করোনার চিকিৎসায় মুন্সিগঞ্জের আইসোলেশন সেন্টার কতটুকু প্রস্তুত?
মুন্সিগঞ্জ, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, জুয়েল রানা (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসাপাতালের নতুন ভবনে প্রস্তুত করা ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার কার্যত এখনও চালু হয়নি।
এ সেন্টারে কারোনায় আক্রান্ত জেলার কোন রোগীকে ভর্তি করা হয়নি। এদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য ঢাকায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুন্সিগঞ্জ থেকে রোগী পাঠাতে বারণ করা হয়েছে জেলা সিভিল সার্জন অফিসকে।
মুন্সিগঞ্জে ৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছে ৬ জন করোনা আক্তান্ত। এমতাবস্থায় এ আইসোলেশন সেন্টার কতটুক প্রস্তুত এই প্রশ্ন এখন ভাবিয়ে তুলছে মুন্সিগঞ্জ জেলাবাসীকে।
এদিকে করোনার ভয়ে জেলার প্রধান হাসপাতালে ৪ থেকে ৫শ রোগীর মধ্যে এখন ৫০ জন রোগী নেই। জরুরী না হলে হাসপাতালে রোগীরা আসছে না, তারা ভয় পাচ্ছে। ডাক্তারদের উপস্থিতিও কম।
করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় অবস্থানে নারায়নগঞ্জ ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মুন্সিগঞ্জের আরেক পাশবর্তী জেলা মাদারীপুর। এ দুই জেলার মাঝখানে মুন্সিগঞ্জ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে মুন্সিগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনে গত ৮ এপ্রিল ৫০ শয্যার একটি আইশোলেসন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়। মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রযেছে ২০ জন ডাক্তার আছেন। সেখান থেকে আইশোলেসন সেন্টারের জন্য রোস্টার অনুজায়ী প্রতি শিফটে ১ জন ডাক্তার, ২ জন নার্স ও ১ জন আয়া রাখা হয়েছে।
যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তার জন্য অক্সিজেনের ৫০ টি সিলেন্ডার রাখা হয়েছে। আপাতত ১ টি এ্যম্বুলেন্স আলাদা রাখা হয়েছে সিরিয়াস রোগীকে ঢাকা প্রেরণ করার জন্য। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় ৫ টি আইসোলেশনে ৫ টি করে বেড রয়েছে।
এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসাপাতালের নতুন ভবনে আইসোলেশন সেন্টারে ৫০ টি বেড আছে। আমরা যতক্ষণ পেরেছি রোগী ঢাকা রেফার্ড করেছি। এখন প্রতিদিন এমনভাবে রোগী বাড়ছে ঢাকায়ও রোগী পঠানো যাচ্ছে না। ভিডিও কনফারেন্সে আমাদের বলে দিয়েছে কুয়েত মৈত্রী ও কুর্মিটোলায় রোগী ভরে গেছে।
তিনি আরও বলেন, রোগীকে বাড়িতেও রাখা যায় যদি সমাজ এবং মানুষ সবাই সচেতন হয়। যে রোগীদের সিমটম নাই, ধরা পরলেও সে বাড়িতে থাকতে পারবে এবং বাড়িতে রোগী ধরা পরলে তখন অন্যরা এমনিতেই সতর্ক হয়ে যায় তার কাছে যাবে না। বাড়িতে থাকলে তাদের একটা সেবা যত্নের সুযোগ সুবিধা থাকে যেমন দরজার ভেতর দিয়ে গরম পানি দিলো, ভাল খাবার দিলো। আর তাদের কেয়ার লাগবে, যদি শ্বাসকষ্ট হয় সামান্য আক্সিজেন দিলে ভাল হবে, তাদের হাসপাতালে রাখতে পারবে।
এদিকে সিরাজদিখানে অলরেডি ২ জন রোগীর তেমন উপসর্গ নেই, কিন্ত করোনা পজেটিভ হওয়ায় আইসোলেশনে রাখা আছে। যেহেতু আমরা স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই, সেহেতু আমরা যাদের অভিযোগ পাচ্ছি তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাচ্ছি।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন জানান, করোনা রোগীদের জন্য ডিউটি করব না মুন্সিগঞ্জে এমন ডাক্তার নেই। এমনিতে একটি সংকট চলছে। যেহেতু চারদিক রাস্তাঘাট বন্ধ, তাই ট্রান্সপোর্টেরও সমস্যা। এতে রোগীর আগমন কমে গেছে। ডাক্তারদের মুভমেন্ট কম।





