মুন্সিগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান কোনগুলো? (দেখে নিন বিস্তারিত)
মুন্সিগঞ্জ, ১ এপ্রিল ২০২৫, ডেস্ক রিপোর্ট (আমার বিক্রমপুর)
প্রাচীনকাল তথা খ্রিস্টীয় দশ শতকের শুরু থেকে তেরো শতকের প্রথম পর্যন্ত চন্দ্র, বর্মন ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল মুন্সিগঞ্জ জেলা। সেই সুবাদে এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। সেগুলোর পাশাপাশি বর্তমান আধুনিক সময়ে বেসরকারি উদ্যোগে জেলায় গড়ে উঠেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র।
জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান, অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান, রাজা শ্রীনাথের বাড়ি, রামপালে বাবা আদমের মসজিদ, সোনারং জোড়া মঠ, ইদ্রাকপুর কেল্লা, রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি, শ্যামসিদ্ধির মঠ, শুলপুরের গির্জা, শিমুলিয়া ঘাট, মানা বে প্রিমিয়াম ওয়াটার পার্ক, ঢালি’স আম্বার নিবাস, এম জে হলিডে রিসোর্ট, মাওয়া রিসোর্ট, মেঘনা ভিলেজসহ ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র মুন্সিগঞ্জ জেলাকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ও আকর্ষনীয়। মুন্সিগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে একটি গাইড দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের সকল তথ্য ও ছবি সংগৃহীত। সেক্ষেত্রে কোন কোন জায়গায় ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। যদি কেউ ভূল সংশোধনের জন্য ‘আমার বিক্রমপুর’ এর কাছে অনুরোধ পাঠাতে চান তাহলে bikrampuramar@gmail.com ইমেইলটি ব্যবহার করুন।
মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়নগঞ্জ পার হওয়ার পর এক কিলোমিটারের মধ্যে রাস্তার ডান পাশে (ঢাকা থেকে গেলে) ৩০ বিঘা জমির উপর ফুল ফল বৃক্ষশোভিত এক অন্যন্য বিনোদন কেন্দ্র মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট। মেঘনা ব্রিজ পার হওয়ার পরই দেখা পাবেন রাস্তার পাশে। প্রথমে দেখতে পাবেন কয়েকটি হাতি, বাঘ ও হরিণ এর ভাস্কর্য তারপর প্রধান ফটক।
এর প্রবেশ পথেই আপনাকে একটি ডাইনোসর এর ভাস্কর্য স্বাগত জানাবে ও তার সাথে লেখা ফলকে পরিবেশ বিষয়ক বার্তা দেবে। প্রবেশ পথ পেরিয়ে শান্ত ছিমছাম পরিবেশ। চারপাশের বাতাসে পাখির কলতান। গ্রামের মতোই সবুজ শ্যামল অপরূপ মায়াবী। কুটিরগুলো দেখতে অনেকটা নেপালি ঢঙের। গ্রামের মায়া ছেড়ে যাদের জীবন কর্মচঞ্চল শহরের গণ্ডিতে আটকা, তারা চাইলে রাতে আরাম কেদারায় বসে চাঁদনী দেখতে দেখতে ফিরে যেতে পারেন হারিয়ে যাওয়া কোনো শৈশব স্মৃতিতে।
বিনোদন ও অবকাশ যাপনের জন্য রাজধানীর কাছেই মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় এ ভ্রমণতীর্থ মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট (Meghna Village Holiday Resort)।
প্রবেশ মুখে ও অভ্যন্তরে দেখা মিলবে শিশুদের উপভোগ্য হাতির পাল, যুদ্ধরত ষাঁড়, ভল্লুক, বিশাল ডাইনোসর, বাঘ, হরিণ, সাপ-বেজির লড়াই, রাজহংসী, বাচ্চাসহ জিরাফের ভাস্কর্য, রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানাও। চিত্রা হরিণ, বানর, লজ্জাবতী হনুমান, কালিম পাখি, খরগোশ, কোয়েল পাখি ও কুমির কী নেই এখানে। বিনোদন ও অবকাশযাপনে পরিপূর্ণ আনন্দ পেতে আগতদের জন্য রয়েছে ফটোগ্রাফি, চিকিত্সা, লন্ড্রি, সুভ্যেনির শপ, নিজস্ব গাড়ি, বাংলা ও চাইনিজ খাবার, পিকনিক, বারবিকিউ ডিনারের ব্যবস্থা। শরীরটাকে একটু ঝালাই করে নিতে এর রয়েছে সুবিশাল দুটি খেলার মাঠ। তাই ব্যাট বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে পারবেন নির্দ্বিধায়। যারা মাছ ধরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে মাছ ধরার ব্যবস্থাও। এমনকি নিজের ধরা মাছও তত্ক্ষণাত্ ঝলসে নিয়ে উদরপূর্তির সুযোগও আছে।
বিনোদনের নানা আয়োজনে ঠাসা এই রিসোর্টটিতে রয়েছে পেন্ডুলাম পাইরেট শিপ, প্যাডেল বোট, নাগরদোলা, মেরিগো রাউন্ড, সাইকেল চালনা, ব্যাটারী কার ও মিকি মাউস বাইক। এগুলো ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা ফি এর বিনিময়ে। এছাড়া এখানে সংরক্ষিত কুমির, মিনি ছিড়িয়াখানার পাখি ও জীবজন্তু দেখা আর বিশেষ সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ গান দেখার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। তাদের রয়েছে নিজস্ব জামদানী তাঁত ও সবজি ক্ষেত। যেকেউ চাইলে এগুলো কিনতেও পারেন আবার ঘুরে দেখতে পারেন। প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখার জন্য কোনো ফি নেই।
>অন্যান্য সুযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০টি এসি/ নন এসি কটেজ। কটেজগুলোর সামনে ফুলশোভিত বাগান। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরা ও মেইলিস ডাইনিং, রয়েছে খেলার মাঠ এবং মাছ ধরার জন্য দুটো পুকুর। মেঘনা ভিলেজ রিসোর্ট এর নতুন সংযোজন ৩ডি সিনেপ্লেক্স যার ধারন ক্ষমতা ২০ জন। টিকেটের দাম মাত্র ৩০ টাকা। মেঘনা ভিলেজ এর খুব কাছেই আছে সোনারগাঁ জাদুঘর, তাজমহল, কুমিল্লার কোটবাড়ী।
মেঘনা ভিলেজ কিভাবে যাবেন- ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে যেতে হবে কাঁচপুর ব্রিজ। সেখান থেকে সোজা সোনারগাঁ হয়ে মেঘনা ব্রিজ। মেঘনা ব্রীজ পার হয়ে বালুকান্দি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাম দিকের পথ ধরে ১ কিলোমিটার এগুলেই মেঘনা ভিলেজ রিসোর্ট এর দেখা মিলবে। এছাড়া আপনি চাইলে রিসোর্টের নিজস্ব গাড়িতে করেও রিসোর্টে যেতে পারবেন। সেজন্য ১,৫০০+ টাকা খরচ পড়বে। বুকিং এর জন্যে যোগাযোগ- অগ্রিম বুকিং করতে চাইলে – ০১৭১২২০৩৩৩৬। বিস্তারিত তথ্যের জন্য – ০১৭১৮৪৭১৯৬১, ০১৮১৭ ১০৪১২৬। ঢাকা থেকে বুকিং দিতে চাইলে: সুইট – ৫১২এ, লেভেল ৫, ইব্রাহিম ম্যানশন, ১১ পুরানা পল্টন, ঢাকা। ফোন: ০২-৯৫৭০৭৮২, ০১৫৫২-৩০৮৮৪৯, ০১৫৫২-৩৩৩৫৬৩, ০১৭১৮৪৭১৯৬১ (রিসোর্ট)
মূলত ভাগ্যকুলের জমিদারদের অনেকগুলো বাড়ির মধ্যে একমাত্র টিকে থাকা বাড়িটি বান্দুরায় অবস্থিত। ভাগ্যকুলের এই জমিদার বাড়িটি বানিয়েছিলেন জমিদার যদুনাথ সাহা। দ্বিতল বাড়ীর সামনে রয়েছে আটটি বিশাল থাম, দেখতে অনেকটা মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ীর মত। ভবনটির চারিদিকেই এমন থাম বিশিষ্ট এই স্থ্যাপত্যটি গ্রীক স্থাপত্যের ঘরনায় নির্মিত।
ভবনের ভেতরে নকশা-সাপ, ময়ূর, ফুল, পাখি সহ নানান নকশা রয়েছে। পুরো জমিদার বাড়ীর আঙ্গিনা জুড়ে ভবন, মাঝে উঠোন। এই জমিদার বাড়ী এর দরজা এবং জানালা একই মাপের, মানে উচ্চতার। ফলে কপাট বদ্ধ অবস্থায়, কোনটি দরজা, কোনটি জানালা বুঝা দায়। একতলা থেকে দোতলায় যাওয়ার সিঁড়িটি কাঠের তৈরি। এই জমিদার বাড়ীটি বান্দুরায় অবস্থিত। জমিদার বাড়ীর সামনে রয়েছে “নবকুঠি”, এটি মূলত গদিঘর ছিল।
এই জমিদার বাড়ীটি আনুমানিক ১৯২০ সালের আগে পড়ে নির্মাণ করা হয়। যদুনাথ সাহার ছিল পাঁচ ছেলেমেয়ে। এদেরকে পৃথক পৃথক বাড়ী নির্মাণ করে দেন জমিদার যদুনাথ, যেগুলো বান্দুরা’র কোকিলপেয়ারি জমিদার বাড়ী, উকিল বাড়ী, জজ বাড়ী নামে পরিচিত রয়েছে।
ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন- ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জ হয়ে কলাকোপা-বান্দুরা যাওয়া যায়। দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। গুলিস্তান থেকে ঢাকা-দোহার রুটের ‘মহানগর’, ‘গরিবে নেওয়াজ’, ‘সেবা’ কিংবা ‘আরাম’ পরিবহনের বাসে বালাসুর বাজারে নেমে রিকশায় ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি যাওয়া যায়। মাত্র শখানেক গজের মধ্যে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে সবকয়টি ভবন। ভাড়া সব মিলিয়ে ৭০ টাকা। আপনি যে কোন এক ছুটির দিনে স্বপরিবারে বেড়িয়ে আসতে পারেন এই চমৎকার জায়গাটি হতে, আশা করি আপনার ভালই লাগবে।
ইদ্রাকপুর কেল্লা 

লোগোর ঠিক মাঝখানে ব্যবহার করা হয়েছে মুন্সিগঞ্জের ইংরেজি বানানের প্রথম অক্ষর ‘এম’। এর আকার এমনভাবে রাখা হয়েছে যা মুন্সিগঞ্জের তিনটি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরীর প্রবাহমানতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।

মুন্সিগঞ্জের আইকনিক প্রাচীন স্থাপনাগুলোর মাঝে প্রধানতম স্থাপনা হলো মুসলিম শাসন আমলের ‘ইদ্রাকপুর কেল্লা’। এ জেলার মানুষ এই স্থাপনাটিকে বুকে ধারণ করার পাশাপাশি তাদের সভ্যতার পরিচায়ক মনে করে। তাই লোগোর সবচেয়ে উপরে ব্যবহার করা হয়েছে বিখ্যাত ‘ইদ্রাকপুর কেল্লা’ এর উপরি অংশের একটি আকৃতি যা লোগোটিকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। আর সবকিছু মিলিয়ে লোগোটিতে পোড়া মাটির রঙ ব্যবহার করা হয়েছে যা মুন্সিগঞ্জের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহকে নির্দেশ করে। চলুন সহজভাবে জেনে নেই ইদ্রাকপুর কেল্লার ইতিহাস: ইটের তৈরি মুন্সিগঞ্জ শহরের বর্তমান কাচারিঘাট এলাকার ঐতিহাসিক মোঘল স্থাপনা ইদ্রাকপুর কেল্লা বা দুর্গ। তৎকালীন মগ জলদস্যু ও পর্তুগিজ আক্রমণের হাত থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ সমগ্র এলাকাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরের তৎকালীন ইছামতি নদীর তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানটিতে এটি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, এ দুর্গকে ঘিরেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মুন্সিগঞ্জের বসতি। দুর্গটির এক থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ধলেশ্বরী, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদী এখনো বহমান। ইদ্রাকপুর কেল্লা নিয়ে আমার বিক্রমপুরের ভিডিও প্রতিবেদন:

অন্যদিকে, কেল্লার পাশে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু নিয়ে প্রত্নত্বত্ত অধিদপ্তর নির্মাণ করেছে মনোমুগ্ধকর ইদ্রাকপুর দুর্গ জাদুঘর। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই কেল্লা ও যাদুঘরে আসছেন দর্শনার্থীরা।

ইদ্রাকপুর কেল্লার সময়সূচি:
ইদ্রাকপুর কেল্লা প্রতি সপ্তাহের রোববার পুরোপুরি বন্ধ থাকে। পরদিন সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। দেড়টার পর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
এছাড়া সপ্তাহের বাকি ৫ দিন, অর্থাৎ শনিবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে এই দিনগুলিতে দুপুর দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত সাময়িক বিরতি থাকে। শুক্রবার দুপুরে বন্ধের সময় দুপুর ১২ টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ২ টায়।
এছাড়া যেকোন বড় উৎসবের দিন ইদ্রাকপুর কেল্লা দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়। যেমন- দুই ঈদ, পূজা। তবে এসব দিনের পরদিন কেল্লা বন্ধ থাকে।
কেল্লার ভেতরে কোন খাবার বিক্রি করা হয় না। তাই বাহির থেকে খাবার নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা যায়। এছাড়া পাশে যে জাদুঘরটি রয়েছে সেখানে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা নিষেধ।
ইদ্রাকপুর কেল্লার অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য প্রতিজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশীর জন্য প্রবেশ টিকেট ফি ২০ টাকা। এক বছর বয়সী থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্রবেশ ফ্রি।
ক্লাস ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য টিকেট ফি ১০ টাকা। (তবে অবশ্যই স্কুল ড্রেস অথবা আইডি কার্ড দেখাতে হবে)।
প্রাপ্তবয়স্ক বিদেশী পর্যটকদের জন্য প্রতিজন প্রবেশ টিকেট ফি ৩০০ টাকা। তবে সার্কভুক্ত বিদেশি (ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান) পর্যটকদের জন্য প্রবেশ টিকেট ফি ১০০ টাকা।
উল্লেখিত প্রবেশ ফি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার পর ইদ্রাকপুর দুর্গ জাদুঘরে প্রবেশে আলাদা কোন টিকেট নিতে হয় না।
ইদ্রাকপুর কেল্লার নিজস্ব কোন ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেইজ নেই। তবে কেল্লা সংক্রান্ত যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে এই নাম্বারে- 01836651162 (ওমর ফারুখ, অফিস প্রধান, ইদ্রাকপুর কেল্লা।)
ঢাকা থেকে যেভাবে আসবেন: মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের পুরাতন কাচারি এলাকায় এভিজেএম (আলবার্ট ভিক্টোরিয়া যতীন্দ্র মোহন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) স্কুলের পাশে ইদ্রাকপুর কেল্লার অবস্থান। রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত নন এসি (দিঘীরপাড় ট্রান্সপোর্ট) ও এসি বাস (বিআরটিসি) চলাচল করে। ভাড়া নেবে ৮০-১২০ টাকা পর্যন্ত। মুক্তারপুর সেতুর মুন্সিগঞ্জ প্রান্তে নেমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সরাসরি আসা যাবে ইদ্রাকপুর কেল্লার সামনে। ভাড়া নেবে ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে শ্রীনগর-সিরাজদিখান ঘুরে আসা যায় ইদ্রাকপুর কেল্লায়।

হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ
মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রামপাল গ্রামের নিকটস্থ কাজী কসবা গ্রামে সুলতানী আমলের ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ অবস্থিত। এর কয়েক গজ পূর্বে একটি মাজার আছে। মাজারটি ইটের তৈরী ২৫ (পঁচিশ) ফুট বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার আয়তনের মঞ্চের উপর একটি পাকা সমাধি বিশেষ। আর মসজিদটি আয়তাকার ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এর আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪৩ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩৬ ফুট এবং চার কোণায় রয়েছে চারটি অষ্ট কোণাকৃতির বুরুজ বা মিনার। মনোরম বলয়াকারের স্ফীত রেখায় মিনারের ধাপে ধাপে অলংকরণের কাজ আছে।
পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার অবতল মেহরাব। কেন্দ্রীয় মেহরাবের পেছন দিকের দেয়াল বাইরের দিকে উদগত। সামনের দেয়ালের ধনুকাকৃতির খিলানবিশিষ্ট তিনটি প্রবেশপথে আয়তাকারে নির্মিত যে সব ফ্রেম আছে তার শীর্ষ দেশে অতি সুন্দর কারুকাজ আছে। প্রধান প্রবেশ পথের দুই পাশে গভীর সমতল কুলুঙ্গী রয়েছে এবং উপরিভাগ সুন্দরভাবে খাঁজকাটা। আর তাছাড়া রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ও ঘন্টার অলংকরণ কিন্তু মসজিদে কোন বারান্দা নেই। অভ্যন্তর ভাগে গ্রানাইট পাথরের নির্মিত দুইটি স্তম্ভ আছে। এই দুইটি স্তম্ভের সাহায্যে অভ্যন্তর ভাগ পূর্ব পশ্চিমে দুই সারিতে এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। আর এই স্তম্ভ দুইটি মাঝ থেকে চার ফুট পর্যন্ত অষ্টকোণাকৃতির এবং এর পর ষোলকোণাকৃতির। এই দুইটি স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের উপর মসজিদের অর্ধবৃত্তাকার ছোট ছোট গম্বুজ ছয়টি স্থাপিত। গম্বুজ ও মসজিদের অভ্যন্তর-ভাগের মতোই পূর্ব-পশ্চিমে দুই এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত এবং এর দেয়াল অতিশয় পুরু। প্রধান মেহরাবটি এবং দুই পাশের দুই মেহরাব ও পাশের দেয়াল লতাপাতা, জ্যামিতিক নক্সা ও ও গোলাপফুল, ঝুলন্ত প্রদীপ ও শিকল প্রভৃতি পোড়ামাটির চিত্র ফলক দিয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে অলংকৃত। একটা সময়ে মসজিদের বাইরের দিক বিশেষ করে সামনের দেয়াল অতি সুন্দর পোড়ামাটির চিত্রফলক দিয়ে অলংকৃত ছিল। কিছু কিছু চিত্রফলকের কাজ কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের দুইপাশে এখনও চোখে পড়ে।
কথিত আছে এক সময়ে মানত হাসিলের জন্য হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মহিলাদের দ্বারা এই মসজিদের স্তম্ভ দুইটি সিন্দুরানুলিপ্ত হয়ে রক্তবর্ণ ধারণ করেছিল। এই মসজিদটি মূলত দরগাবাড়ীর মসজিদ বা বাবা আদমের মসজিদ এবং মাজারটি বাবা আদমের দরগা নামে পরিচিত।
বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ কিভাবে যাবেন- সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরুত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। তবে এই মাজারে আসার জন্য আরো ০৫ (প্রায়) কিলোমিটার ভিতরে আসতে হবে। ঢাকা হতে সকালে এসে জিয়ারত ও মসজিদ দর্শন করে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসা যাবে। সড়কপথে যেতে কষ্ট হবে না। তবে নৌপথে গেলে সময়ও বাচঁবে এবং যানজট এড়িয়ে নদী পথের সৌন্দর্য অবগাহন করে স্বাচ্ছন্দের সাথে পৌছানো যাবে। সদর ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জ গামী লঞ্চে ২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাওয়া যাবে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা হইতে রিক্সায় দরগাবাড়ি হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মাজার সংলঘ্ন মসজিদ এ যাওয়া যায়। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা।
শিমুলিয়া ফেরিঘাট ও পদ্মা সেতু
যুগ যুগ ধরেই শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ইলিশের চাহিদা সর্বত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ খেতে আসেন ভোজন রসিকরা। এই বিশাল চাহিদা পূরণে শিমুলিয়া ঘাটের পাড়ে গড়ে ওঠেছে ছোট-বড় হোটেল। এছাড়া শিমুুলিয়া ঘাটে পদ্মা সেতু দেখতে দেখতে সময় কাটাতে পারেন খানিকটা। সেখানকার পরিবেশটাও বেশ মনোরম।

ঢাকার খুব কাছে হওয়ার কারনে একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন শিমুলিয়া ঘাট থেকে আর দুপুরে ঘাটে বসে ধোয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে পদ্মার ভাজা ইলিশ দিয়ে ভুড়ি ভোজ করুন। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত নদীতে থাকবে সূর্যের রূপালী ঝিলিক। মৃদু বাতাসে নদীর জলে ছোট ছোট রূপালী ঢেউ ঝলকে দেয় চোখ। আর অপরুপ, নান্দনিক পদ্মা সেতু আপনাকে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে। নদীতে ঘোড়ার জন্য ঘাটেই ট্রলার পেয়ে যাবেন। তাছাড়া হাউজবোটে করে সারাদিন প্যাকজে ঘুরতেও পারবেন। তবে এজন্য আগেই বুকিং দিতে হবে।
শিমুলিয়া ঘাট কিভাবে যাবেন- সকালে গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বাস এ পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে চলে যাবেন। সেখান থেকে মিশুক বা সিএনজি নিয়ে যেতে পারবেন শিমুলিয়া ঘাটে।
মাওয়া রিসোর্ট
ঢাকার পাশে একদিনে একটু নিরিবিলি, প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে চাইছেন? আপনার ঘুরে আসার জন্য সেরা একটি জায়গা হতে পারে ঢাকার গুলিস্থান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার পরেই বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জের মাওয়া রিসোর্ট। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাটের রাস্তা হয়ে কান্দিপাড়া এলাকায় ২৩ বিঘা জমির উপর নির্মিত এই রিসোর্টটি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন এখানে প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে। পুরো রিসোর্ট নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন:

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শহর থেকে কাছাকাছি গ্রামীণ পরিবেশে পুরো একটি দিন কাটিয়ে দেয়ার মত যথাযথ জায়গা এটি। রিসোর্টে ঢুকতেই চোখে পরবে বিশালাকৃতির এই দিঘী। দিঘীর ঘাটলাগুলোও বেশ নান্দনিক-বাহারি রঙের ফুলে বেষ্টিত। দিঘীর চারপাশ মনোরম নারিকেল আর সুপারি গাছে ঘেরা। চাইলে বোট নিয়ে এই দিঘীতে আলাদা সময় কাটাতে পারবেন। মাওয়া রিসোর্টের প্রাকৃতিক পরিবেশ মোহিত করে তুলবে আপনাকে। দিঘীর আরেকপাশে পর্যটকদের জন্য রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সুইমিং পুল। পরিবারের সাথে আগত শিশু দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নানারকম রাইড। রিসোর্টটিতে দিন বা রাতযাপনের জন্য রয়েছে ৫ ক্যাটেগরির এসি ও নন এসি কটেজ। কটেজগুলোও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেড়া।

পর্যটকদের খাবারের জন্য রিসোর্টের ভেতরেই রয়েছে বাংলা ও চাইনিজ খাবারের ইষ্ট ওয়েষ্ট রেষ্টুরেন্ট। এছাড়া দর্শনার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বারবিকিউ করে থাকেন তারা। পাওয়া যাবে ফ্রেশ জুস ও ডেজার্ট আইটেম। এছাড়া কটেজের পাশে রয়েছে আলাদা একটি ফুড কোর্ট। দিনব্যাপী বনভোজন বা নানা অনুষ্ঠানের জন্যও রিসোর্টটি বেছে নিতে পারেন। রিসোর্টের ভেতরে একসাথে ৩ টি বড় আয়োজনের অনুষ্ঠান করা যায়। রয়েছে কনফারেন্স রুমও।
মাওয়া রিসোর্ট কিভাবে যায়?
ঢাকা থেকে যারা আসতে চান তারা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে মাওয়া চৌরাস্তায় আসবেন। এরপর মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাটের পথ ধরে কান্দিপাড়া গ্রামে অবস্থিত এই রিসোর্টটিতে আসতে পারবেন। দর্শনার্থীদের জন্য এন্ট্রি ফি রাখা হয়েছে প্রতিজন ১০০ টাকা। তবে ১০ বছরের নিচের শিশুদের জন্য এন্ট্রি একদমই ফ্রি।
পন্ডীতের ভিটা
অতীশ দীপঙ্কর ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। অতীশ দীপঙ্কর গৌড়ীয় রাজ পরিবারে রাজা কল্যাণশ্রী ও প্রভাবতীর মধ্যম সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ছোটবেলায় তাঁর নাম ছিল আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ। তিন ভাইয়ের মধ্যে অতীশ ছিলেন দ্বিতীয়। তার অপর দুই ভাইয়ের নাম ছিল পদ্মগর্ভ ও শ্রীগর্ভ। অতীশ খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেন। কথিত আছে তার পাঁচ স্ত্রীর গর্ভে মোট ৯টি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।তবে পুন্যশ্রী নামে একটি পুত্রের নামই শুধু জানা যায়।
প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন মায়ের কাছে। তিন বছর বয়সে সংস্কৃত ভাষায় পড়তে শেখা ও ১০ বছর নাগাদ বৌদ্ধ ও অবৌদ্ধ শাস্ত্রের পার্থক্য বুঝতে পারার বিরল প্রতিভা প্রদর্শন করেন তিনি। মহাবৈয়াকরণ বৌদ্ধ পণ্ডিত জেত্রির পরামর্শ অণুযায়ী তিনি নালন্দায় শাস্ত্র শিক্ষা করতে যান।
১২ বছর বয়সে নালন্দায় আচার্য বোধিভদ্র তাঁকে শ্রমণ রূপে দীক্ষা দেন এবং তখন থেকে তাঁর নাম হয় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বোধিভদ্রের গুরুদেব অবধূতিপাদের নিকট সর্ব শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ১৮ থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিক্রমশীলা বিহারের উত্তর দ্বারের দ্বারপন্ডিত নাঙপাদের নিকট তন্ত্র শিক্ষা করেন। এরপর মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহা সাংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের কাছে উপসম্পদা দীক্ষা গ্রহণ করেন।ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্য তিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গমন করেন এবং সেখানে প্রখ্যাত পণ্ডিত রাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ শাস্ত্রের আধ্যাত্নিক গুহ্যাবিদ্যায় শিক্ষা গ্রহণ করে ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন।
দীপঙ্কর ১০১১ খ্রিস্টাব্দে শতাধিক শিষ্যসহ মালয়দেশের সুবর্ণদ্বীপে (বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ) গমন করেন এবং আচার্য ধর্মপালের কাছে দীর্ঘ ১২ বছর বৌদ্ধ দর্শনশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ের উপর অধ্যয়ন করে স্বদেশে ফিরে আসার পর তিনি বিক্রমশীলা বিহারে অধ্যাপনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান কিভাবে যাবেন- ঢাকার গুলিস্তান থেকে “দিঘীরপাড় ট্রান্সপোর্ট” এর মাধ্যমে মুক্তারপুর আসা যায়। মুক্তারপুর থেকে অটো রিক্সায় ৫০টাকা (জন প্রতি) বা রিক্সা যোগে ৩০-৪০ টাকায় বজ্রযোগিনী গ্রামে অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান যাওয়া যায়। আড়িয়াল বিল
বর্ষায় পানিতে টই টই, শীতে শুকিয়ে বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। আর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেতে হবে মুন্সিগঞ্জ এর আড়িয়াল বিলে। আড়িয়াল বিল ঢাকার দক্ষিণে পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি অবভূমি। নানা রকম শীতের সবজি চাষ হয় আড়িয়াল বিলে। তবে এ বিলের বিশেষ আকর্ষণ বিশাল আকৃতির মিষ্টি কুমড়া। পুরো আড়িয়াল বিল জুড়ে শীতে চাষ হয় মিষ্টি কুমড়া। শীত শেষে পাকলে মাঠ থেকে তোলা হয়। এছাড়া শুকনা আড়িয়াল বিলে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় নানান জাতের ছোট বড় পাখি। ঢাকার আশে পাশে হওয়ার কারনে খুব সকালে গিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকা ফিরে আসা যায়।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর বাজার থেকে একটি সড়ক এঁকেবেঁকে সোজা চলে গেছে আড়িয়াল বিলের দিকে। এ পথে শ্যামসিদ্ধি গ্রাম পেড়িয়ে আরও সামনে গেলে গাদিঘাট। এ পর্যন্ত পিচঢালা পথ। সেখান থেকে কালভার্ট পেরিয়ে আরও সামনে কিছু দূর গেলে সড়কের শেষ। আড়িয়াল বিলের শুরু মূলত গাদিঘাট থেকেই। সেখান থেকে সর্পিল আঁকাবাঁকা একটি খাল চলে গেছে বিলের ভেতরে। শীতে সে খালের পানি শুকিয়ে তলায় ঠেকে। দূর বিল থেকে নৌকা বোঝাই মিষ্টি কুমড়া নিয়ে আসেন গুন টেনে। গুন টানা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক আগে দেখা যেত। ইঞ্জিনের সহজলভ্যতার কারণে তা হারিয়ে গেলেও এখনো আড়িয়াল বিলে শীতে দেখা যায়।শীতের শেষের আড়িয়াল বিলে কৃষকদের মূল ব্যস্ততা থাকে মিষ্টি কুমড়া নিয়ে। আড়িয়ার বিলের কোনো কোনো মিষ্টি কুমড়া দুই মনেরও বেশি ওজনের হয়ে থাকে। শীতের শেষে আড়িয়াল বিলে আরও চোখে পড়বে মাছ ধরার দৃশ্য। বিলের মধ্যে খাল ছাড়াও আছে কিছু জলাশয়। এসব জলাশয়ে পানি কমে যাওয়ায় মাছ ধরেন স্থানীয়রা। পানি সেচে মাছ কুড়ানোও দেখা যাবে।
আড়িয়াল বিল (Arial Beel) থেকে ফেরার পথে দেখে নিতে পারেন শ্যামসিদ্ধির মঠ। শ্রীনগর বাজারের পশ্চিম দিকে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন এ মঠের দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথের ওপরে বাংলা শিলালিপি অনুযায়ী ১৮৩৬ সালে বিক্রমপুরের জনৈক ধনাঢ্য ব্যক্তি শম্ভুনাথ মজুমদার এটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে সম্ভুনাথ স্বপ্নে তার স্বর্গীয় পিতার চিতার উপরে মঠ নির্মাণের নির্দেশ পেয়ে মঠটি নির্মাণ করেন। প্রায় ২৪১ ফুট উঁচু এ মঠ দিল্লির কুতুব মিনারের চেয়েও পাঁচ ফুট উঁচু। তাই বলা যেতে পারে এটা ভারত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ। অষ্টভুজ আকৃতির এ মঠ দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ২১ ফুট। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি মঠের দেয়াল বেশ পুরু। মঠের উপরের দিকে বাইরের দেয়াল জুড়ে আছে শত শত খোড়ল। এগুলোতে বাসা বেধেছে শত শত সবুজ টিয়া, ঝুটি শালিক। তাই মঠটি সবসময়ই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে।
আড়িয়াল বিল কিভাবে যাবেন- ঢাকা থেকে আড়িয়াল বিলে এক দিনেই ঘুরে আসা যায়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়াগামী যে কোনো বাসে চড়ে নামতে হবে শ্রীনগরের ভেজবাজার। ভাড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা। এ পথের ভালো বাস ‘ইলিশ’ পরিবহন ও বিআরটিসি। সেখান থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে সোজা যেতে হবে গাদিঘাট। ভাড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। সেখান থেকে ভালো একটা ট্রলার দেড় হাজার টাকায় সারা দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে ঘুরে আসুন আড়িয়াল বিল। আড়িয়াল বিলে বেড়িয়ে আবার গাদিঘাটে এসে ফেরার রিকশা পাবেন। মানা বে প্রিমিয়াম ওয়াটার পার্ক
৫০ একর জমির উপর নির্মিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মানের প্রিমিয়াম ওয়াটার পার্ক মানা বে।এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম এই পার্ক নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় দশ বছর। ঢাকার গুলিস্তান থেকে এই মানা বে ওয়াটার পার্কের দূরত্ব মাত্র ৩৯ কিলোমিটার। সড়কপথে আসতে এক ঘন্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়।

অনন্য স্থাপত্য, নকশা, সঙ্গীত, নৃত্য ও শিল্প দর্শকদেরকে দ্বীপ অঞ্চল পলিনেশিয়ার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিতে মোহিত করবে। যা দেবে সমুদ্র বিলাসের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পার্কটিতে রয়েছে স্পা, ব্লিসফুল বে অ্যান্ড এক্টিভিটি পুল, হাইড্রো গ্রুভ ওয়েট ডিস্কো, একাধিক রেস্তোরা ও ফুড ট্রাক।

এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম এই ওয়াটার পার্কটিতে এই মুহুর্তে ১৭ টি রাইড রয়েছে। যা উপভোগ করতে প্রতিজনকে গুনতে হবে ৬ হাজার টাকা। এর বাইরে পার্কের নিজস্ব রেষ্টুরেন্ট বা ক্যাফে থেকে খাবার নিতে হবে নিজেদের টাকায়। ৩ ফিটের নিচে শিশুদের জন্য পার্কটিতে বিনামুল্যে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ৪ ফুটের নিচে হলে গুনতে হবে অর্ধেক অর্থাৎ ৩ হাজার টাকা। এক টিকেটে সকাল দশটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্কটিতে সময় কাটানো যাবে।

ওয়াটার রাইডের পর জামাকাপড় পরিবর্তন বা খানিক বিশ্রামের জন্য নিরিবিলি বসতে চাইলে তাবু দিয়ে বানানো স্ট্যান্ডার্ড কাবানা নামের অস্থায়ী কটেজ। গুনতে হবে ১২ হাজার টাকা। আর টয়লেটসহ ভিআইপি কাবানার জন্য গুনতে হবে ১৫ হাজার। এই মুহুর্তে পার্কটিতে রাতে থাকার সুযোগ নেই। তবে খুব শীঘ্রই কটেজ চালু করা হতে পারে। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়াতে অবস্থিত মানা বে পার্কটিতে রয়েছে একসাথে ৯ শতাধিক গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা।

একসাথে একইসময়ে ৩৫০০ দর্শনার্থী পার্কটিতে সময় কাটাতে পারবে। গেষ্টদের জন্য রাখা হয়েছে ৮০৪টি লকার। খাবারের জন্য রয়েছে ১০টি রেষ্টুরেন্ট ও ৪টি ফুড ট্রাক। রয়েছে ১৮টি কাবান এর মধ্যে ৫টি প্রিমিয়াম। নারীদের জন্য রয়েছে প্রাইভেট স্পা।

এসিএস টেক্সটাইলের মালিকানায় ব্রিটিশ বিনিয়োগে নির্মিত হয়েছে মানা বেই প্রিমিয়াম ওয়াটার পার্ক। বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে রাইড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হোয়াইট ওয়াটার।

পার্কটিতে রয়েছে, ওয়াটার স্লাইড ট্যুর, ওয়েভ পুল ও ফ্লোরাইডার ডাবল। এর পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ছোট স্লাইড, স্প্ল্যাশ প্যাড ও রেইন ফোট্রেস ফাইভ জোন। পার্কটির সৌন্দর্য্য বাড়াতে বানানো হয়েছে কৃত্রিম নদী। ঢাকার পাশে একদিনে ঘুরে আসুন বিক্রমপুরের মৃধা বাড়ি ঢাকার আশপাশের পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান এই মৃধা বাড়ি। চাইলে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে করেও এখানে ঘুরে যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে যারা পদ্মা সেতু বা এর আশপাশের এলাকা ঘুরতে আসেন তাদের জন্য পছন্দসই একটি জায়গা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের টিন ও কাঠের কারুকার্যখচিত মৃধা বাড়ি। বাড়িসহ আশপাশের সৌন্দর্য্যবর্ধন ও অবকাঠামো নির্মাণে ৩ কোটি টাকা টাকা খরচ করে বাড়িটি তৈরি করেছেন বেঁজগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক ইকবাল। পদ্মানদীর পাড়ে অসাধারণ গ্রাম্য পরিবেশে বিক্রমপুরের কাঠ ও টিনের ঘরের ঐতিহ্য বহন করছে এই মৃধা বাড়ি। টিন এবং কাঠের তৈরী বাড়িটিতে ঘরের ভেতর সিঁড়ি দেয়া অবস্থায় তিনটি তলা রয়েছে। প্রবেশ মুখে আছে সুদূর জাপান থেকে আনা ফুলের টব এবং সরু বারান্দাগুলো সাজানো হয়েছে ছোটো ছোটো ঝুলন্ত টব দিয়ে।










