মুন্সিগঞ্জে প্রশাসনের জব্দ করা দুই বাল্কহেড নদী থেকে উধাও, এলাকায় চাঞ্চল্য
মুন্সিগঞ্জ, ২ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জব্দ করা দুটি বাল্কহেড রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনের বেলায় পদ্মা নদী থেকে বাল্কহেড দুটি উধাও হয়ে যায়।
জানা যায়, গত ৩১ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে লৌহজং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের অভিযোগে বাল্কহেড দুটি জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বাসিত সাত্তার।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাল্কহেড দুটি সরকার নির্ধারিত উৎস থেকে বালু সংগ্রহ না করে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে বালু কিনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছিল। এ সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে বৈধ কাগজপত্র চাইলে তারা ৩ মার্চের একটি পুরোনো রসিদ দেখায়, যা যাচাই-বাছাই করে অকার্যকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ বলে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে তারা কোনো হালনাগাদ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বালু পাচারের অভিযোগে তিন শ্রমিককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা প্রায় ২০ হাজার ঘনফুট বালু দুটি বাল্কহেডে সংরক্ষিত ছিল। বাল্কহেড দুটি লৌহজং উপজেলার সামুরবাড়ি এলাকার পদ্মা নদীতে রেখে লৌহজং থানার এসআই সাচ্চু মিয়ার জিম্মায় দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল জানান, ২ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত তার নিয়োজিত চৌকিদার ঘটনাস্থলে পাহারায় ছিলেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত বাল্কহেড দুটি দেখা গেলেও এরপর হঠাৎ করেই সেগুলো নিখোঁজ হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট থানার হলেও ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। একই তথ্য দিয়েছেন দায়িত্বে থাকা চৌকিদার মো. রাজু।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বাসিত সাত্তার বলেন, অবৈধ বালু বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত বাল্কহেড দুটি এসআই সাচ্চু মিয়ার জিম্মায় রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেগুলো নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা গেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্কহেড দুটি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, লৌহজং থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ চাওয়া হলেও জনবল সংকটের কারণে তিনি নৌ পুলিশের মাধ্যমে পাহারার পরামর্শ দেন। তবে ৩১ মার্চ রাতে অস্থায়ীভাবে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর কীভাবে বাল্কহেড দুটি নিখোঁজ হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি আরও জানান, বাল্কহেড দুটি নিলামে তোলার কথা ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে।

