বিদেশি হত্যার তদন্ত হোক প্রভাবমুক্ত
130

মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন দুই বিদেশি নাগরিক। সোমবার রাজধানীর গুলশানে কূটনীতিকপাড়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার এবং শনিবার রংপুরে প্রায় একই কায়দায় খুন হন জাপানের নাগরিক হোশি কুনিও। এই দুটি হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকাল ৯টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে খ্রিস্টান ব্যাপ্টিস্ট মিশনের যাজক লুৎ সরকারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

ঈশ্বরদীর বিমানবন্দর সড়কে ভাড়া বাসায় লুৎ সরকার প্রতিদিন সকালে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। অজ্ঞাত তিন যুবক সোমবার সকালে একটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় আসে এবং ধর্মবাণী শুনতে এসেছে বলে জানায়। তাদেরকে বসার ঘরে বসতে দেওয়া হয়। তারা একপর্যায়ে ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে লুৎ সরকারের গলায় ছুরিকাঘাত করে। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে যুবকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে লুৎ সরকারের গলায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনি আশঙ্কামুক্ত।

এই পর্যায়ে লুৎ সরকার বেঁচে গেলেন। এটা সুখের কথা। কিন্তু তাকে যারা হত্যার চেষ্টা করেছে এবং তাবেলা সিজার ও কুনিও হোশিকে যারা হত্যা করেছে তারা একই কায়দা অবলম্বন করেছে। অর্ধাৎ তাদের বাহন মোটরসাইকেল। আমরা বিভিন্ন সময়ে খবরে জেনেছি পাকিস্তানের করাচি ও অন্যান্য স্থানে দুর্বৃত্ত বা জঙ্গিরা মোটরসাইকেলে করে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। তাহলে কি বাংলাদেশেও হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানি স্টাইল চালু হয়ে গেল!

তাবেলা ও কুনিও হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, দুটি ঘটনার ধরণ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই। মধ্যপ্রাচ্যের চরমপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই দুটি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। ঈশ্বরদীতে লুৎ সরকারকে হত্যার চেষ্টা কারা করেছে তার হদিস পুলিশ পায়নি। এই হত্যা চেষ্টার দায়িত্বও কেউ স্বীকার করেনি। অন্যদিকে তাবেলা ও কুনিও হত্যাকাণ্ডের দায় আইএস স্বীকার করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্বই নেই। কিন্তু তথাকথিত আইএসের দায় স্বীকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা দাবি এবং হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সূত্রের অভাব- সব মিলিয়ে পুরো পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে সোমবার ঈশ্বরদীতে ঘটলো খ্রিস্ট ধর্মযাজক লুৎ সরকারকে হত্যার চেষ্টা।

যে কোনো হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয়। এক সপ্তাহের মধ্যে দুজন বিদেশিকে হত্যা এবং দেশের একজন যাজককে হত্যার চেষ্টার ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগের। বিদেশি মানুষের ক্ষেত্রেই হোক আর দেশের মানুষের ক্ষেত্রেই হোক, হত্যাকাণ্ড আমরা দেখতে চাই না। এ ব্যাপারে জনমত তৈরি করা প্রয়োজন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালিয়ে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার এই ‘স্টাইলের’ ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।

তাবেলা সিজার ও হোশি কুনিও দুজনই আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশের নাগরিক। তাই এই হত্যা মামলা দুটি খুবই স্পর্শকাতর। আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক, প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়ুক। মামলা দুটি যাতে কোনভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবিত না হয় সেটিই কাম্য। একই সঙ্গে আমরা আশা করব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাতে যে কোনো ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কোন ধরণের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

লেখকঃ শাহেদ হোসেন, রাইজিংবিডি

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ