আর কত ভোগান্তি: যে সেতু নিয়ে প্রশ্ন মুন্সিগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে, মোল্লাবাজার সেতুর জন্য সম্মিলিত মানববন্ধন
128

মুন্সিগঞ্জ, ১০ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

দীর্ঘ ৯ বছরেও শেষ হয়নি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সাথে ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ সীমান্তবর্তী মোল্লাবাজার সেতুর কাজ। অথচ এটি নির্মিত হলে ঢাকায় যাতায়াতে মুন্সিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমতো। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

আজ শুক্রবার সকাল দশটার দিকে খাসমহল বালুচর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার সামনে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি হয়। পরে ‘সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহ’ ব্যানারে মিছিল আকারে  কর্মসূচিতে অংশ নেয়া স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দুই-তিন শতাধিক মানুষ মোল্লাবাজার এলাকায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।

মানববন্ধনকারীরা জানান, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সীমানাঘেষা ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ উপজেলার তেঘরিয়া-মোল্লাবাজার সেতু। সেতুটির উত্তর পাড়ে কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ থানার মোল্লারহাট। অপর পাড়ে কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের সামান্য অংশ। এরপর থেকেই শুরু মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানের বালুচর ইউনিয়নের চরসাংহারদি (চসিমদ্দিন চর)।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুন মাসে। প্রকল্প অনুযায়ী সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৫২ মিটার ও প্রস্থ ১০ মিটার। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও তা সম্ভব হয়নি।

তারা বলেন, সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই পথে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে করে দিন-রাত পারাপার হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌযানটি জরাজীর্ণ হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের সুযোগ নেই।

সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে মাত্র ৩০ মিনিটে নির্বিঘ্নে ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে। অথচ বিকল্প সড়ক পথে রাজধানীতে যেতে বর্তমানে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম—সব দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই পাওয়া যাচ্ছে, বাস্তবে সেতুর সুফল মিলছে না। দ্রুত কাজ শেষ করে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তারা।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানিয়েছিলেন, এপ্রিল মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে স্প্যান ও ভায়াডাক্টের কাজ এখনো বাকি। ফলে এই কাজ আসলে কবে শেষ হবে তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ