মুন্সিগঞ্জের অসহায় জেলেদের পাশে দাড়ালেন এম.পি মৃণাল
115

মানব বন্ধন, নিউজ এবং জেলেদের আহাজারির পর এবার মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের এমপি মৃণাল কান্তি দাসের সহযোগিতায় চালের বরাদ্দ পাচ্ছে মুন্সিগঞ্জের জেলেরা।

সরকারি নির্দেশনা মেনে এখানকার জেলেরা মা ইলিশ শিকার বন্ধ রেখেছে। কিন্তু সরকারি ঘোষণার ত্রাণ না পেয়ে দরিদ্র জেলেরা হতাশ।

২০ কেজি করে সরকারি চাল জেলদেরকে দেয়ার কথা থাকলেও বরাদ্দ নেই মুন্সিগঞ্জের জেলেদের জন্য। চালের বরাদ্দ না থাকায় কষ্টে জীবন যাপন করছেন মুন্সিগঞ্জের ৯ হাজার ৮১৩ জন জেলে।

ইলিশ মাছ বাঁচাতে সরকার জোরালো আইনী ব্যবস্থা নিয়ে থাকলেও জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পায়নি মুন্সিগঞ্জের জেলেরা।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর থেকে টানা ২২দিন নদ-নদীতে ইলিশ না ধরার জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

জেলেদেরকে ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি বিধৌত জেলা মুন্সিগঞ্জের ৯ হাজার ৮১৩ জন জেলেদের ভাগ্যে জুটছে না বরাদ্দকৃত চাল।

চলতি মৌসুমে বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি জেলের জন্য ২০ কেজি করে দেশের ১৪টি জেলায় জেলেদের চাল দেয়া হচ্ছে নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৮ মাসে। জেলেদের প্রনোদনা বা উৎসাহ যোগাতে ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু সরকার দিচ্ছে মাত্র ৪ মাস। কিন্তু তালিকাতে বাদ পড়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলার জেলেরা।

জেলেদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদরে ২ হাজার ৪৩৫ জন, শ্রীনগরে ১ হাজার ৯৯৪ জন, গজারিয়ায় ২ হাজার ৫৬ জন, টঙ্গীবাড়ীতে ১ হাজার ৪৭ জন, লৌহজং উপজেলায় ১ হাজার ২৮৯ জন, সিরাজদিখানে ৯৯২ জন রয়েছেন। ভিজিএফ কার্ডধারী রয়েছেন ২ হাজার ৩৩৫ জন।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়ায় মুন্সিগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার এলাকার মেঘনার শাখা নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছে জেলেরা। মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. আমান উল্লাহ সরকার মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন।

মো.আমান উল্লাহ সরকার বলেন, “অন্যা জেলায় সরকার চাল বরাদ্দ দিল, কিন্তু মুন্সিগঞ্জে জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি একসিটা চাউল। ২২ দিন মাছ ধরুম না, খামুডা কি? ঘরে চাউল আছিল, তাও শেষ। সঞ্চয়ে বৌয়ের কাছে কিছু টাকা ছিল তাও শেষের দিকে, বাকি দিন কেমনে যাইব?”

জেলে জালাল উদ্দিন মিয়া বলেন, নদীতে নৌকা নামে না, জাল নৌকাতে পইড়া আছে, খাওন দিতে কন সরকাররে, না দিলে তো পুরা পরিবার না খাইয়া মরতে হইবো।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড.অলিয়ুর রহমান বলেছেন, ২০ কেজি করে চাল ২২ দিনে জেলার প্রতিটি জেলেকে দেয়ার কথা ছিল। মুন্সিগঞ্জের জেলেরা নদীতে মাছ না ধরার নির্দেশনা মেনে চলছে। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় তা দিতে পারছি না।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস জানান, আমার এলাকার জেলেরা চাল পায়নি আমি শুক্রবার শুনেছি, দুর্যোগ ও ব্যাবস্থাপণা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চালের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। জেলেরা যাতে চাল পায়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অামি জেলেদের পাশে অাছি।

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, অতিরিক্ত কেবিনেট সচিব মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে, তিনি পুনরায় চিঠি দিতে বলেছেন। দ্রুত জেলেদের চাল বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ