১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | দুপুর ২:১৫
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
ইউপি চেয়ারম্যান হ.ত্যা: গ্রেপ্তার হয়নি পুলিশের সামনে গু.লি করে পালানো নুর মোহাম্মদ
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৯ জুলাই ২০২৪, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ীতে পুলিশের উপস্থিতিতে পাচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন হাওলাদারকে গুলি করে পালানো নুর মোহাম্মদকে ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও নুর মোহাম্মদ এখনো অধরা। তিনি কি আসলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আছেন না বিদেশে পালিয়ে গেছেন তা নিয়েও কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। কিভাবে পুলিশের সামনে থেকে গুলি করে অপরাধী পালিয়ে গেল সে প্রশ্ন উঠেছে উপজেলার শীর্ষ জনপ্রতিনিধিসহ স্বজন-এলাকাবাসীর মাঝে।

গতকাল সোমবার বাদ যোহর পাঁচগাও আলহাজ্ব ওয়াহেদ আলী দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ইউএনও, ওসি, চেয়ারম্যানসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে সুমন হাওলাদারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে গুলি করে অপরাধী পালিয়ে যায় সে প্রশ্ন উঠে।

পরে সেখানে উপস্থিত টংগিবাড়ী থানার ওসি মোল্লা সোহেব আলী বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘যেহেতু আমি প্রতিনিধিত্ব করি ব্যর্থতা আসলে আমারই। আমি এটি স্বীকার করি। তবে, আপনাদের সবাইকে কথা দিয়ে যাচ্ছি বাংলার বুকে ও যেখানেই থাকুক না কেন- ইতিমধ্যে আরও একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওর পরিবারসহ ওর শাখা-প্রশাখা যেখানে রয়েছে, আমরা দেখিয়ে দিতে চাচ্ছি- যে এসমস্ত কাজ করে কেউ যাতে পার পেতে না পারে। আপনারা প্রত্যেকে যদি আমাকে সহযোগিতা করেন ও বাংলাদেশ পার হয়ে যেতে পারবে না। আর বাংলাদেশ যদি পার না হয় ও যেখানে থাকুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সক্ষমতা আমার রয়েছে বলে আমি মনে করি। আপনারা ধৈর্য্য হারাবেন না, আমার প্রতি আস্থা রাখেন।’

গতকাল সোমবার রাতে টংগিবাড়ী থানায় হত্যার ঘটনায় ৭ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই পুলিশ সদস্য এইচ এম ইমন হাওলাদার।

জানা গেছে, এ ঘটনায় আটক ৩ জনসহ প্রধান অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ হাওলাদার ও ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান মিলেনুর রহমান মিলেনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, পাঁচগাও এলাকার কাওসার হাওলাদার (৪৭), শেখ নুর হাওলাদার (৫৫) ও নুর হোসেন (৫০)। মূল অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ হাওলাদার পলাতক রয়েছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচগাও আলহাজ্ব ওয়াহেদ আলী দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হাওলাদারকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে ২ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান তিনি। পরে সুমনের মরদেহ টংগিবাড়ী থানায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা পর বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় হৃদস্পন্দনের অস্তিত্ব রয়েছে এমনটা দাবি উঠলে পুলিশ তৎক্ষণাৎ মরদেহটি মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহত সুমন পাঁচগাও গ্রামের পিয়ার হোসেন হাওলাদারের পুত্র। ২০২৩ সালের মার্চে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সুমন ৩ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তানের জনক।

সোমবার বাদ যোহর পাঁচগাও আলহাজ্ব ওয়াহেদ আলী দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ইউএনও, ওসি, চেয়ারম্যানসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে জানাজা শেষে সুমন হাওলাদারের মরদেহ সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

টংগিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান করছে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশা করছি দ্রুত তিনি গ্রেপ্তার হবেন। এছাড়া যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সেই ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।’

error: দুঃখিত!