২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | সকাল ৭:২১
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
পাঁচ বছরের তুলনায় এইচএসসির ফলাফলে অগ্রগতি হরগঙ্গার কলেজে
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, আরাফাত রায়হান সাকিব (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান বিদ্যাপীঠ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ। ইতিহাস এতিহ্য আর শিক্ষার্থীদের সাফল্যের মিশেলে এক স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। তবে মাঝে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে অনেকটা পিছিয়ে পরা প্রতিষ্ঠানটি যেনো আবারো ঘুরে দাড়াচ্ছে স্বগৌরবে।

গেল ৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে,  ২০১৮ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির যেখানে এইচএসসিতে পাসের হার ছিলো ৬০ দশমিক ৯২ ভাগ। ৫ বছরের মাথায় গতকাল বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ ২০২২ সালের এইএচএসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণের হার ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে দাড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে। উত্তীর্ণের পাশাপাশি ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায়।

২০১৮ সালে মাত্র ৭ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৭জন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পরিক্ষার্থী ছিলো ১৫৭৯ জন। সেবছর পাস করেছে ৯৬২ জন। পাসের হার ছিলো ৬০ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী। পরের বছর ২০১৯ সালে ১৭শ ৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩শ ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়। পাসের হার ছিলো ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ১৯ জন শিক্ষার্থী।

২০২০ সালে করোনাকালিন সময় জাতীয়ভাবে সবাইকে অটো-উত্তীর্ণ দেওয়া হয়। ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরিক্ষায় অংশ নেয় ১৫৬২জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয় ১৪৮৩ জন। অর্থাৎ পাসের হার বেড়ে দাড়ায় ৯৪ দশমিক ৯৪ শতাংশে। সেবছর জিপিএ-৫পায় ১৪১ জন।

সর্বশেষ ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় কলজে থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শাখার মোট ১৬০৫জন পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪২৫জন। জিপিএ-৫পেয়েছেন মোট ১৫৭জন। পরিক্ষায় অংশগ্রহনকারী মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৪১জন উত্তীর্ন ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় উত্তীর্ণ ৪৬৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে-১৬ জন। বিজ্ঞান শাখায় ৩১৫জন উত্তীর্ণ, জিপিএ-৫ পেয়েছে -৯৯ জন।

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হাই তালুকদার বলেন, ২০১৮ সালে আমি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করি। পূর্বে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছিলাম সেখানে পাসের হার ছিলো শতভাগ। ২০১৮ সালে পরিক্ষায় পাসের হার আমার কাছে সন্তোষজনক ছিলো না। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পাসের হার এতো কম, সাথে সাথেই শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করা হয়। সকল শিক্ষার্থীদের নথি উপাত্ত বের করা হয়। শিক্ষার্থীদের কোন কোন বিষয়ে সমস্যা তা চিহ্নিত করে দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করি। হয় আমাদের ব্যার্থতা না হয় শিক্ষার্থীরা পড়ায় মনযোগী নয়। যদি আমাদের ব্যার্থতা থাকে তবে সেটি আমাদের ঘোচাতে হবে, শিক্ষার্থীদের অবহেলা থাকলে তাদের সচেতন করতে হবে। এই পদক্ষেপ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, একবারেতো শতভাগ পাস হবেনা, তাই পর্যায়ক্রমে ফলাফলের ক্রম উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে আগানো হয়। সেই ক্রম উন্নতিই এখন দৃশ্যমান হয়েছে। এখন পাসের হার, জিপিএ-৫ দুটিই বেড়েছে। কলেজের অবকাঠামোরও উন্নয়ন করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। দুইটিই এগিয়ে চলছে।

error: দুঃখিত!