১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | সকাল ১১:১০
রমজানের প্রথম ১০ টি রোজা সম্পন্ন করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়
খবরটি শেয়ার করুন:
63

মুন্সিগঞ্জ, ২ মার্চ ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

আরবি বারো মাসের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস হলো রমজান। এ মাসে মুমিনদের ওপর পূর্ণ একমাস সিয়াম সাধনা ফরজ করা হয়েছে। সিয়াম পালনকারীকে আমরা রোজাদার বলে থাকি। একজন মুসলিমের জন্য যেমন নামাজ, জাকাতসহ অন্যান্য ফরজ ইবাদত আদায় করা অপরিহার্য, তেমনি রোজা রেখে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জন করাও আবশ্যক। ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ হলো রোজা। দ্বিতীয় হিজরিতে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিলের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেন।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন—
‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোজা (রমজানের রোজা) ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)।

আরও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে—
‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

রমজান মাসের রোজার মর্যাদা অন্য যেকোনো মাসের রোজার চেয়ে ভিন্ন ও শ্রেষ্ঠ। বছরের অন্য সময় রোজা রাখা সওয়াবের হলেও রমজানের একটি রোজার সমতুল্য হতে পারে না। এ ইবাদতের গুরুত্ব বোঝাতে হাদিসে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। ‘হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত রমজান মাসের একটি রোজাভঙ্গ করবে, সে আজীবন সে-ই রোজা (ক্ষতিপূরণ) আদায় করতে পারবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৬ষ্ঠ খণ্ড ১৩১ পৃষ্ঠা, হাদিস : ১০০৪৭)।

রমজানের রোজা শুধু উপবাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ। রোজাদারকে মিথ্যা, গিবতসহ সব ধরনের গোনাহ থেকে নিজেকে সংযত রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে— ‘হজরত আবু উবায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওম (রোজা) ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা ভেঙ্গে না ফেলে, আর তা হলো- মিথ্যা ও গিবত (বলা দ্বারা)। (সুনানে নাসাঈ ২২৩৫, সহিহ ইবনে খুযাইমা ১৮৯২)।

রমজান মাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করে বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে এসেছে। বলা হয়েছে—
‘রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির।’ (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড ৪৬৩ পৃষ্ঠা, হাদিস : ২৩৬৬৮)

হাদিস অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিন থেকেই রহমতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়। প্রথম দশকের প্রথম রোজা আদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বের গোনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—
‘হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতি দিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড ৪৭১ পৃষ্ঠা, হাদিস : ২৩৭০৬)

রোজাদারদের ইবাদতে একাগ্রতা আনতে রমজানের শুরুতেই বিশেষ রহমতের ব্যবস্থা করা হয়। হাদিসে এসেছে—
‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন যে, রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। কোনও দরজা খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। কোনও দরজা বন্ধ রাখা হয় না।’ (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস : ৬৮২)

অতএব, রমজানের প্রথম ১০টি রোজা সম্পন্ন করা মানে রহমতের সাগরে অবগাহন করা। এ সময়েই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ নাজিল হয়, গোনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ আসে এবং বান্দার আমল কবুল হওয়ার পথ সুগম হয়। তাই রমজানের শুরু থেকেই আন্তরিকতা, তাকওয়া ও নিষ্ঠার সঙ্গে রোজা পালনের অঙ্গীকার করা উচিত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হোক আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।