দিঘিরপাড়ে সেতু নির্মাণসহ ৪ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি
মুন্সিগঞ্জ, ২১ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর জমা দিয়েছেন দিঘিরপাড় যুব সমাজ ও আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ।
আজ রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় এলাকার যুব সমাজ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রবীণ সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনগণের স্বাক্ষরসংবলিত গণস্বাক্ষরপত্রও জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে দিঘীরপাড় এলাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দিঘিরপাড় ব্রিজ নির্মাণ, কান্দারবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণ এবং জনসাধারণের যাতায়াত ও জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, দিঘিরপাড় ব্রিজ না থাকায় এলাকাবাসীকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে নিত্যদিন ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে কান্দারবাড়ি এলাকায় নদীভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, দিঘীরপাড় এলাকার দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়গুলো আমি গুরুত্বের সঙ্গে নজরে রেখেছি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করে যাব। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
জেলা প্রশাসকের এ আশ্বাসে এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিনের দাবি দিঘিরপাড় ব্রিজ নির্মাণ, কান্দারবাড়ি নদীভাঙন রোধ এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দিঘিরপাড় যুব সমাজ ও আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দাবি নয়; বরং পুরো এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি। এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে চার দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তারা। গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থনও এ দাবিগুলোর প্রতি প্রতিফলিত হয়েছে।





