নানা মধুর সম্বোধনে তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন ওসি
105

চট্টগ্রামে ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে ধর্ষিতা আবারো পুলিশের ধর্ষণের শিকার হতে যাচ্ছিলেন। ওই অভিযোগে বোয়ালখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা হয়েছে। গত সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক রেজাউল করিম চৌধুরীর আদালতে ওই মামলা করা হয়। বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা এক তরুণী মামলাটি দায়ের করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গত ১০ আগস্ট তার মক্কেল সাবেক প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় বোয়ালখালী থানার পরির্দশক ফারুককে। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ওমর ফারুক বাদিনীকে বেশ কয়েকবার অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। গত ২৭ আগস্ট বাদিনীকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে ওমর ফারুক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু বাদিনীর ছোট ভাই সঙ্গে থাকায় ওমর ফারুকের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মামলার আরজিতে পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯-এর ৪ (খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে একই উপজেলার খরণদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুল ইসলামের ছেলে ইফতেখারুল ইসলাম সানি (৩০) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রায় এক বছর ধরে এ সম্পর্ক থাকাকালে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তরুণীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর ওই তরুণী সানিকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কাবিননামা সম্পাদন করতে বলেন। সানি নানাভাবে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে একপর্যায়ে বিদেশে পাড়ি জমান। নিরুপায় হয়ে আদালতের আশ্রয় নেন ওই তরুণী। ১০ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আদালত-১-এ সানির বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। আদালত মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পড়ে বোয়ালখালী থানার ওসি (তদন্ত) ওমর ফারুকের ওপর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তদন্তের প্রয়োজনে ওসি বাদিনীকে একাধিকবার থানায় ডেকে পাঠান। বাদিনীর বাড়িতেও যান তিনি। একপর্যায়ে ওই তরুণীর ওপর কুনজর পড়ে ওসির। তদন্তের বাহানায় প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বাদিনীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। রাত-বিরাতে যখন-তখন কথা বলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা চালান। কখনও গান শুনিয়ে, কখনও নানা মধুর সম্বোধনে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন।

ওসি ওমর ফারুকের সঙ্গে বাদিনীর মোবাইল ফোনের রেকর্ড থেকে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় তিনি ফোন করেন। কথা বলেন ৫৯ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড। ওই রেকর্ডের ২৬তম মিনিটের দিকে ওমর ফারুক বলেন, … তুমি আমাকে টাকা দিবা বলছ, … তুমি কী আমাকে ভালোবাসা দিবা না? আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না। আমি এটা চাই। আমাকে তোমার টাকা দিতে হবে না, আমি ওটা চাই…। তুমি বন্ধু কথা দাও …। আমি কি আশা করতে পারি …। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। … তুমি বন্ধু আমার প্রস্তাবটা ভেবে দেখ না প্লিজ …।

পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় করা ১৮ মিনিটের মোবাইল ফোনের রেকর্ডের প্রথম মিনিটে শোনা যায়, ওসি বলছেন, তুমি ক্লিয়ার হয়ে যাও (গর্ভপাত করে ফেল)। শেষদিকে ওসি বলেন, বন্ধু সর্বোপরি কথা হচ্ছে, তুমি আমার প্রস্তাব ভেবে দেখ, আমাকে কথা দাও, তুমি আমাকে নিরাশ করবা না…। আমি কিন্তু অনেক ধৈর্য ধরেছি। তোমাকে আমার অনেক ভালো লাগছে। তাই এ কথা বলা…। আমাকে হতাশ করবা না। নিরাশ করবা না,… আমি তোমাকে মন থেকে চাচ্ছি। অপর একটি রেকর্ডে দেখা যায়, ওসির প্রস্তাবের বিষয়ে বাদিনী বলছেন, আমি ভেবে দেখি। আগে মামলার রিপোর্টটা দেন। উত্তরে ওসি বলেন, মামলা হাতে থাকতেই আমি তোমাকে চাই। ওসির সঙ্গে বাদিনীর কথোপকথনের এসব রেকর্ড ও ছবি সংরক্ষিত আছে। তা থেকে জানা গেছে, এরই মধ্যে ওসি বাদিনীর মামলার তদন্ত রিপোর্ট চাওয়ার দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতে এবং পতেঙ্গার নেভাল বিচে নিয়ে যান। সেখানে অন্তঃরঙ্গ ছবি তুলতেও বাধ্য করেন।

বাদিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অভিযোগ করেছে, অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাদিনীর কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে ওমর ফারুক ধর্ষক প্রেমিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত রিপোর্ট বাদিনীর বিপক্ষে দেন। ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে দেয়া ওই প্রতিবেদনে ওমর ফারুক উল্লেখ করেন, বাদিনীর সহিত ভিকটিমের প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক হেতু বাদিনী বিবাদী সানির সহিত অবৈধ যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কোনরূপ সত্যতা পাওয়া যায় নাই। সার্বিক পর্যালোচনায় বাদিনীর দায়েরকৃত অভিযোগটি উদ্দেশ্যমূলক ও হয়রানিমূলক বলিয়া প্রতীয়মান হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. করিমুন নেহারের দেয়া রিপোর্টে ওই তরুণীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ