মুন্সিগঞ্জ-৩: ফুটবল ও ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
মুন্সিগঞ্জ, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গজারিয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পৃথক সময়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা এবং ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।
দুপুরে গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনের (ফুটবল প্রতীক) অনুসারীরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাবেক সদস্য মুহা. মুজিবুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকেই গজারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা ও আইন উপেক্ষা করে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ফুটবল প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ মুখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বললেও পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন মুজিবুর রহমান।
অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতনের সমর্থকরা। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুহাম্মদ মাসুদ ফারুক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
মাসুদ ফারুক বলেন, “প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা অপবাদ দেওয়া অনুচিত। তারা নিজেদের ব্যানার-ফেস্টুন নিজেরা ছিঁড়ে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, একাধিক স্থানে ধানের শীষের ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত জেনে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
উভয় পক্ষই সংবাদ সম্মেলনে এলাকায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ইসহাক আলী, বহিষ্কৃত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মকবুল আহমেদ রতন এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মিজানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

