১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | সন্ধ্যা ৭:৩৬
প্রশাসনের সাথে অটো-মিশুক চালকদের ইঁদুর-বিড়াল খেলা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৫ জুলাই, ২০২১, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

চলমান কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনে গতকাল রোববার (৪ জুলাই) মুন্সিগঞ্জ সদরের মুক্তারপুর সেতুর গোড়ায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

সকাল থেকে ট্রাফিক পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীরসহ ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে অবস্থান করে যানবাহন চলাচলে বিধি নিষেধ রোধকল্পে দায়িত্ব পালন করছিলো। তবে মাঝে মাঝে পুলিশ-প্রশাসনের নমনীয় আচরণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নসিমন, করিমন, ট্রলিগুলো দাবড়িয়ে বেড়াতে শুরু করে মুক্তারপুর ব্রীজে।

চেকপোষ্টের সামনে যাত্রীদের নামিয়ে অটো মিশুকগুলো মহল্লার গলির ভিতর দিয়ে আবারও যাত্রী পরিবহন অব্যাহত রেখেছে। দুপুর ২ টার পর থেকে মুক্তারপুর সেতুর গোড়ায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন যাত্রী পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করে। পুলিশের নজর এড়িয়ে তারা বেপরোয়া যাত্রী পরিবহন শুরু করে। তাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারনে লকডাউন কার্যকরে ব্যাঘাত ঘটছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

তাদের অভিযোগ, প্রধান সড়কে চেক পোষ্ট থাকায় অটো মিশুকসহ অন্যান্য যানবাহন গলির ভিতর দিয়ে চলাচল করছে। যানবাহনগুলো বেপরোয়া হওয়ার কারনে মানুষ বিভিন্ন স্থানে যেতে আগ্রহী হচ্ছে।

সরেজমিনে রোববার (৪ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী নিয়ে আসা যানবাহনগুলো পাড়া মহল্লার অলিগলির ভিতর দিয়ে চলাচল করছে। প্রধান সড়কে পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীর সামনে পড়লে তারা গাড়ী ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই সব সড়কেই চলতে শুরু করে যানবাহনগুলো।

মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিন পাশে রাস্তার দু”পাশে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে ছুটে যেতে দেখা গেছে। এছাড়াও নসিমন, করিমন, শ্যালো ইঞ্জিন চালিত অনেক যানবাহনে জরুরি খাদ্য পণ্য স্টিার লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন করতেও দেখা গেছে।

শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মুক্তারপুর, সিপাহীপাড়া, মিরকাদিমসহ বিভিন্ন দাপিয়ে বেড়িয়েছে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। পুলিশ প্রশাসনের ভালো আচররণর সুযোগটাই লকডাউনের চতুর্থ দিনে কাজে লাগিয়েছেন বেপরোয়া যানবাহনের চালকরা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে বিভিন্ন যান্ত্রিক পরিবহন ও অটো মিশুকগুলো।

প্রশাসনের সাথে তারা দিনভর ইঁদুর-বিড়ালের খেলায় মেতেছিলো। চেকপোষ্টে চালকরা আটকা পড়লেই বলতে শুরু করেন, স্যার ঘরে খাওন নেই , যাত্রীরা রিকোয়েস্ট করে আনছে, রোগী নামিয়ে দিয়ে আসলাম। আর আসবো না, গাড়ীও চালাবো না। গ্যারেজে গাড়ী রাখতে যাচ্ছিসহ নানা ধরনের মিথ্যা অযুহাত দেখান। তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার পর আবারও তারা যাত্রী পরিবহনে ব্যস্ত হয়ে উঠেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউনের চতুর্থ দিনে শহরে প্রবেশদ্বারগুলোতে মানুষ ও যানবাহনের চলাচলের মাত্র ছিলো বাড়তি। সত্য-মিথ্যা নানা অজুহাতে মানুষ শহরে ঢুকেছে এবং বের হয়েছে। গণপরিবহনগুলোতে ছিলোনা কোন জীবানুনাশক ব্যবস্থা। গাদাগাদি করে অটো মিশুকে যাত্রীরা যাতায়াত করেছে। এসব যানবাহন রাস্তায় চলাচল করায় রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। ফলে চলমান লকডাউন কার্যকরে ব্যাঘাত ঘটছে। অটো মিশুক চলাচল বন্ধ না করলে করোনার বিস্তার বাড়তে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

জেলা ট্রাফিক বিভাগের (টিআই প্রশাসন) মো. বজলুর রহমান বলেন, পুলিশের সহনীয় আচরণের কারনে আইনমানার প্রবনতা বেড়েই চলছে। দিনভর সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটরা যাত্রী এবং যানবাহনগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রন করতে হিমশিম খাচ্ছে। তবুও যানবাহনগুলোর চালকরা বেপরোয়া আচরন করছে। তারপরও আমরা এগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

error: দুঃখিত!