মুন্সিগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো (দেখে নিন কোথায় কিভাবে যাবেন)
মুন্সিগঞ্জ, ২৩ এপ্রিল ২০২৩, আমার বিক্রমপুর ডেস্ক (আমার বিক্রমপুর) প্রাচীনকাল তথা খ্রিস্টীয় দশ শতকের শুরু থেকে তেরো শতকের প্রথম পর্যন্ত চন্দ্র, বর্মন ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল মুন্সিগঞ্জ জেলা।সেই সুবাদে এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান, অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান, রাজা শ্রীনাথের বাড়ি, রামপালে বাবা আদমের মসজিদ, হাসারার দরগা, সোনারং জোড়া মঠ, ইদ্রাকপুর কেল্লা, রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি, শ্যামসিদ্ধির মঠ, শুলপুরের গির্জা, মেঘনা ভিলেজ ইত্যাদি সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র মুন্সিগঞ্জ জেলাকে করেছে আরো আকর্ষনীয়। মুন্সিগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে একটি গাইড দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের সকল তথ্য ও ছবি সংগৃহীত। সেক্ষেত্রে...
333
প্রাচীনকাল তথা খ্রিস্টীয় দশ শতকের শুরু থেকে তেরো শতকের প্রথম পর্যন্ত চন্দ্র, বর্মন ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল মুন্সিগঞ্জ জেলা।সেই সুবাদে এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা।
জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান, অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান, রাজা শ্রীনাথের বাড়ি, রামপালে বাবা আদমের মসজিদ, হাসারার দরগা, সোনারং জোড়া মঠ, ইদ্রাকপুর কেল্লা, রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি, শ্যামসিদ্ধির মঠ, শুলপুরের গির্জা, মেঘনা ভিলেজ ইত্যাদি সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র মুন্সিগঞ্জ জেলাকে করেছে আরো আকর্ষনীয়।
মুন্সিগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে একটি গাইড দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের সকল তথ্য ও ছবি সংগৃহীত। সেক্ষেত্রে কোন কোন জায়গায় ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। যদি কেউ ভূল সংশোধনের জন্য ‘আমার বিক্রমপুর’ এর কাছে অনুরোধ পাঠাতে চান তাহলে bikrampuramar@gmail.com ইমেইলটি ব্যবহার করুন।
মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়নগঞ্জ পার হওয়ার পর এক কিলোমিটারের মধ্যে রাস্তার ডান পাশে (ঢাকা থেকে গেলে) ৩০ বিঘা জমির উপর ফুল ফল বৃক্ষশোভিত এক অন্যন্য বিনোদন কেন্দ্র মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট। মেঘনা ব্রিজ পার হওয়ার পরই দেখা পাবেন রাস্তার পাশে। প্রথমে দেখতে পাবেন কয়েকটি হাতি, বাঘ ও হরিণ এর ভাস্কর্য তারপর প্রধান ফটক। এর প্রবেশ পথেই আপনাকে একটি ডাইনোসর এর ভাস্কর্য স্বাগত জানাবে ও তার সাথে লেখা ফলকে পরিবেশ বিষয়ক বার্তা দেবে। প্রবেশ পথ পেরিয়ে শান্ত ছিমছাম পরিবেশ। চারপাশের বাতাসে পাখির কলতান। গ্রামের মতোই সবুজ শ্যামল অপরূপ মায়াবী। কুটিরগুলো দেখতে অনেকটা নেপালি ঢঙের। গ্রামের মায়া ছেড়ে যাদের জীবন কর্মচঞ্চল শহরের গণ্ডিতে আটকা, তারা চাইলে রাতে আরাম কেদারায় বসে চাঁদনী দেখতে দেখতে ফিরে যেতে পারেন হারিয়ে যাওয়া কোনো শৈশব স্মৃতিতে। বিনোদন ও অবকাশ যাপনের জন্য রাজধানীর কাছেই মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় এ ভ্রমণতীর্থ মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট (Meghna Village Holiday Resort)।
প্রবেশ মুখে ও অভ্যন্তরে দেখা মিলবে শিশুদের উপভোগ্য হাতির পাল, যুদ্ধরত ষাঁড়, ভল্লুক, বিশাল ডাইনোসর, বাঘ, হরিণ, সাপ-বেজির লড়াই, রাজহংসী, বাচ্চাসহ জিরাফের ভাস্কর্য, রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানাও। চিত্রা হরিণ, বানর, লজ্জাবতী হনুমান, কালিম পাখি, খরগোশ, কোয়েল পাখি ও কুমির কী নেই এখানে।
বিনোদন ও অবকাশযাপনে পরিপূর্ণ আনন্দ পেতে আগতদের জন্য রয়েছে ফটোগ্রাফি, চিকিত্সা, লন্ড্রি, সুভ্যেনির শপ, নিজস্ব গাড়ি, বাংলা ও চাইনিজ খাবার, পিকনিক, বারবিকিউ ডিনারের ব্যবস্থা। শরীরটাকে একটু ঝালাই করে নিতে এর রয়েছে সুবিশাল দুটি খেলার মাঠ। তাই ব্যাট বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে পারবেন নির্দ্বিধায়। যারা মাছ ধরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে মাছ ধরার ব্যবস্থাও। এমনকি নিজের ধরা মাছও তত্ক্ষণাত্ ঝলসে নিয়ে উদরপূর্তির সুযোগও আছে।
বিনোদনের নানা আয়োজনে ঠাসা এই রিসোর্টটিতে রয়েছে পেন্ডুলাম পাইরেট শিপ, প্যাডেল বোট, নাগরদোলা, মেরিগো রাউন্ড, সাইকেল চালনা, ব্যাটারী কার ও মিকি মাউস বাইক। এগুলো ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা ফি এর বিনিময়ে। এছাড়া এখানে সংরক্ষিত কুমির, মিনি ছিড়িয়াখানার পাখি ও জীবজন্তু দেখা আর বিশেষ সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ গান দেখার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। তাদের রয়েছে নিজস্ব জামদানী তাঁত ও সবজি ক্ষেত। যেকেউ চাইলে এগুলো কিনতেও পারেন আবার ঘুরে দেখতে পারেন। প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখার জন্য কোনো ফি নেই।
অন্যান্য সুযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০টি এসি/ নন এসি কটেজ। কটেজগুলোর সামনে ফুলশোভিত বাগান। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরা ও মেইলিস ডাইনিং, রয়েছে খেলার মাঠ এবং মাছ ধরার জন্য দুটো পুকুর। মেঘনা ভিলেজ রিসোর্ট এর নতুন সংযোজন ৩ডি সিনেপ্লেক্স যার ধারন ক্ষমতা ২০ জন। টিকেটের দাম মাত্র ৩০ টাকা। মেঘনা ভিলেজ এর খুব কাছেই আছে সোনারগাঁ জাদুঘর, তাজমহল, কুমিল্লার কোটবাড়ী।
টিকেট মূল্য- প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যে ৫০ টাকা এবং বাচ্চাদের জন্যে ১০ টাকা।
মেঘনা ভিলেজ কিভাবে যাবেন- ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে যেতে হবে কাঁচপুর ব্রিজ। সেখান থেকে সোজা সোনারগাঁ হয়ে মেঘনা ব্রিজ। মেঘনা ব্রীজ পার হয়ে বালুকান্দি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাম দিকের পথ ধরে ১ কিলোমিটার এগুলেই মেঘনা ভিলেজ রিসোর্ট এর দেখা মিলবে। এছাড়া আপনি চাইলে রিসোর্টের নিজস্ব গাড়িতে করেও রিসোর্টে যেতে পারবেন। সেজন্য ১,৫০০+ টাকা খরচ পড়বে।
বুকিং এর জন্যে যোগাযোগ- অগ্রিম বুকিং করতে চাইলে – ০১৭১২২০৩৩৩৬। বিস্তারিত তথ্যের জন্য – ০১৭১৮৪৭১৯৬১, ০১৮১৭ ১০৪১২৬।
ঢাকা থেকে বুকিং দিতে চাইলে: সুইট – ৫১২এ, লেভেল ৫, ইব্রাহিম ম্যানশন, ১১ পুরানা পল্টন, ঢাকা। ফোন: ০২-৯৫৭০৭৮২, ০১৫৫২-৩০৮৮৪৯, ০১৫৫২-৩৩৩৫৬৩, ০১৭১৮৪৭১৯৬১ (রিসোর্ট)
ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি
মূলত ভাগ্যকুলের জমিদারদের অনেকগুলো বাড়ির মধ্যে একমাত্র টিকে থাকা বাড়িটি বান্দুরায় অবস্থিত। ভাগ্যকুলের এই জমিদার বাড়িটি বানিয়েছিলেন জমিদার যদুনাথ সাহা। দ্বিতল বাড়ীর সামনে রয়েছে আটটি বিশাল থাম, দেখতে অনেকটা মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ীর মত। ভবনটির চারিদিকেই এমন থাম বিশিষ্ট এই স্থ্যাপত্যটি গ্রীক স্থাপত্যের ঘরনায় নির্মিত। ভবনের ভেতরে নকশা-সাপ, ময়ূর, ফুল, পাখি সহ নানান নকশা রয়েছে। পুরো জমিদার বাড়ীর আঙ্গিনা জুড়ে ভবন, মাঝে উঠোন। এই জমিদার বাড়ী এর দরজা এবং জানালা একই মাপের, মানে উচ্চতার। ফলে কপাট বদ্ধ অবস্থায়, কোনটি দরজা, কোনটি জানালা বুঝা দায়। একতলা থেকে দোতলায় যাওয়ার সিঁড়িটি কাঠের তৈরি। এই জমিদার বাড়ীটি বান্দুরায় অবস্থিত। জমিদার বাড়ীর সামনে রয়েছে “নবকুঠি”, এটি মূলত গদিঘর ছিল।
এই জমিদার বাড়ীটি আনুমানিক ১৯২০ সালের আগে পড়ে নির্মাণ করা হয়। যদুনাথ সাহার ছিল পাঁচ ছেলেমেয়ে। এদেরকে পৃথক পৃথক বাড়ী নির্মাণ করে দেন জমিদার যদুনাথ, যেগুলো বান্দুরা’র কোকিলপেয়ারি জমিদার বাড়ী, উকিল বাড়ী, জজ বাড়ী নামে পরিচিত রয়েছে।
ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন- ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জ হয়ে কলাকোপা-বান্দুরা যাওয়া যায়। দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। গুলিস্তান থেকে ঢাকা-দোহার রুটের ‘মহানগর’, ‘গরিবে নেওয়াজ’, ‘সেবা’ কিংবা ‘আরাম’ পরিবহনের বাসে বালাসুর বাজারে নেমে রিকশায় ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি যাওয়া যায়। মাত্র শখানেক গজের মধ্যে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে সবকয়টি ভবন। ভাড়া সব মিলিয়ে ৭০ টাকা। আপনি যে কোন এক ছুটির দিনে স্বপরিবারে বেড়িয়ে আসতে পারেন এই চমৎকার জায়গাটি হতে, আশা করি আপনার ভালই লাগবে।
ইদ্রাকপুর কেল্লা
মুন্সিগঞ্জ (Munshiganj) শহরের প্রাণ কেন্দ্রে ইদ্রাকপুর কেল্লা অবস্থিত। মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে সেনাপতি ও বাংলার সুবেদার মীর জুমলা কর্তৃক ১৬৬০ সালে বিক্রমপুরের এই অঞ্চলে ইদ্রাকপুর কেল্লা নামে এই দূর্গটি নির্মিত হয়। মগ জলদস্যু ও পর্তুগীজদের আক্রমন হতে এলাকাকে রক্ষা করার জন্য এই দূর্গটি নির্মিত হয়। বহু উচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত এই গোলাকার দূর্গটি এলাকায় এস.ডি.ও কুঠি হিসাবে পরিচিত।শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাখতে সারিবদ্ধভাবে হাড়ি রেখে ইদ্রাকপুর কেল্লার উপরের অংশে কুঠিরের মেঝে তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কথিত আছে, এ গুপ্ত পথ দিয়ে লালবাগ কেল্লায় যাওয়া যেত। তবেএর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে গুপ্ত পথ দিয়ে লালবাগ কেল্লায় নয়, অন্য কোথাওপালানো যেত। সুউচ্চ প্রাচীরবিশিষ্ট এই দুর্গের প্রত্যেক কোনায় রয়েছে একটি বৃত্তাকার বেষ্টনী। দুর্গাভ্যন্তর থেকে শত্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপের জন্য প্রাচীরের মধ্যে অসংখ্য চতুষ্কোনাকার ফোঁকর রয়েছে একমাত্র খিলানাকার দরজাটির অবস্থান উত্তর দিকে। মূল প্রাচীরের পূর্ব দেয়ালের মাঝামাঝি অংশে ৩৩ মিটার ব্যাসের একটি গোলাকার উঁচু মঞ্চ রয়েছে। দূর থেকে শত্রুর চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় প্রতি দুর্গে এই ব্যবস্থা ছিল। এই মঞ্চকে ঘিরে আর একটি অতিরিক্ত প্রাচীর মূল দেয়ালের সাথে মিলিত হয়েছে। দুর্গের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সূদৃঢ় করার জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল। কেল্লাটির তিন কিলোমিটারের মধ্যেই ইছামতী, ধলেশ্বরী, মেঘনা এবং শীতলক্ষা নদীর অবস্থান। মোঘল স্থাপত্যের একটি অনন্য কীর্তি হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।
ইদ্রাকপুর কেল্লা কিভাবে যাবেন- মুন্সিগঞ্জ সদর এর কাছে পুরাতন কোর্ট অফিস সংলগ্ন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে “দিঘীরপাড় ট্রান্সপোর্ট” এর মাধ্যমে মুক্তারপুর আসা যায়। মুক্তারপুর থেকে অটো রিক্সায় ১৫ টাকা (জন প্রতি) বা রিক্সা যোগে ৩০-৪০ টাকায় ইদ্রাকপুরের কেল্লায় যাওয়া যায়।
হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ
মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রামপাল গ্রামের নিকটস্থ কাজী কসবা গ্রামে সুলতানী আমলের ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ অবস্থিত। এর কয়েক গজ পূর্বে একটি মাজার আছে। মাজারটি ইটের তৈরী ২৫ (পঁচিশ) ফুট বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার আয়তনের মঞ্চের উপর একটি পাকা সমাধি বিশেষ। আর মসজিদটি আয়তাকার ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এর আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪৩ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩৬ ফুট এবং চার কোণায় রয়েছে চারটি অষ্ট কোণাকৃতির বুরুজ বা মিনার। মনোরম বলয়াকারের স্ফীত রেখায় মিনারের ধাপে ধাপে অলংকরণের কাজ আছে। পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার অবতল মেহরাব। কেন্দ্রীয় মেহরাবের পেছন দিকের দেয়াল বাইরের দিকে উদগত। সামনের দেয়ালের ধনুকাকৃতির খিলানবিশিষ্ট তিনটি প্রবেশপথে আয়তাকারে নির্মিত যে সব ফ্রেম আছে তার শীর্ষ দেশে অতি সুন্দর কারুকাজ আছে। প্রধান প্রবেশ পথের দুই পাশে গভীর সমতল কুলুঙ্গী রয়েছে এবং উপরিভাগ সুন্দরভাবে খাঁজকাটা। আর তাছাড়া রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ও ঘন্টার অলংকরণ কিন্তু মসজিদে কোন বারান্দা নেই। অভ্যন্তর ভাগে গ্রানাইট পাথরের নির্মিত দুইটি স্তম্ভ আছে। এই দুইটি স্তম্ভের সাহায্যে অভ্যন্তর ভাগ পূর্ব পশ্চিমে দুই সারিতে এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। আর এই স্তম্ভ দুইটি মাঝ থেকে চার ফুট পর্যন্ত অষ্টকোণাকৃতির এবং এর পর ষোলকোণাকৃতির। এই দুইটি স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের উপর মসজিদের অর্ধবৃত্তাকার ছোট ছোট গম্বুজ ছয়টি স্থাপিত। গম্বুজ ও মসজিদের অভ্যন্তর-ভাগের মতোই পূর্ব-পশ্চিমে দুই এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত এবং এর দেয়াল অতিশয় পুরু। প্রধান মেহরাবটি এবং দুই পাশের দুই মেহরাব ও পাশের দেয়াল লতাপাতা, জ্যামিতিক নক্সা ও ও গোলাপফুল, ঝুলন্ত প্রদীপ ও শিকল প্রভৃতি পোড়ামাটির চিত্র ফলক দিয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে অলংকৃত। একটা সময়ে মসজিদের বাইরের দিক বিশেষ করে সামনের দেয়াল অতি সুন্দর পোড়ামাটির চিত্রফলক দিয়ে অলংকৃত ছিল। কিছু কিছু চিত্রফলকের কাজ কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের দুইপাশে এখনও চোখে পড়ে। কথিত আছে এক সময়ে মানত হাসিলের জন্য হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মহিলাদের দ্বারা এই মসজিদের স্তম্ভ দুইটি সিন্দুরানুলিপ্ত হয়ে রক্তবর্ণ ধারণ করেছিল। এই মসজিদটি মূলত দরগাবাড়ীর মসজিদ বা বাবা আদমের মসজিদ এবং মাজারটি বাবা আদমের দরগা নামে পরিচিত। বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ কিভাবে যাবেন- সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরুত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। তবে এই মাজারে আসার জন্য আরো ০৫ (প্রায়) কিলোমিটার ভিতরে আসতে হবে। ঢাকা হতে সকালে এসে জিয়ারত ও মসজিদ দর্শন করে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসা যাবে। সড়কপথে যেতে কষ্ট হবে না। তবে নৌপথে গেলে সময়ও বাচঁবে এবং যানজট এড়িয়ে নদী পথের সৌন্দর্য অবগাহন করে স্বাচ্ছন্দের সাথে পৌছানো যাবে। সদর ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জ গামী লঞ্চে ২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাওয়া যাবে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা হইতে রিক্সায় দরগাবাড়ি হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মাজার সংলঘ্ন মসজিদ এ যাওয়া যায়। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা।শিমুলিয়া ফেরিঘাট
যুগ যুগ ধরেই শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ইলিশের চাহিদা সর্বত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ খেতে আসেন ভোজন রসিকরা। এই বিশাল চাহিদা পূরণে শিমুলিয়া ঘাটের পাড়ে গড়ে ওঠেছে ছোট-বড় হোটেল। এছাড়া শিমুুলিয়া ঘাটে পদ্মা সেতু দেখতে দেখতে সময় কাটাতে পারেন খানিকটা। সেখানকার পরিবেশটাও বেশ মনোরম।






