৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | রাত ২:৫৮
‘মুন্সিগঞ্জবাসী রতন ভাইকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়’- অ্যাড. আরাফ
খবরটি শেয়ার করুন:
183

মুন্সিগঞ্জ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, (আমার বিক্রমপুর)

লেখক: অ্যাডভোকেট আল-আরাফ, আহবায়ক সদস্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম। সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক, মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল

২০০৬ সালের পর দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যেমন রাজনৈতিক আশাবাদ জন্ম নিয়েছে, তেমনি মুন্সিগঞ্জবাসীর মধ্যেও জেগেছে বহুদিনের একটি যৌক্তিক দাবি—দক্ষ, যোগ্য ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নেতৃত্বকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন সেই প্রত্যাশারই প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষিত, পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সমাজভিত্তিক রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ছাত্ররাজনীতির সেই সময় থেকেই তিনি গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের একজন অন্যতম নায়ক হিসেবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা ইতিহাসের অংশ। এই সংগ্রামী অতীতই তাকে আজকের পরিণত রাজনৈতিক নেতৃত্বে রূপ দিয়েছে। তার শিক্ষা ও রাজনৈতিক বিকাশের কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা তার চিন্তাধারা ও নেতৃত্বগুণকে আরও শাণিত করেছে।

মুন্সিগঞ্জবাসীর দাবি শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার দক্ষতার স্বীকৃতিও এতে জড়িত। বিশেষ করে যুবসমাজ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে তার গভীর আগ্রহ ও প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে—এমনটাই মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ।

খেলাধুলার প্রতি কামরুজ্জামান রতনের ব্যক্তিগত আগ্রহ কেবল কথায় সীমাবদ্ধ নয়। তার পরিবারেও ক্রীড়াচর্চার ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। তার ছেলে আয়মান ইবনে জামান তিনবার ব্যাডমিন্টনে প্রথম হয়ে পারিবারিক ক্রীড়া-মনস্কতার উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছে। নিজেও তিনি বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন-এর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে খেলাধুলার সংগঠন ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। এই অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা দেশের যুব ও ক্রীড়া খাতকে গতিশীল করতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।

সব মিলিয়ে মুন্সিগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা স্পষ্ট। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের এই জনপ্রতিনিধিকে যদি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তা শুধু একটি এলাকার দাবি পূরণ নয়—বরং জাতীয় পর্যায়ে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে ক্রীড়াঙ্গনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও উন্নয়নের পথে একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ হবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ক্রীড়াবান্ধব মানসিকতা—এই তিনের সমন্বয়ে মো. কামরুজ্জামান রতন সেই দায়িত্ব পালনে সক্ষম—এমন বিশ্বাসই পোষণ করছেন মুন্সিগঞ্জের মানুষ।