১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার | রাত ১২:৫৭
মুন্সিগঞ্জে ১ জীবন্ত ও ১৩ জবাইকৃত ঘোড়া উদ্ধার, ধাওয়া খেয়ে পালাল কসাইরা
খবরটি শেয়ার করুন:
73

মুন্সিগঞ্জ, ৮ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঘোড়ার মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে কাটার সময় স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে দুবৃত্তরা।

এসময় ১টি জীবন্ত ঘোরাসহ ১৩টি জবাইকৃত ঘোড়া উদ্ধার হয়।

স্থানীয়রা জানান, আজ বুধবার ভোরে আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এসব ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, জবাইকৃত এসব ঘোড়া থেকে অন্তত ৩০ মণ মাংস পাওয়া যেত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, গত প্রায় ছয় মাস ধরে ওই এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসী আগে থেকেই নজরদারিতে ছিলেন। বুধবার ভোরে তারা চক্রটিকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করলে তিতাস ও রাজিব নামে দুই অভিযুক্তসহ অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বুধবার গভীর রাতে পরিত্যক্ত ঘরটির সামনে গাড়ি আসত। সকালে সেখানে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত।

পরে জানা যায়, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বস্তায় ভরে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। প্রমাণ নষ্ট করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে ফেলত।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা না যাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ