১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | সকাল ১১:০২
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
এমপি হওয়ার পর নগদ টাকা বেড়েছে মাহির, কমেছে ব্যবসা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সিগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মাহি বদরুদ্দোজা চৌধুরী পেশা হিসেবে ৪ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাহি যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমপি হওয়ার আগে যুক্ত ছিলেন তার মধ্যে একটি বন্ধ হয়ে গেছে ও আরেকটির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে মাহির কাছে নগদ টাকা ছিলো ২৫ লাখ। ২০২৩ সালে তার কাছে রয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

২০১৮ সালে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার আগে মাহি এন্টারটেইনমেন্ট রিপাবলিকের প্রোপাইটার, ইনফো লিঙ্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অ্যাভালন এস্টেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন।

তবে এবার মাহি তার হলফনামায় অ্যাভালন এস্টেট লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ১১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। আর কে.সি মেমোরিয়াল ক্লিনিক লিমিটেডের ডিরেক্টর উল্লেখ করলেও সেটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।

২০১৮ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে ব্যবসা থেকে মাহির বাৎসরিক আয় ২৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ টাকা বলা হলেও তার স্ত্রীর কোন আয় ছিলো না। কিন্তু ২০২৩ সালে ব্যবসা থেকে মাহির আয় ২০ লাখ টাকা কমে ৩ লাখ ৯০ হাজারে নেমে এলেও ইনফোলিঙ্ক লিমিটেড নামক যে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহি সেটির ডায়রেক্টর হিসেবে মাহির স্ত্রী রেমুনেশন বাবদ বছরে পাচ্ছেন ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

২০১৮ সালে মাহির কোন শেয়ার/সঞ্চয় বা আমানত ছিলো না। কিন্তু ২০২৩ সালে মাহির শেয়ার/সঞ্চয় বা আমানত রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ও স্ত্রীর রয়েছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন সম্মানি ও ভাতা বাবদ মাহির বাৎসরিক আয় ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা ও ব্যাংক থেকে মাহি বছরে আট হাজার ও তার স্ত্রী দশ হাজার টাকা সুদ পেয়ে থাকেন।

২০১৮ সালে মাহির ব্যাংকে ছিলো ১কোটি ৪০ লাখ ও স্ত্রীর ৩৫ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে মাহির ব্যাংকে রয়েছে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৪ ও স্ত্রীর ১৬ লাখ ২ হাজার ৩৭৬ টাকা। ২০১৮ সালে অ্যাভালন এস্টেট লিমিটেডের নামে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের জমি কেনা ছিলো মাহির। তবে ২০২৩ সালের হলফনামায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেচারদ্বীপে ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭৭০ টাকা মূল্যের জমি ছাড়া আর কোন জমির তথ্য উল্লেখ করেননি মাহি।

এছাড়া ২০১৮ সালের হলফনামায় মাহির নামে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের নিসান পেট্টোল মডেলের একটি গাড়ি ও স্ত্রীর ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের টয়োটা সেলিকা জিটি ৮৬ মডেলের গাড়ি রয়েছে বলে ঘোষণা দেয়া হলেও ২০২৩ সালের হলফনামায় স্ত্রীর মালিকানার গাড়ির বিষয়ে তথ্য নেই।

এছাড়াও অ্যাভালন লিমিটেডের শেয়ার বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা আয় করেছেন মাহি আর স্ত্রীর রয়েছে আরও ১১ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৭ টাকা।

উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন: ২০১৮-২০২৩

সিরাজদিখানে মুদ্রণ ও প্লাষ্টিক শিল্পনগরী নির্মাণে সহযোগিতা, কামারগাঁও এলাকায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ইনস্টিটিউট অব হেলথ্ টেকনোলজি- আইএইচটি নির্মাণ, ষোলঘরে ২ কোটি টাকা ব্যায়ে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ, মডেল মসজিদ নির্মাণ, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণ। শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন।

error: দুঃখিত!