১০ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | রাত ১২:০৫
ঈদানন্দে সড়কে মৃত্যুর মিছিল, ঝরে গেছে ১৫৩ প্রাণ
খবরটি শেয়ার করুন:
25

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। সেই ঈদের আনন্দ কারো কারো জীবনে বিষাদে পরিণত হয়েছে। আর এবারের ঈদের সপ্তাহে সড়কেই ঝরে গেছে ১৫৩ প্রাণ। হতাহতদের বেশির ভাগই ছিলেন ঈদে ঘরমুখি যাত্রী। এর মধ্যে আজ শুক্রবারের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৮ জনের। এছাড়া গতকাল নিহত হয়েছেন ৩৭ জন, ২২ জুলাই নিহত হয় ১২ জন, ২১ জুলাই ৫ জন, ২০ জুলাই ৭ জন, ১৯ জুলাই নিহত হয়েছেন ২০ জন, ঈদের দিন অর্থাৎ ১৮ জুলাই নিহত হয় ১৫ জন, ঈদের আগের দিন ১৭ জুলাই ৯ জন, ১৬ জুলাই ১৩ জন এবং ১৫ জুলাই ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

২৪ জুলাই নিহত ১৮ জন:
শুক্রবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকার যাত্রীবাহী লেগুনা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে লেগুনা চালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও যাত্রাবাড়ীতে ট্রাকের চাপায় দু’জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে রাজধানীর খিলক্ষেতে সড়ক দুর্ঘটনায় গার্মেন্টস নাসিমা আক্তার (১৯) নামে গার্মেন্টস নারী শ্রমিকের মৃত্য হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬ টার দিকে খিলক্ষেত ফ্লাইওভারের ঢালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া কাওরান বাজারে বাসের চাপায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক সদস্য নিহত হন।

অপরদিকে মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে পাথুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া ফেনীতে ১, বরিশাল ১, শেরপুরে ১, টাঙ্গাইলে ১ ও ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১ জন করে নিহত হয়েছেন।

২৩ জুলাই নিহত হয়েছেন ৩৭ জন:
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্য স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই দিন আহত হন প্রায় শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা পাটখাগুড়ি নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে টাঙ্গাইলে আবারো সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে যায় আরও দুই প্রাণ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস খাদে পড়ে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়া গাজীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় ৮ টেম্পুযাত্রী, সিলেটে ৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ২ জন, কুমিল্লায় ২ জন, মুন্সীগঞ্জে ২ জন, মাগুরায় ২ জন, নাটোরে ১ জন, ঢাকায় ১ জন, নড়াইলে ১ জন, হবিগঞ্জে ১ জন, কিশোরগঞ্জে ১ জন, সিরাজগঞ্জে ১ জন, রাজশাহীতে ১ জন ও মৌলভীবাজারে ১ জন নিহত হয়েছেন।

২২ জুলাই নিহত হয় ১২ জন:
গত বুধবার সারাদেশে ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বগুড়ার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মামাতো-ফুফাতো ২ ভাইসহ চারজন নিহত হয়। পাবনায় বাসের ধাক্কায় মীর বদরুল আলম আলো নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় আলোর মা ও তার গাড়ির চালক গুরুতর আহত হন। বরিশালের বাকেরগঞ্জে ও বানারীপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলায় মাইক্রোবাস চাপায় অমর কৃষ্ণ দেবনাথ (৫৮) নামে এক রিকশা আরোহী নিহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন বিকেলে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চার জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

২১ জুলাই নিহত ৫ জন:
ওইদিন সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর পশ্চিম ঢালে বাউশিয়া এলাকায় তিনটি বাসের সংঘর্ষে ৬৫ বছরের এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয় অন্তত ৩০ জন। গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভবানিপুর বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হন। সকালে অপর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার জলপাইতলা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক পথচারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর জনতার বিক্ষোভে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কে বাস চলাচল কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকে।

গত মঙ্গলবার সকালে স্বরূপকাঠি-বরিশাল সড়কের মাগুরা গ্রামের বেইলি সেতু পার হওয়ার সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক এক নারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এছাড়া ওইদিন সকাল ৮টার দিকে দিনাজপুর জেলা শহরের ৮নং উপশহরের রেলক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে বাদশা নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।

২০ জুলাই নিহত ৭ জন:
ওইদিন সবচেয়ে বড় সড়ক দুর্ঘটনাটি হয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার রাগামারা নামকস্থানে। ২০ জুলাই বিকেলে প্রাইভেটকার ও বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চিকিৎসক ও তার মেয়েসহ মারা যায় ৩ জন। এ সময় আহত হয় প্রাইভেটকারের চালকসহ আরো ২ জন।

এছাড়া নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের আশুলিয়া থানাধীন পল্লীবিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ডে দ্রুতগামী বাস চাপায় এক বৃদ্ধ নিহত হন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মালবাহী একটি মাইক্রোবাস চাপায় মাহবুবুর রহমান বাবলু (২৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী মারা যান। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিলয় (১৬) নামে দশম শ্রেণীর এক মেধাবী ছাত্র নিহত হয়। এছাড়া শিবচরে যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাস খাদে পড়ে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়।

১৯ জুলাই নিহত হয়েছেন ২০ জন:
১৯ জুলাই রোববার সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২০ জন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে শুধু সিরাজগঞ্জেই দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয় অন্তত ১৭ জন। রোববার ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সংযোগ মহাসড়কের সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মূলিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে।

বকশীগঞ্জে ইঞ্জিনচালিত ভটভটি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাসুদ (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। রোববার রাত ৯টায় পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার গাঙ্গুহাটী নামক স্থানে পাবনাগামী কোচের সঙ্গে কাশিনাথপুরগামী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ঈদের দিন কুড়িগ্রামে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আলিয়া মাদরাসার প্রভাষক মিনহাজুল ইসলাম (৩৫) হন। রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

১৮ জুলাই নিহত হয় ১৫ জন:
ঈদের দিন শনিবার কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। জেলার বুড়িচং, চান্দিনা ও লাকসামে পৃথক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের দিন নড়াইলের কালিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চাচী ও ভাতিজি নিহত হয়েছেন। বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। ওইদিন পটুয়াখালী সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হন। একই জেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার কুটুম্বপুরে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে বাসচাপা পড়ে এক পথচারীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। একই দিনে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মশিউর রহমান (২৩) নামে মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হন। এছাড়া ওই দিন দুপুরে বগুড়ায় গোকূলনাথ এলাকায় একটি ট্রাক সামনে থাকা মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মারা যান দুই মোটরসাইকেল আরোহী। এছাড়া বাগেরহাট পৌর শহরের রেলরোড এলাকায় মাইক্রোবাস চাপায় দু-পা বিকলাঙ্গ একজন প্রতিবন্ধী এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট সড়কের কাটাবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়।

১৭ জুলাই নিহত ৯ জন:
ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ১৭ জুলাই শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বানিয়াগাতী ৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ছয়জন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৮ জন। পোশাক কর্মীবাহী অন্নি এন্টারপ্রাইজের একটি বাস গাজীপুর থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার পথে বানিয়াগাতীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে চার এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নারায়াণপুরের গাবতলা এলাকায় দু’টি মাহেন্দ্র আলফার (টেম্পো) মুখোমুখি সংঘর্ষে নুরুন্নাহার বেগম (৩০) নামে এক নারী নিহত হয়। এতে আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দোগাছি এলাকার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এছাড়া বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গুয়াচিত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী মারা যান।

১৬ জুলাই নিহত হয় ১৩ জন:
সারাদেশে গত ১৬ জুলাই পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশা খালে পড়ে শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন ও সিরাজগঞ্জে মুলিবাড়ি রেল ক্রসিং এলাকায় বাসের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ একই পরিবারের ৩ মোটরসাইকেল আরোহী মারা যায়। ওইদিন চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের জোড়ারগঞ্জ থানার মাঈনউদ্দিন ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে দুইজন নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ছয়জন। বৃহস্পতিবার রাতে পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া কিশোরগঞ্জে ৩ জন, রাজবাড়ীতে ১ জন ও গাজীপুরে ১ জন করে নিহত হয় ঈদের দুইদিন আগে।

১৫ জুলাই নিহত হয় ১৭ জন:
দেশের বিভিন্ন স্থানে ওইদিন সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৭ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ জন, গাজীপুরে ৩, ফেনীতে ২ ও কক্সবাজারে ২ জন করে নিহত হয়। এতে আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন।