লন্ডনে খালেদা জিয়ার সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল
112

আগামী সপ্তাহে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। যদিও এর তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবু এই মর্মে আভাস দেয়া হচ্ছে যে, আগামী ২৭ অক্টোবর অথবা ২৮ অক্টোবর এ সমাবেশ হতে পারে। এই সমাবেশকে ঘিরে ইতিমধ্যে লন্ডন ছাড়াও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে বেশ কৌতুহল দেখা দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনের এই সমাবেশে দেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এতে দিক-নির্দেশনামুলক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও থাকতে পারে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ওই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘদিন পর মা ও ছেলে এক সঙ্গে কোন সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির ব্যানারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, লন্ডনের এই সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপি যথাসম্ভব গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাইছে। তার কারণ হলো আওয়ামী লীগের দিক থেকে সভা ভন্ডুলের চেষ্টার আশঙ্কা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শেষ দুটো লন্ডন সফরে যেমন বিএনপি তার হোটেলের সামনে বা এয়ারপোর্টে লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। আওয়ামী লীগ তার বদলা নিতে চাইবে এই আশঙ্কা আছে ষোলো আনাই। আর ঠিক সে কারণেই তারা সভাস্থল এখন অবধি ঘোষণা করতে চাইছেন না যাতে আওয়ামী লীগ লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিক্ষোভের আগাম অনুমতি পর্যন্ত না নিতে পারে।

বিএনপির একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন, সভাটি হবে সেন্ট্রাল লন্ডনের কোনো সভাগৃহে। লন্ডনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সব সভাই হয়ে থাকে পূর্ব লন্ডনে। যদিও ওই অঞ্চলটি প্রধানত জামায়াতে ইসলামী অধ্যুষিত বলেই পরিচিত। ইস্ট লন্ডন মসজিদ অর্থাৎ লন্ডন মুসলিম সেন্টারকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে জামায়াত সমর্থকদের কর্মকাণ্ড যেমন বিশাল, প্রভাবও তেমনি সমীহ করার মতো।

কিন্তু বিএনপি নেত্রী তার এবারের লন্ডন সফরে জামায়াতের কাছ থেকে রীতিমতো দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন, তাই যুক্তরাজ্য বিএনপিও চাইছে না লন্ডনে জামায়াতের নাকের ডগায়, তাদের খাস তালুকেই খালেদা জিয়া কোনো জনসভায় ভাষণ দিন। তাছাড়া পূর্ব লন্ডনে আওয়ামী লীগের পক্ষেও তাদের সমর্থকদের জড়ো করা তুলনামূলক সহজ, সে কারণেই জনসভাটি সেন্ট্রাল লন্ডনে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। আর তাতে সায় দিয়েছেন তারেক রহমানও।

যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রতিটি দেশের বিএনপির নেতৃবৃন্দকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। দক্ষিণ লন্ডনের একটি পার্কে তাবু টানিয়ে এ সমাবেশ করা হবে। এটি আমাদের দলের একটি বিশ্ব সমাবেশ। আমরা আশা করছি, তিন হাজার আমন্ত্রিত নেতৃবৃন্দ এ সমাবেশে যোগ দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ২৭ অক্টোবরের জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। যদি ওইদিন সম্ভব না হয়, ২৮ অক্টোবর সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশের পরে বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফেরার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে আছেন এক মাসের বেশি সময় ধরে। চোখের চিকিৎসা আর ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা করাই তার সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে দলের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বার বার বলা হয়েছে। তারপরও শুরু থেকেই তার এই বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক সচেতন মহলে নানা কৌতুহল ছিলো। শুরু থেকেই অনেকেই একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফর হিসেবে আখ্যা দিচ্ছিলেন। এমনকি সেখানে বিদেশিদের মধ্যস্থতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটা সমঝোতা হতে পারে, এমনও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। উল্টো, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিদেশি নাগরিক হত্যার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলেছে। তার মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন এ সমাবেশ করতে যাচ্ছেন। মধ্য লন্ডনের কোনো সভাগৃহে বিএনপি নেত্রী দলীয় ওই সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ