১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | ভোর ৫:০৩
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
চৈত্রের রোদে পুড়ে দীর্ঘ অপেক্ষা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১ এপ্রিল, ২০২২, সাজ্জাদ হোসেন (আমার বিক্রমপুর)

গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিন মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ভোর ৬ টার পর থেকেই দূর দুরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। এরপর হাসপাতালের সীমানা ছাড়িয়ে সড়ক পর্যন্ত চলে যায় মানুষের লাইন।

চৈত্রের রোদে পুড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকতে হয়েছে দাঁড়িয়ে। গাদাগাদি করে গায়ে গা ঘেঁষেই অপেক্ষা করতে হয়েছে টিকার জন্য। বসার কোন জায়গা না থাকায় তপ্ত রোদ এড়াতে সর্বশেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে অনেকের। পরিবারের কাজ ফেলে রেখে টিকা দিতে আসা নারীদের ভোগান্তিও লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়েছেন লাইনে।

প্রায় ৫ ঘন্টা অপেক্ষার পরও টিকা দিতে না পেরে রাগ করে বাড়ি ফিরেছেন। কেউ কেউ আবার ৭ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা দিতে পেরেও বিরক্তির ছাপ মুখে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বেশিরভাগ মানুষের মুখে ছিলনা মাস্ক। তীব্র রোদে ঘাম ঝড়ানোর পরও শুনতে হয়েছে টিকা শেষ।

গতকাল মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রের ৪টি বুথ থেকে টিকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৮৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষদের সংখ্যাই ছিল বেশি। টিকা গ্রহীতারা জানান, ৪টি বুথের মাধ্যমে টিকা দেওয়ার কারনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। টিকা কেন্দ্রের বাহিরে মানুষের জটলা সারাদিনই থাকবে। বুথ সংখ্যা বৃদ্ধি না করা হলে মানুষের ভোগান্তির শেষ হবে না। সাধারণ মানুষকে অনেক কষ্ট করেই টিকা দিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনা এর জন্য দায়ী।

জমিদারপাড়া এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মাহিন হোসেন জানান, প্রায় ৫ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বাবা-মা ও বোন টিকা দিয়েছে। টিকা কেন্দ্রের ভিতরে-বাহিরে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। বেশিরভাগ মাস্ক পড়েনি। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকে বিরক্ত হয়ে বাড়ি চলেও গিয়েছিল। তীব্র রোদের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়েছিল। রিকাবীবাজার এলাকার সেলিম হোসেন জানান, সকাল ১০ টায় এসে দেখি শতাধিক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে লাইনে অপেক্ষা করছিলাম। বেলা সাড়ে ১২ টায় শুনি টিকা শেষ হয়ে গেছে। তারপর দুপুর ২টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপর বাসায় চলে আসি।

জেলা ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান, টিকাকেন্দ্রে গিয়ে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তাছাড়া সেখানে গিয়ে মানুষ ঠিকমত কোন তথ্যও পাচ্ছে না। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপারে অভিযোগের শেষ নেই। টিকা নিতে আসা মানুষদের ভোগান্তি কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগের এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

টিকা কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী নাহিদ হোসেন জানান, গত ৩ দিন যাবত গণটিকা কার্যক্রমের জন্য বন্ধ ছিল বুস্টার ও দ্বিতীয় ডোজ। যার জন্য গতকাল অনেক মানুষের চাপ ছিল। বেলা সাড়ে ১২ টায় বুস্টার ডোজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর সিভিল সার্জন অফিস থেকে আনা হয়। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ডোজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। সিনোফার্ম ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা এ দুইটি টিকাই দেওয়া হয়। তখন প্রায় ৩০-৪০ মিনিট যাবত ৪টি বুথে বন্ধ ছিল অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা। তখন শুধু সিনোফার্ম দেওয়া হয়েছে। এসময় লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। আগামী শনিবারও ভিড় থাকতে পারে।

টিকা কেন্দ্রের মেডিক্যাল টেকনোলোজিস্ট সাদেক হোসেন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এক হাজার ৮৮৭ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয় তিনশো জনকে। আর এক হাজার ৫৮৭ জনকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজ। টিকা কেন্দ্রে জনবল নিয়ে কোন সমস্যা নেই। চারজন স্বাস্থ্যকর্মী টিকা পুশ করেন। আর ৮-১০ জন রেডক্রিসেন্ট সদস্য দায়িত্ব পালন করে থাকে।

মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন মোঃ মঞ্জুরুল আলম জানান, গণটিকা কার্যক্রমে ভিড় থাকবেই। জনবল সংকট নেই বলে দাবি করেন তিনি।

error: দুঃখিত!