বিক্রমপুরের বানর গ্রাম! (ভিডিওসহ)
মুন্সিগঞ্জ, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)
প্রাকৃতিক বানরের চারণ ভূমি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালি ইউনিয়নের খারহা গ্রামের আখড়া বাড়ি।
অন্যভাবে বলতে গেলে মুন্সিগঞ্জের সীমানার শেষ গ্রাম এটি৷ এরপরই শুরু হয়েছে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা।

নির্জন পরিবেশে অবস্থিত এই গ্রামটিতে ঢুকতেই চোখে পড়বে খাটোলেজি ও রেসাস বা লাল জাতের অসংখ্য বানরের বিচরণ।
চারদিকে গাছপালা পরিবেষ্টিত এ এলাকা পশুপাখির কলকাকলিতে চারদিক মুখরিত। হাটে-মাঠে, বাসা-বাড়িতে মানুষ আর অসংখ্য প্রাকৃতিক বানরের একসাথেই বসবাস। বিভিন্ন ধরনের মনোমুদ্ধকর আচরণ ও অঙ্গভঙ্গী দিয়ে এই বানরগুলো মানুষকে দিচ্ছে নির্মল বিনোদন।

দিনভর এই বানরগুলো এ ডাল থেকে ও ডাল, এই উঠোন থেকে ঐ উঠোন। কিংবা বাসা বাড়ির চালে, কখনো দেখা গেলো মানুষের সাথে আড্ডায়ই বসে গেছেন তারা। আর রাতে বানররা আশ্রয় নিচ্ছে বিভিন্ন গাছের ডালে।

প্রাচীণ বিক্রমপুরের বিভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্য সংবলিত বই-পুস্তকে বিক্রমপুরের প্রাকৃতিক রুপ-বৈচিত্রের যে ধারণা পাওয়া যায় তার সবটুকুই যেন আছে এই এলাকার পরিবেশ ও প্রকৃতিতে।

লোকালয়ের বানর খাবারের অভাবে মারা যাচ্ছে। এই খবরে সরকারী একটি প্রকল্প থেকে বানরদের খাবার সরবরাহ করা হয় ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত। যথেচ্ছ খাবার দেওয়ার ফলে বানরের দ্রুত বংশবিস্তার ঘটে। ফলে বানরের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায়। তাই হঠাৎ যখন খাবার দেওয়া বন্ধ করা হয় তখন বানর মানুষে দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই বানরগুলোর আচরণে পরিবর্তন আসছে। দিনকেদিন তারা মানুষের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই এলাকায় বানরের বসবাস অর্ধশত বছরেরও প্রাচীন।

মুন্সিগঞ্জ সহ আশেপাশের এলাকা থেকে অনেকেই আসছেন বানর দর্শনে।
তারা বলছেন, বানরের প্রতি নৈতিক ও মানবীয় আচরণের মাধ্যমে বানরদের জীবনকে মধুর ও আনন্দময়ী করে এই এলাকাটিকে যথোপযুক্ত উপায়ে পর্যটন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত করে মুল্যবান সম্পদে পরিণত করা যায়। এর জন্য থাইল্যান্ড একটি অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। প্রাচীন ধর্ম বিশ্বাস, ঐতিহ্য, স্থাপত্যশৈলী, প্রাগৈতিহাসিক কাহিণী প্রভৃতির সংমিশ্রন ঘটিয়ে স্থানীয় অধিবাসী নর ও বানরকে সম্পৃক্ত করে ও একইসাথে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমন্বিত উপায়ে একত্রিত করে পর্যটন শীল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব


