১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
রবিবার | দুপুর ১২:৩৯
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুক্তারপুর ব্রীজে বাইকারদের উৎপাত বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা চান সাধারণ নাগরিকরা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২১ মে, ২০২১, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদর ‍উপজেলার মুক্তারপুর সেতু (৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু)। মুন্সিগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে ধলেশ্বরী নদীর উপর এই সেতুর অবস্থান। 

২০৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই সেতুটি ২০০৮ সালে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। মাত্র ১০ মিটার প্রস্থের এই সেতু নিয়ে শুরু থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিলো। প্রথম থেকেই সেতুটিতে দর্শনার্থীদের নিয়মিত ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাইকারদের অসচেতনতা আর বেপরোয়া রাইডিংয়ের কারনে সেতুটিতে একের পর এক ঘটতে থাকে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি গতকাল মুক্তারপুর সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই খালাতো ভাইয়ের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে মুক্তারপুর সেতুতে বাইকারদের উৎপাত বন্ধে ব্যবস্থার বিষয়ে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে তেমন কোন পর্যটন স্পট না থাকায় যে কোন উৎসব বা দিবসে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় জমায় মুক্তারপুর সেতুর উপর। এখানে দাড়িয়েই তারা নদীর সৌন্দর্য্য উপভোগ করে থাকেন। দিবস ছাড়াও শুক্রবার ছুটির দিনেও দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

আরও পড়তে পারেন: মুক্তারপুর সেতুতে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত ২

অন্যদিকে সেতুটিতে নিয়মিত প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় নিয়মিত বখাটে বাইকাররা উৎপাত করে মুক্তারপুর সেতুতে। তারা সেতুতে আসা নারী দর্শনার্থীদের যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে কখনো কখনো ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটান। আবার বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন নিজেরাই। এর মধ্যে কেউ কেউ জায়গায়ই মারা যাচ্ছেন আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময়ের জন্য পঙ্গুত্বও বরণ করছেন। এরপরও থামানো যাচ্ছে না বাইকারদের উৎপাত।

আরও পড়তে পারেন: হেলমেট ছাড়াই বাইকটি চালাচ্ছিলেন শায়র, ছিলো না লাইসেন্স

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, মুক্তারপুর সেতুতে সাধারণ মানুষের নিয়মিত চলাচল বেশি। এক শ্রেণির বখাটে ছেলেরা মোটরসাইকেল নিয়ে এই সেতুতে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে সাধারণ মানুষের বিরক্তির উদ্রেক হয়। আবার তাদের এই কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা সাধারণ মানুষের উপর চড়াও হয়। তাই প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ মুক্তারপুর সেতুতে বাইকারদের অতিরঞ্জিত উৎপাত বন্ধে কঠোর কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়া হোক।

আরও পড়তে পারেন: মুক্তারপুর সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে শোকের ছায়া

মুক্তারপুর বিসিক শিল্প নগরীতে কর্মরত নারী শ্রমিক আফসানা আক্তার বলেন, আমাদের ছুটির দিন শুক্রবারে কাছে ভালো কোন জায়গা না পাওয়ায় মুক্তারপুর সেতুতে ঘুরতে যাই। কিন্ত সেখানে ছেলেরা খুব বাজে ভাবে হোন্ডা চালায়। তারা পারে না গায়ের উপর দিয়ে হোন্ডা উঠিয়ে দেয়। তাদের উৎপাতে এখন আর মুক্তারপুর সেতুতে যাই না।

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, মুক্তারপুর সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে এটাই স্বাভাবিক। এখানে মানুষের ঘুড়তে যাওয়াটা অসচেতনতার মধ্যে পড়ে। আবার মোটরসাইকেল নিয়ে সেতুর উপর গিয়ে যানবাহনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিভিন্ন কসরত প্রদর্শন করাটা আরও বেশি অন্যায়। পুলিশ-প্রশাসনের এই বিষয়গুলোতে তদারকি করা উচিৎ।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) বজলুর রহমান বলেন, মুক্তারপুর সেতুর মুন্সিগঞ্জ প্রান্তে অবৈধ মোটরবাইক ও হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এরপরও কিছু বখাটে বাইকাররা পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে মুক্তারপুর সেতুতে এসে উৎপাত করে থাকে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে।

error: দুঃখিত!