১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | রাত ৪:৪২
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জে হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত চারিদিক
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৮ জানুয়ারি, ২০২৩, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশের সাথে মুন্সিগঞ্জের জনজীবন ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ছিলো। দুপুরেও বিভিন্ন এলাকার মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাড়ির বাইরে তেমন বের হননি।

শনিবার ভোর থেকে সারাদিনেও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিলো পথ-ঘাট। সন্ধ্যার পর রাতে শীতের তীব্রতা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। ঘন কুয়াশার কারনে সকালে মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ রুটে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হয়।

মুন্সিগঞ্জের পাশের জেলা ফরিদপুরে বেলা ১১টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে। কনকনে হিম ঠান্ডা আর কুয়াশার দাপটে বিপাকে পড়েন জেলার ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষ। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় দিনভর রাস্তাঘাট ছিলো তুলনামূলক ফাঁকা।

পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ জেলার হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। তবে জেলার দরিদ্র মানুষের মধ্যে মাঝে মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা গেলেও সেটা অপেক্ষামূলক নগণ্য।

শনিবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ শহর ঘুরে দেখা গেছে তীব্র শীতের মধ্যেও প্রতিদিনকার মত জীবিকা নির্বাহে বের হয়েছেন কর্মজীবী মানুষ। শীতের কাপড় কিনতে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও মার্কেটগুলোতেও দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে বেশিরভাগ মানুষ আগেই শীতের জামাকাপড় কিনেছেন।

এসময় কথা হয় রংপুর জেলার ওলিপুর থানার হাতিয়া এলাকার আল আমিন (৬১) এর সাথে। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে মুন্সিগঞ্জে রিকশা-মিশুক চালাই। তবে আজকের মত শীত ১০ বছরেও করেনি। তীব্র শীতের কারণে মিশুকে যাত্রীও কম উঠেছে।

আরেক ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা ওলিউল্লাহ্ বলেন, তীব্র বাতাস ও শীতের কারণে বাইরে বের হওয়াটাই কষ্টকর। এর মধ্যেও পেটের দায়ে খোলা আকাশের নিচে বাদাম নিয়ে বসেছি। তবে অন্যান্যদিনের চেয়ে ক্রেতা একেবারেই কম।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তীব্র শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে গত দুইদিন ধরে ঠান্ডাজনিত রোগে প্রচুর রোগী আসছেন। হাসপাতালেও রোগী ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। তবে পরিস্থিতি আমাদের সক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এমন অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। ধাপে ধাপে আরও দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে জানুয়ারি মাসে। শুক্রবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ২ এবং সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তা ছাড়া দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া, দিনাজপুর, যশোর ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ার কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।

error: দুঃখিত!