১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | ভোর ৫:৪৮
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জে জেলে থাকা যুবদল নেতার বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১৫দিন ধরে জেল থাকা এক যুবদল নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।হামলাকারীরা হোসেন্দী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ওই যুবদল নেতার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় একাধিক স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পূর্ব শত্রুতার জের এবং রাজনৈতিক কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

ওই যুবদল নেতার নাম মাসুম মিয়া (৪৫)। সে যুবদল গজারিয়া শাখার যুগ্ম আহবায়ক। নাশকতার মামলায় পুলিশের কাছে আটক হয়ে গত ১৫ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুবদল নেতা মাসুম মিয়ার স্ত্রী নাজমীন বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। বিভিন্ন কারণে তার সাথে আমাদের প্রতিবেশী প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেনের ভাই মাহাবুব মিয়া ও শাহ পরানের সাথে বিরোধ চলছিল। গত ৬ ডিসেম্বর নাশকতার মামলায় আমার স্বামী এবং তার ছোট ভাই জসিমকে আটক করে পুলিশ। তারা জেলে থাকার সুযোগে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শাহ পরানের নেতৃত্বে অন্তত ৪০/৫০জন লোক আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দরজা ভেঙে প্রবেশ করে প্রতি রুমে রুমে ঢুকে ভাঙচুর করে। রুমের গ্লাস থেকে ধরে আসবাবপত্র সবকিছু ভাঙচুর করে। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যাবার পথে নিচতলার সোফা এবং পর্দায় আগুন লাগিয়ে দিয়ে যায় তারা। তবে আমরা সাথে সাথে তা নিভিয়ে ফেলায় আগুন বেশি দূর ছড়াতে পারেনি। সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় বিশ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে’।

যুবদল নেতা মাসুমের ছোট ভাই ওয়াসিম আকরাম বলেন, আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত। ওদের হামলার টার্গেট ছিলাম আমি। বৃহস্পতিবার বিকেলে নদীপথে মুন্সিগঞ্জ সদর থেকে গজারিয়ায় আসার পথে হোসেন্দী এলাকায় তারা আমার অপেক্ষায় ছিল। অস্ত্র নিয়ে নদীর পারে আমার জন্য অপেক্ষা করছে এমন খবর পেয়ে আমি কৌশলে তাদের হাত থেকে রক্ষা পাই। আমাকে না পেয়ে সন্ধ্যায় তারা আমাদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। আমার বড় ভাইয়ের ছেলে কৌশলে জানালার ফাঁক দিয়ে হামলার কিছু অংশের ভিডিও করে রেখেছে। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ভয়ে আমরা অভিযোগ করতে থানায় যেতে পারছি না।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত শাহ পরানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা শুনেছি একজন অটোচালককে মারধর করা হয়েছে। তবে আমার লোকজন কারো বাড়িতে হামলা করেছে এরকম কোন ঘটনা আমার জানা নেই’।

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর খবর পেয়ে গতকাল রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ভাঙচুরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি’।

বিষয়টি সম্পর্কে সদর-গজারিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান বলেন, ‘এরকম একটা খবর পেয়েছি। আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যাবো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

error: দুঃখিত!