মুন্সিগঞ্জে আধিপত্য নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ৩ জন গুলিবিদ্ধ, ককটেল উদ্ধার
339

মুন্সিগঞ্জ, ৩ অক্টোবর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জ সদরের চরাঞ্চল চরকেওয়ার ইউনিয়নে দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৪ টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে।

আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সদরের চরকেওয়ার ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের গাজী ও মোল্লা গোষ্ঠীর দুই গ্রুপে এ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাকিব মোল্লা (৩০), মহিউদ্দিন মোল্লা (৩৫) ও আকাশ মোল্লাকে (২৫) মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতারে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহত সাব্বির মোল্লাকে (২২) মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভিটি হোগলাকান্দি গ্রামের গাজী ও মোল্লা গোষ্ঠীর বিরোধ চলে আসছিলো। ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গেলে বাহারউদ্দিন মোল্লার ছেলে সাব্বিরকে মারধর করে প্রতিপক্ষ গাজী গোষ্ঠীর লোকজন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে উভয় গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সুত্রপাত হয়। এসময় সেখানে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সেখান থেকে অবিস্ফোরিত ১৪ ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত শৈবাল বসাক বলেন, ৩ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠাানো হয়েছে।

মোল্লা গোষ্ঠীয় চরকেওয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জালাল মোল্লা বলেন, গাজী গোষ্ঠীর লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে আমার গোষ্ঠীর লোকজন প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। এ কারণে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে। এসময় গুলি চালায় ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় গাজী গোষ্ঠীর লোকজন।

প্রতিপক্ষ গাজী গোষ্ঠীয় ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার গাজী বলেন, আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। মসজিদের বাইরে ১৩-১৪ বছরের ২ শিশুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আমার জানার পর বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলাম। এরপর শুনি দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, আহতও হয়েছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ওই গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ