৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | বিকাল ৩:৫১
মুন্সিগঞ্জে শ্রমিক দিবসেও থেমে নেই শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা
খবরটি শেয়ার করুন:

ভোর সাড়ে পাঁচটা, তখনও ফোটেনি ভোরের আলো। গোমতী সেতুর নিচে কোদাল, মাটি বহন করার ঝুড়ি হাতে হাজির কিছু শ্রমিক। কিছু সময় যেতেই ভোর ৬টার আগেই হাজির আরও কয়েক হাজার শ্রমিক।

বরগুরা, নওগাঁ, দিনাজপুর, চাঁদপুর, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব শ্রমিকের আগমন। পরিবারে কয়েক সদস্য মিলে ছোট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন অনেকে, কেউ আবার তাবুতে। ছোট জাহাজ, বাল্কহেড থেকে নির্মাণ সামগ্রী উঠানো-নামানোর কাজ করে তারা।

কাজের ফাঁকে সকালের নাস্তা আর দুপুরে খাবারের জন্য কিছু সময় পায় তারা। এর মধ্যেই আবার কোলের ছোট সন্তানেরও খেয়াল রাখতে হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে তাদের নির্মাণ সামগ্রী উঠানো-নামানোর কাজ। আবার কখন কাজের চাপ থাকলে রাত ৮টায় শেষ হয় তাদের কাজ।

মে দিবস কি তা তারা জানেন না। শ্রমিকদের সুন্দর কাজের পরিবেশ, নির্ধারিত ৮ ঘণ্টা কাজের সময় ও উপযুক্ত মজুরি তাদের চিন্তার বাহিরে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলাধীন মেঘনা ও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতুর নিচে নির্মাণ সামগ্রী উঠানো-নামনোর কাজ করে কয়েক হাজার শ্রমিক।

সোমবার (১ মে) শ্রমিক দিবসেও তার ভিন্ন চিত্র চোখে পড়েনি।

দিন শেষে হাতে আসে মজুরির ২০০-৫০০ টাকা। মহিলা শ্রমিকদের মজুরি আরও কম, সমান কাজ করলেও বেতন বৈশম্যের শিকার তারা। এ সমান্য টাকা অভাবের সংসারে অনেকটা নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতই।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেল, মে দিবস কি তা তারা জানেন না। মে দিবস তাদের জীবনে কোন গুরত্বই বহন করে না। প্রয়োজন অথের্র আর তা অর্জনের জন্য পরিশ্রম, এটাই তাদের জীবন। তাই সরকারের কাছে মজুরি বাড়ানোর অনুরোধ ছাড়া অন্য কোনো দাবি নেই এই শ্রমিকদের।

শ্রমিক কাশেম বলেন, ‘শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট কেউ দেখেন না। সংসার চালাতে হলে ছেলে মেয়েদের মুখে অন্ন তুলে দিতে প্রয়োজন টাকার। তাই হাড়ভাঙ্গা খাঁটুনিতেই ব্যস্ত থাকতে হয় সারাটা দিন। শ্রমিক দিবসেও তার ভিন্নতা নেই।’

বরিশাল থেকে আসা রহিম বলেন, ‘শ্রমিক দিবসেও আমরা থেমে নেই, কাজ করে পেট চালাতে হয়। যদি কাজ করা বন্ধ করে দেই তাহলে পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিব কিভাবে?’

চাঁদপুর থেকে আসা নারী শ্রমিক আসমা আক্তার জানান, ‘দুই ও তিন বছরের দুটি ছেলে নিয়ে তার সংসার। মাটি আনা-নেওয়ার কাজ করেই সংসার চলে। স্বামী অনেক আগেই মারা গেছে, সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ বুঝে কষ্ট করতে হয়। আমরা নারী শ্রমিকরা পুরুষদের সমান কাজ করলেও মজুরিতে কম এবং নানা বৈষম্যের শিকার হতে হয়।’

মালিকরাও স্বীকার করলেন শ্রমিকের সুন্দর কাজের পরিবেশ ও শ্রমের উপযুক্ত মূল্য দিতে পারেন না তারা। শ্রমিকদের এই মানবেতর জীবনযাপনে তাদেরও কষ্ট হয়।

error: দুঃখিত!