মুন্সিগঞ্জের আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ৫ বছর, রায় কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার
মুন্সিগঞ্জ, ২৫ মার্চ ২০২৬, ডেস্ক রিপোর্ট (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুরে সংঘটিত আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের পাঁচ বছর পার হলেও এখনও রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে নিহতদের পরিবার।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায় ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
২০২১ সালের ২৪ মার্চ নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করা নিয়ে একে অপরকে দায়ী করে ইমন পাঠান একই এলাকার রাকিবুল হাসান সৌরভকে চর থাপ্পর মারে। পরবর্তীতে ইমন পাঠান গ্রুপের বড় ভাই আওলাদ হোসেন মিন্টু পুনরায় সৌরভকে ডেকে নিয়ে শাসন করে। এ ঘটনায় উত্তর ইসলামপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টায় আওলাদ হোসেন মিন্টুর বাড়ির সামনে জামালের দোকানের সামনে এ নিয়ে শালিস বৈঠক বসে।
বেঠকের শেষ পর্যায়ে সৌরভ গ্রুপের লোকজন আকস্মিক ইমন, সাকিব ও মিন্টু তিনজনকে ছুরিকাঘাত করে। তারা তাৎক্ষনিক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে বাচ্চু মিয়ার পুত্র সাকিব মিয়া (১৯) মারা যায়। আর কাসেম পাঠানের পুত্র ইমন পাঠান (২৩) ও মুন্সিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী আওলাদ হোসেন মিন্টুকে (৪০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় ইমনের মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টায় মিন্টু মারা যান।
ঘটনার দুই দিন পর ২৬ মার্চ মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত মিন্টু প্রধানের স্ত্রী খালেদা আক্তার। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৮ জুন ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
২০২৫ সালের ৮ মে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মাসুদ করিম বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে শিহাব প্রধান, রনি ব্যাপারী ও রাকিবুল হাসান সৌরভকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিহাব প্রধান ও রাকিবুল হাসান সৌরভ এখনও পলাতক।
এছাড়া সাকিব প্রধান, অনিক ব্যাপারী, শামীম প্রধান, রায়হান ও জাহাঙ্গীর হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাকিব প্রধান ও শামীম প্রধান জেলে, আর বাকি সবাই পলাতক।
মামলার অপর ১০ জন আসামিকে খালাস দেন আদালত।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানো হলেও একাধিক আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মামলার রায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের প্রক্রিয়ায় থাকায় তা কার্যকর হতে সময় লাগছে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন পর রায় পেলেও তা কার্যকর না হওয়ায় তারা এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। দ্রুত রায় কার্যকর করার মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, উত্তর ইসলামপুরের এই ট্রিপল মার্ডার মামলাটি মুন্সিগঞ্জের অন্যতম আলোচিত হত্যাকাণ্ড। দ্রুত রায় কার্যকর হলে তা সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অনেকেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও নানা অপকর্মে যুক্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।





