ধরা পড়লো বড় চক্র: গল্পের ফাঁদে ফেলে অটো-মিশুক লুটতেন তারা, কখনো করতেন হত্যা
মুন্সিগঞ্জ, ১২ আগস্ট ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
চালকদের গল্পের ফাঁদে ফেলে মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অটো-মিশুক লুট করতেন তারা। কখনো কখনো তাদের কাছে হত্যার শিকার হতেন চালকরা। এমনই একটি চক্রকে ৮টি লুটকৃত ইজিবাইকসহ গ্রেপ্তার করেছে মুন্সিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, সর্বশেষ গত ২ আগস্ট সিরাজদিখানের নোয়াপাড়া এলাকায় যাত্রী সেজে অটোরিকশায় ওঠেন ৩ সদস্যের ছিনতাইকারী। গল্পের ফাঁদে ফেলে বিস্কুট খেতে বলেন তারা। চেতনানাশক মেশানো ওই বিস্কুট খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন চালক আলম শেখ। এরপর তাকে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যরা।
গত রোববার (১০ আগস্ট) ডিবির উপপরিদর্শক কামরুল হাসান শ্রীনগর উপজেলার পাটাভোগ এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের আন্ডারপাসের নিচ থেকে ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকার রুবেল ওরফে আব্দুল্লাহ (৩২), নবাবগঞ্জ এলাকার জামাল হোসেন (৪০) ও দোহারের ইমরান হোসেন ওরফে মোফাজ্জলকে আটক করে। এসময় রুবেলের হাতে থাকা একটি ব্যাগ থেকে এক প্যাকেট চেতনানাশক মেশানো ডাইজেস্টিভ বিস্কুট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত সদৃশ ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করে যে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা চেতনানাশক মাখানো বিস্কুটসহ এলাকাটিতে অবস্থান করছিল।
এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের অন্যান্য সহযোগী শ্রীনগরের দেউলভোগ এলাকার মো. হৃদয় শেখ (২৫), ভাগ্যকুল মান্দ্রা এলাকার পলাশ পাঠান (৩৫), কামারগাঁও এলাকার মো. বিধানকে (৪৭) আটক করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগী আলম শেখের ছিনতাইকৃ অটোরিকশাটিসহ আরও একটি অটোরিকশা ও ২টি অটোরিকশার বডি উদ্ধার করা হয়।
এখানেই থেমে থাকেননি ডিবি সদস্যরা। এরপর তাদের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ এলাকার মো. সুমনের গ্যারেজে অভিযান করে ডিবি। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় লুট হওয়া আরও ৪টি অটোরিকশা।
এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা শেষে গতকাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।


