১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | রাত ৩:১২
কাগজে উদ্বোধন, বাস্তবে তালাবদ্ধ টংগিবাড়ীর চরবেহেরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক
খবরটি শেয়ার করুন:
58

মুন্সিগঞ্জ, ১ মার্চ ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে সরকার। সরকারি তথ্য বলছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। তবে সেই সেবার বাইরে রয়ে গেছেন মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের চরবেহেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।

উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকটি এখনো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

জানা যায়, চরবেহেরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২০ সালে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ক্লিনিক ভবনের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। কক্ষগুলোর ভেতরে ধুলাবালু জমে আছে, দেয়ালে মাকড়শার জাল। বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুরুতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বর্তমানে তা বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটি ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্লিনিকটি চালু হলে চরবেহেরপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা পেতেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে সামান্য চিকিৎসার জন্যও তাদের দূরের হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উদ্বোধনের পর থেকে জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ কিংবা নিয়মিত কার্যক্রম শুরুর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।

এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মালেক বলেন, সরকারি ভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য এখনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক চালুর ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে তেমন কিছু করার সুযোগ নেই।

চরবেহেরপাড়ার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে ক্লিনিকটি চালু করবে। এতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ স্বল্প খরচে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত হবে।