মুন্সিগঞ্জের ৩ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে হামের টিকাদান শুরু, পাবেন ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুরা
মুন্সিগঞ্জ, ৫ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে জেলার ১টি পৌরসভা ও ৩ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ৪৭টি কেন্দ্রে একযোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে জেলায় ১০ হাজার ৯৫০ ভায়াল হাম টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। এসব টিকার মাধ্যমে আগামী তিন সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী আরও টিকা সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, লৌহজং উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৩টি কেন্দ্রে, শ্রীনগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৮টি কেন্দ্রে এবং সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৬টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এছাড়া পৌরসভা এলাকাতেও নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্থায়ী টিকা দান কেন্দ্রগুলোতে সারাবছরই এই কার্যক্রম চলবে। অস্থায়ীগুলো চলবে চাহিদার ভিত্তিতে।
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরবর্তীতে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। জটিল ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য।
তারা জানান, টিকাদান সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে, টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জে হামের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।


