৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | রাত ২:৫৯
শিমুলিয়ায় স্পিডবোট বাণিজ্য: প্রতি ট্রিপে লাভ ৫ হাজার টাকা, ভাগ যায় সবার পকেটে

খবরটি শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

মুন্সিগঞ্জ, ৪ মে, ২০২১, প্রধান প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

সারাদেশে চলমান লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও স্পিডবোট চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে আগ্রহী দেখা যায়নি কোন পক্ষকেই। আর করোনার সুযোগে অতি লাভজনক স্পিডবোট ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠেন আরও বেপরোয়া। ১৫০ টাকার ভাড়া লকডাউনের শুরু থেকেই আদায় করা হচ্ছিলো ২৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত।

গতকাল মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি স্পিডবোট দূর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় আসছে স্পিডবোট বাণিজ্য ও নৈরাজ্য নিয়ে। তবে সারাবছরই শিমুলিয়া ঘাটে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে চলে এই নৈরাজ্য। যানটিকে সব পক্ষই পদ্মা নদীতে চলাচলের অনুপযোগী বললেও এর সুষ্ঠ তদারকি বা এর চলাচল ঠেকাতে কখনোই কোন কতৃপক্ষের বিশেষ কার্যত কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। সারাবছর ঘাট কতৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ-প্রশাসন অনেকটা দেখেও না দেখার ভান করে। এ নিয়ে একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ ছিলো না কখনোই।

জানা যায়, একটি ছোট সাইজের স্পিডবোটের ধারণক্ষমতা ১০ জন, মাঝারি সাইজের স্পিডবোটের ১৫ জন ও বড় সাইজের স্পিডবোটের  ২০ জন। কিন্তু যাত্রী উঠানো হয় যথাক্রমে ২০জন, ৩০জন, ৩৫-৪০ জন পর্যন্ত। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি রুটে একজন যাত্রীর কাছ থেকে লকডাউনের সময়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছিলো ২৫০-৩০০ টাকা করে। সেই হিসাবে একটি বড় সাইজের স্পিডবোটে ৩০ জন যাত্রী উঠালে ২৫০ টাকা করে ভাড়া আদায় করলে প্রতি ট্রিপে আসে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে এক ট্রিপ দিতে বড় স্পিডবোটের একবারে তেল খরচঁ হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর ছোট ও মাঝারিগুলোর ৭০০-৯০০ টাকা।

সাধারণ সময়ে একজন যাত্রী স্পিডবোটে উঠলে ইজারাদার কে দিতে হয় ২০-৩০ টাকা। আর চলমান লকডাউনের সময় দিতে হয় জনপ্রতি ৫০-১০০ টাকা। অর্থাৎ লকডাউনের এই সময়ে একটি বড় স্পিডবোটে ৩০ জন যাত্রী পার করতে একটি স্পিডবোটের খরচ প্রায় ২৭০০ টাকা। আর লাভ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্পিডবোটের চালক জানান, ঘাট ইজারাদার প্রতিজনের কাছ থেকে যে ৫০-১০০ টাকা করে আদায় করে তার ভাগ যায় নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ’র অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে।

স্পিডবোট বাণিজ্য ও ঘাটের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম বলেন, কিভাবে স্পিডবোট চলে তা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। এসব দেখার জন্য নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ আছে। ঘাট বর্তমানে যেহেতু বন্ধ। তাই ইজারা আদায়ের ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।

মূলত শিমুলিয়া ঘাটের সাবেক ইজারাদার লৌহজং উপজেলার মেদিনিমন্ডল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান গত কয়েকবছর ধরেই শিমুলিয়া ঘাট নিয়ন্ত্রণ করেন। গতবার ইজারায় রাজস্ব জটিলতায় তার নাম সমস্যার সৃষ্টি হলে তিনিই তার আপন ভাই শাহ আলমের নামে ইজারা নেন।

মাওয়া নৌ-পুলিশ ইনচার্জ সিরাজুল কবির বলেন, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটের স্পীডবোট ও চালকদের অধিকাংশরই কোন লাইসেন্স নেই। চালকদের প্রশিক্ষণ নাই। এগুলো দেখভাল করার দায়িত্ব একমাত্র বিআইডাব্লিউটিএ’র। তারাই নির্ধারণ করবে কোন চালক বোট চালাবে, তার কোন লাইসেন্স আছে কিনা, ভাড়া আর যাত্রী কত নিবে। নৌ-পুলিশ শুধু মাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখে।

বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের সহকারি পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) শাহাদাত হোসেন বলেন, এই রুটে যে স্পিডবোটগুলো চলে সেগুলোর নিবন্ধন নেই। বিআইডব্লিউটিএর জনবল সংকট রয়েছে। ঘাটের বাইরের সমস্যাগুলো দেখভালের জন্য জনবল নেই। তাছাড়া এসব স্পিডবোট চলাচলের জন্য মূলত ঘাটের ইজারাদাররাই দায়ী।

error: দুঃখিত!