২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৭:১০
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন: মাঠে শুধু আ.লীগের দুই প্রার্থী
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১ এপ্রিল, ২০২৪, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

তফসিল ঘোষণা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী ৮ মে। এখন পর্যন্ত এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন দুই প্রার্থী। এদের একজন আফছার উদ্দিন ভূইয়া ‘এমপির প্রার্থী’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আরেকজন আনিছ উজ্জামান ‘এমপির চাচা’। দুই প্রার্থীই আওয়ামী লীগের এবং বিবদমান দুই পক্ষের একই পক্ষের সমর্থক।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন থেকে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে কাঁচি প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় নেই পরাজিত প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাস। তার নেতাকর্মীদের উপর প্রতিপক্ষের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা গেল ৩ মাসেও থামেনি। এ নিয়ে আসনটির দুই থানায় (সদর-গজারিয়া) অভিযোগও পড়েছে শতাধিক।

সর্বশেষ ২৯ মার্চ নৌকার পক্ষে নির্বাচন করায় শহরের হাটলক্ষীগঞ্জে পৌর কাউন্সিলর মকবুল হোসেনের ভাই মোটর চালক লীগের সভাপতি আওলাদ হোসেনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ফলে, আসন্ন সদর উপজেলা নির্বাচনেও এই আসনের সাবেক দুইবারের এমপি মৃণাল কান্তি দাস সমর্থনপুষ্ট কোন প্রার্থী অংশ নিবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যেকারণে বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সমর্থক একটি বড় অংশ বিশেষ করে যারা সদ্য জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন তারা উপজেলাতে ভোটবিমুখ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবদমান আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের বিরোধ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘাতে রুপ নিতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আনিছ উজ্জামান ও চরকেওয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আফছার উদ্দিন ভূইয়া।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিছ উজ্জামান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের ছোট ভাই এবং মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের আপন চাচা। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি।

অন্যদিকে, আফছার উদ্দিন ভূইয়া মহিউদ্দিন-বিপ্লব অনুসারী হিসেবে দীর্ঘ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে ‘এমপি ফয়সাল বিপ্লবের প্রার্থী’ হিসেবেই তিনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তার ব্যানার-ফেস্টুন, সভা-সেমিনারে বিভিন্নজনের বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থনের বিষয়টি সকলেই তুলে ধরছেন। ফয়সাল বিপ্লব সমর্থক সদর উপজেলার অন্তত ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক-বর্তমান চেয়ারম্যান আফছার উদ্দিন ভূইয়াকে এমপি ফয়সাল বিপ্লবের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে সভা-সেমিনার বক্তব্যও দিচ্ছেন।

এদের বেশিরভাগই গত উপজেলা নির্বাচনে আনিছ উজ্জামানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে এবার তার বিরোধিতায় নেমেছেন এসব জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীরা।

এসব কারণে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এমপি ফয়সাল বিপ্লবের চাচা আনিছ উজ্জামান। আর ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন ‘এমপির প্রার্থী’ আফছার উদ্দিন ভূইয়া।

এলাকায় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এমপি বিপ্লবের সাথে তার চাচা আনিছ উজ্জামানের প্রকাশ্য কোন দ্বন্দ্ব না থাকলেও সদ্য বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনিছের দুই ছেলে আক্তারুজ্জামান রাজিব ও জালাল উদ্দিন রুমি রাজন নৌকার প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বিভিন্নস্থানে বক্তৃতায় রাজিব-রাজন তাদের চাচাতো ভাই কাঁচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিপ্লবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। শেষপর্যন্ত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল বিপ্লব নির্বাচিত হন। জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন বিপ্লবের চাচা আনিছ উজ্জামান- এমন অনুমান রয়েছে অনেকের মাঝে।

এসব বিষয় নিয়ে চাচা ও ভাইদের উপর ক্ষুব্ধ এমপি ফয়সাল বিপ্লব অনুসারীরা। তারাই বাধ্য করেছেন এমপিকে চাচার বিরোধিতায় নামতে- এমন কানাঘোষা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

তবে সবশেষে, প্রথমত এই নির্বাচনে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপির কোন প্রার্থী অংশ নিবে না। দ্বিতীয়ত সদর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে একটি পক্ষ অংশ নিবে না। ফলে, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা বলেন, সরাসরি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ নাহলে জাতীয় নির্বাচনে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সেই বিরোধ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে এবং কোথাও কোথাও বিরোধ সংঘাতে রুপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী- মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলায় নির্বাচন হবে আগামী ৮ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৭ এপ্রিল, প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল। ভোট হবে ব্যালটপেপার পদ্ধতিতে।

error: দুঃখিত!