার বাড়ান্দা বিশেষ সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে ঘরটির। অবসর সময়ে বাড়ান্দায় দাড়িয়ে নদী দেখার মত সুন্দর দৃশ্যের স্মৃতি মুগ্ধতা ছড়াবে বছরের পর বছর ধরে।

লোহা কাঠ ও উন্নত মানের টিনের নির্মিত এই ঘরটি টিকে থাকবে অন্তত ৭০-৮০ বৎসর। মুন্সিগঞ্জ সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এখন এই ঘরগুলো বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই বিল্ডিং না তুলে শখের বসে লাখ লাখ টাকা খরচ করে টিন ও কাঠের এরকম ঘর তুলছেন।

এই ঘরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাটি হলো- চাইলে যে কোন সময় ঘরগুলো খুলে আবার বিক্রি করে দেয়া যায়। -আমার বিক্রমপুর

কাঠের ঘরের নাম শুনলেই সর্বপ্রথম আসে বিক্রমপুরের কথা। বিক্রমপুর অর্থাৎ মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় টিন ও কাঠের রেডিমেড ঘর বিক্রি করা হয়। ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের ঘরগুলো সেখানে বানানো অবস্থায় পাওয়া যায়। চাইলে যে কোন সময় সামনাসামনি এসে সেই ঘরগুলো কিনতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি দামের ঘর বানাতে চাইলে আপনার চাহিদা অনুযায়ী তারা বানিয়ে দিয়ে থাকেন।

error: দুঃখিত!