২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার | সকাল ১১:১৭
বিক্রমপুরের বানর গ্রাম! (ভিডিওসহ)
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

প্রাকৃতিক বানরের চারণ ভূমি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালি ইউনিয়নের খারহা গ্রামের আখড়া বাড়ি।

অন্যভাবে বলতে গেলে মুন্সিগঞ্জের সীমানার শেষ গ্রাম এটি৷ এরপরই শুরু হয়েছে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা।

নির্জন পরিবেশের কারনে প্রাকৃতিক বানরের চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

নির্জন পরিবেশে অবস্থিত এই গ্রামটিতে ঢুকতেই চোখে পড়বে খাটোলেজি ও রেসাস বা লাল জাতের অসংখ্য বানরের বিচরণ।

চারদিকে গাছপালা পরিবেষ্টিত এ এলাকা পশুপাখির কলকাকলিতে চারদিক মুখরিত। হাটে-মাঠে, বাসা-বাড়িতে মানুষ আর অসংখ্য প্রাকৃতিক বানরের একসাথেই বসবাস। বিভিন্ন ধরনের মনোমুদ্ধকর আচরণ ও অঙ্গভঙ্গী দিয়ে এই বানরগুলো মানুষকে দিচ্ছে নির্মল বিনোদন।

বাড়ির উঠানে বানরের দল। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

দিনভর এই বানরগুলো এ ডাল থেকে ও ডাল, এই উঠোন থেকে ঐ উঠোন। কিংবা বাসা বাড়ির চালে, কখনো দেখা গেলো মানুষের সাথে আড্ডায়ই বসে গেছেন তারা। আর রাতে বানররা আশ্রয় নিচ্ছে বিভিন্ন গাছের ডালে।

গাছের ডালে ঝুলে নিজেদের টিকে থাকার সক্ষমতা দেখাচ্ছে একটি বানর। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

প্রাচীণ বিক্রমপুরের বিভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্য সংবলিত বই-পুস্তকে বিক্রমপুরের প্রাকৃতিক রুপ-বৈচিত্রের যে ধারণা পাওয়া যায় তার সবটুকুই যেন আছে এই এলাকার পরিবেশ ও প্রকৃতিতে।

বানর কি খায়? প্রাকৃতিক খাবারই বানরের বেশি পছন্দ। তবে মানুষের হাত থেকে বিস্কুট ও কলা খেতে বেশি পছন্দ করে বানর। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

লোকালয়ের বানর খাবারের অভাবে মারা যাচ্ছে। এই খবরে সরকারী একটি প্রকল্প থেকে বানরদের খাবার সরবরাহ করা হয় ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত। যথেচ্ছ খাবার দেওয়ার ফলে বানরের দ্রুত বংশবিস্তার ঘটে। ফলে বানরের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায়। তাই হঠাৎ যখন খাবার দেওয়া বন্ধ করা হয় তখন বানর মানুষে দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়।

পরিবেশ ও মানুষের বাড়ি-ঘর সব যেন নিজের মত করে আপন করে নিয়েছে বানরগুলো। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই বানরগুলোর আচরণে পরিবর্তন আসছে। দিনকেদিন তারা মানুষের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন।

পরম মমতায় সন্তানকে আগলে রেখেছে নিজের বুকের মধ্যে। যেন ভালোবাসার উৎকৃষ্ট প্রদর্শন। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

স্থানীয়রা বলছেন, এই এলাকায় বানরের বসবাস অর্ধশত বছরেরও প্রাচীন।

পরিবেশের অনুকূল পরিবেশ ও নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা গেলে বংশবিস্তার করতে সক্ষম বানরগুলো। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

মুন্সিগঞ্জ সহ আশেপাশের এলাকা থেকে অনেকেই আসছেন বানর দর্শনে।

তারা বলছেন, বানরের প্রতি নৈতিক ও মানবীয় আচরণের মাধ্যমে বানরদের জীবনকে মধুর ও আনন্দময়ী করে এই এলাকাটিকে যথোপযুক্ত উপায়ে পর্যটন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত করে মুল্যবান সম্পদে পরিণত করা যায়। এর জন্য থাইল্যান্ড একটি অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। প্রাচীন ধর্ম বিশ্বাস, ঐতিহ্য, স্থাপত্যশৈলী, প্রাগৈতিহাসিক কাহিণী প্রভৃতির সংমিশ্রন ঘটিয়ে স্থানীয় অধিবাসী নর ও বানরকে সম্পৃক্ত করে ও একইসাথে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমন্বিত উপায়ে একত্রিত করে পর্যটন শীল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব

error: দুঃখিত!