১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | রাত ১:৩৩
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
ইদ্রাকপুর কেল্লায় দর্শনার্থী বাড়ছে
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১১ মে, ২০২২, সাজ্জাদ হোসেন (আমার বিক্রমপুর)

টিকিট ব্যবস্থা চালুর আগে মুন্সিগঞ্জ শহরের কোর্টগাও এলাকার ইদ্রাকপুর কেল্লা দেখতে তেমন আগ্রহ ছিলনা দর্শনার্থীদের। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা কম ছিল। কিন্তু টিকিট ব্যবস্থা চালুর পর ইদ্রাকপুর দুর্গ/কেল্লা দেখতে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, গত ৩৭ দিনে টিকিট কেটে ৬ হাজার ৮৩৯ জন দর্শনার্থী ইদ্রাকপুর দুর্গ পরিদর্শন করেছেন।

এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক দেশী দর্শক ৪ হাজার ৩৩৮জন ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী দুই হাজার ৫০১ জন। আর এতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৮৮৫ টাকা।

১৯ মার্চ টিকিট চালুর পর ১২ দিনে দুইহাজার দর্শনার্থী পরিদর্শনে আসেন। এতে ১৬ হাজার ২১৫ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। তারপর এপ্রিল মাসে ৩ হাজার ১৮৯ জন দর্শক পরিদর্শন করে। এতে রাজস্ব আদায় হয় ২৪ হাজার ৪০৫ টাকা। চলতি মাসের ৯ মে পর্যন্ত এক হাজার ৬৫০ জন দর্শক আসে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ২৬৫ টাকা।

টিকিট ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর টিকিট ব্যবস্থা চালু হয়। জাদুঘর চালু হয় একই সময়ে। ইদ্রাকপুর দুর্গ জাদুঘরের ভিতর বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও জেলার বিভিন্নঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ছবি প্রদর্শন করা আছে। এসব দেখতে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। দুর্গের আশেপাশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা দেখতে আসেন।

মুন্সিগঞ্জ হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সিফাত হোসেন জানান, ইদ্রাকপুর দুর্গ এখন দেখতে খুব সুন্দর লাগে। ভিতরের পরিবেশ আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। তাছাড়া জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে পাঠ্য পুস্তকের বাহিরে বাড়তি জ্ঞান অর্জনকরা যায়।বন্ধুদের সাথে নিয়ে দুর্গ ঘুড়তে আনন্দ লাগে। স্থানীয় দোকানদার দেলোয়ার হোসেন জানান, টিকিট ব্যবস্থা চালুর পর মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেশি মানুষের ভিড় হয়। তাছাড়া ঈদেও অনেক মানুষ দুর্গ দেখতে এসেছিল।

ইদ্রাকপুর দুর্গের দায়িত্বরত ইনচার্জ ওমর ফারুক জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা আরও বাড়বে। বর্তমানে দর্শনার্থীর পরিদর্শনের হার অনুযায়ী আমরা সন্তুষ্ট। দৈনিক প্রায় ২ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয় এখনও অনেক মানুষজন জানেন না। প্রচার প্রচারণা বৃদ্ধি পেলে দর্শক বাড়বে। শিক্ষার্থী ও দেশী দর্শকের সংখ্যাই বেশি। এ পর্যন্ত বিদেশী পর্যটকআসেননি।

তিনি জানান, দুর্গের ভিতরে থাকা পুকুরটির সৌন্দর্য্য বর্ধনের পরিকল্পনা আছে। তাছাড়া চারপাশে সীমানা প্রাচীর হবে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ইদ্রাকপুর কেল্লায় ঢুকতে দেশি দর্শকের জন্য টিকেটমূল্য ১০ টাকা, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্কভুক্ত বিদেশী দর্শক ২৫ টাকা ও সার্কভুক্ত ব্যতীত বিদেশী দর্শকদের জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। ১ এপ্রিল হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সময়ে মঙ্গলবার হতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত। এর মধ্যে দুপুর ১টা থেকে ৩০ মিনিটের বিরতি। সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত ও শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত। এর মধ্যে বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে দুপুর ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি।

অন্যদিকে, ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শীতকালীন সময়ে মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১ টা থেকে ৩০ মিনিটের বিরতি। সোমবার ১ টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ও শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিরতি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববার পূর্ণদিবস ও সোমবার অর্ধদিবস। প্রতি জাতীয় দিবসে খোলা এবং পরের দিন বন্ধ থাকবে।

error: দুঃখিত!