পদ্মায় স্রোতের তীব্রতা কমছে না, ভাঙছে দিঘিরপাড়, রাখিকান্দি ও শম্ভুহালদারকান্দি
মুন্সিগঞ্জ, ১৩ আগস্ট ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
বর্ষার অতিবৃষ্টি, পদ্মা নদীর গঠন ও জোয়ারের প্রভাবে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দিঘিরপাড় বাজার ও আশপাশের এলাকায়। স্রোতের তীব্রতায় ভাঙছে দিঘিরপাড় বাজার, রাখিকান্দি ও শম্ভুহালদারকান্দি এলাকার বসতভিটা।
আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিন দিঘিরপাড় বাজারে গেলে ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহের ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ভাঙনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৭-৯টি দোকান। তাই সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছেন।
বর্তমানে নদীতে ঘুর্ণীয়মান স্রোত অব্যাহত থাকায় ভাঙন আতঙ্কে দিনযাপন করছেন বাজারের কয়েক শতাধিক ব্যবসায়ী।
স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে টংগিবাড়ীর দিঘিরপাড় পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প নেয় সরকার। ২০২১ সালে শুরু হলেও ৪ বছরেও বাস্তবে রুপ নেয়নি বেরি বাঁধ।
ফলে গেল বছরগুলোর মত এবছরও ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে দিঘীরপাড়, রাখিকান্দি ও শম্ভুহালদারকান্দির শতাধিক বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বেরিবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সিগঞ্জের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত; গেল বছরও জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ৈ ভাঙনের কবলে পড়ে ঐতিহ্যবাহী দিঘিরপাড় বাজার ও আশপাশের এলাকা। কিন্তু এরপরও এবছর আগাম ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষুব্ধ মানুষ। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।


