৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | রাত ২:৫৮
বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান বিশ্বজয়ী বিজ্ঞানী শ্রী বোস: গৌরব আর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার
খবরটি শেয়ার করুন:
56

মুন্সিগঞ্জ, ১ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত—সাফল্যের শিখরে উঠেও যে মানুষ নিজের শেকড়কে ভুলে যান না, তার উজ্জ্বল উদাহরণ শ্রী বোস।

আধুনিক বিজ্ঞানের জগতে বিশ্বজয়ী এই তরুণী ২০১২ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসেছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি দেখতে—বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জনপদ বিক্রমপুরে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম হলেও শ্রী বোসের শিকড় প্রোথিত মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর গ্রামে।

একসময় বিক্রমপুরের বোস পরিবার ছিল এই অঞ্চলের আভিজাত্য, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক নেতৃত্বের অন্যতম কেন্দ্র। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাই যেন বহন করছেন এই মেধাবী বিজ্ঞানী।

শ্রী বোসের বাবা বিশ্বজিৎ বোস ও মা প্রার্থনা বোস—দুজনের পারিবারিক শেকড়ই বিক্রমপুরে। প্রবাসে বেড়ে উঠলেও তাঁদের পরিবারে বারবার ফিরে এসেছে এই অঞ্চলের ইতিহাস, গৌরব আর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার।

২০১১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্যান্সার গবেষণায় বিশ্বসেরা হয়ে Google Science Fair-এর শিরোপা জেতার পেছনে সেই উত্তরাধিকারই ছিল বড় প্রেরণা।

সাফল্যের পর নিজের শেকড়কে কাছ থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ২০১২ সালের জুলাইয়ে তাঁর বাংলাদেশ সফর। ১৪ জুলাই ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি সরাসরি রওনা দেন সিরাজদিখানের মালখানগরের উদ্দেশ্যে।

গ্রামের মেঠোপথ, পুরনো স্থাপনা আর পারিবারিক স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি ঘুরে দেখার সময় তিনি হয়ে ওঠেন আবেগাপ্লুত।

স্থানীয় মানুষের সরলতা, আতিথেয়তা এবং গ্রামীণ জীবনের সহজ সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করে। বিদেশে বড় হলেও তাঁর সাবলীল বাংলা উচ্চারণ যেন প্রমাণ করে—শেকড়ের টান কখনও মুছে যায় না।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী এই তরুণ বিজ্ঞানী বিভিন্ন সময় গর্বের সঙ্গে বিক্রমপুরের কথা তুলে ধরেছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর কাছ থেকে হোয়াইট হাউসে সংবর্ধনা পাওয়ার মুহূর্তেও তাঁর সাফল্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে বিক্রমপুরে।

পরবর্তীতে ইউরোপের বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান CERN-এ কাজের সুযোগ পাওয়া এই প্রতিভা বিশ্বাস করেন—তাঁর উদ্ভাবনী শক্তির বীজ লুকিয়ে আছে পূর্বপুরুষের সেই মাটিতেই।

শ্রী বোসের এই সফর ছিল কেবল একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণ নয়; বরং এটি ছিল এক বিশ্বজয়ী মেধার সঙ্গে তার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিচয়ের পুনর্মিলন।

মালখানগরের একটি পরিবারের উত্তরসূরি আজ বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন—এই গর্ব এখন পুরো বিক্রমপুরের।

প্রমাণ হয়ে গেছে, পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান হোক, নিজের শেকড়কে ধারণ করাই সত্যিকারের মহত্ত্ব। আর সেই সত্যই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান শ্রী বোস।