২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | সন্ধ্যা ৭:৫২
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
কারামুক্ত শিক্ষক হৃদয় মন্ডল
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১১ এপ্রিল, ২০২২, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলায় মুন্সিগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। জামিনের পর বিকালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

গতকাল রোববার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোতাহারাত আখতার ভুইয়া শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের জামিনের আদেশ দেন। পরে বিকাল ৪ টা ৫০ মিনিটের দিকে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্ত হন শিক্ষক হৃদয় মন্ডল।

এর আগে গত ২৮ মার্চ হৃদয় মন্ডলের পক্ষে অ্যাডভোকেট দেবদাষ মন্ডল দীপু জামিন চেয়ে নিম্ন আদালতে আবেদন করলে ঐ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ঐ আদেশের প্রেক্ষিতে আসামি পক্ষের আইনজীবী গত ৪ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামীর জামিনের জন্য ফৌজদারি মিস মামলা দায়ের করেন।

হৃদয় মন্ডলের জামিনের বিষয়ে গতকাল আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী শাহিন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ জামিন শুনানিতে অংশ নেন। আসামীর পক্ষে তার সাথে শুনানীতে অংশ নেন আরও অন্তত ১৫ জন আইনজীবি। গতকাল দুপুর ১২ টা ৫৩ মিনিটে জামিনের পক্ষে-বিপক্ষে আসামি ও বাদীপক্ষের শুনানি শুরু হয়।

বেলা ১ টা ১৭ মিনিটের দিকে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের জামিন মঞ্জুর করেন।

এসময় শিক্ষক হৃদয় মন্ডল মুন্সিগঞ্জ কারাগারে ছিলেন। তাকে আদালতে আনা হয়নি।

আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ, হৃদয় মন্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার, তার বড় ভাই বাদল হাওলাদার ও বাদীপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পল্টু।

আদালত প্রাঙ্গণে আসামি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের জামিন মঞ্জুর করায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ২২ মার্চ গ্রেপ্তারের পর ২৩ মার্চ শিক্ষক হৃদয় মন্ডলকে আদালতে আনা হলে ঐদিন জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এরপর ২৮ মার্চ জামিন চাওয়া হলে বিচারক পুনরায় তা নামঞ্জুর করেন। এ আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের পরিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি মিস মামলা দায়ের করে। এরপর গতকাল রোববার জামিন শুনানির দিন ধার্য করে আদালত। তিনি জানান, আদালত পাচঁ হাজার টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে হৃদয় মন্ডলের স্ত্রী ববিতা হালদার উচ্ছাস করে বলেন, ‘এখন আমি অনেক অনেক খুশি। আমার পরিবারের সবাই খুশি। আমি আপনাদের এই সহযোগিতা কখনো, কোনদিনও ভুলবো না। যারা যারা আমাদের জন্য করেছেন তাদের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সবার কাছে আমি ঋনী।’

পরে বিকালে জেল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল বলেন, ঠিক মতো লেখাপড়া করে না এরকম বিপথগামী কিছু ছাত্ররা এই কাজ করেছে। ওই ছাত্রদের সঙ্গে বিপথগামী কিছু শিক্ষক জড়িত আছেন। তিনি বলেন, আশেপাশে প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে কিছু শিক্ষকের যোগসাজস এখানে থাকতে পারে। তবে প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে কোন শিক্ষকরা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন তাদের নাম উল্লেখ করেননি হৃদয় মণ্ডল। কিছু শিক্ষক এর আগেও হৃদয় মণ্ডলকে ঢিল ছুঁড়েছে, দরজা ধাক্কা দিয়েছেন- এই শিক্ষকরা কারা; সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হৃদয় মণ্ডল বলেন, এর আগেও আক্রমণের শিকার হলেও আমি তাদের দেখতে পাইনি। ঘটনার দিন ক্লাসে কি হয়েছিল জানতে চাইলে হৃদয় মণ্ডল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওইদিন আমি বিজ্ঞান পড়াচ্ছিলাম। কিন্তু কিছু ছাত্র ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় উল্লেখ করে আমাকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছিল।’

হৃদয় মণ্ডল বলেন, ছাত্ররা যে মোবাইলে কথা রেকর্ড করছিল তা বুঝতে পারিনি। শেষে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক হৃদয় মন্ডল (৫৪)

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শিকারপুর এলাকার মৃত নন্দ লাল মন্ডলের ছেলে। গত ২০ বছর ধরে তিনি বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিজ্ঞান ও গণিত দুই বিষয়েই সে বেশ অভিজ্ঞ।

হৃদয় মন্ডলের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ম অবমাননার মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মার্চ দুপুর ৩ টা’র দিকে স্কুলটির ২য় তলার ২০৯নং কক্ষে দশম শ্রেণীর খ শাখার ক্লাস রুমে বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নেয়ার সময় তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের অভিযোগ করে স্কুলের কয়েকজন ছাত্র। এর ২ দিন পর ২২ মার্চ হঠাৎ করেই উত্তেজনা শুরু হয় স্কুলটিতে। ক্লাস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষক হৃদয়কে আটকের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষক হৃদয় মন্ডলকে থানায় নিয়ে যায়।

ঐদিনই মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি (ইলেক্ট্রিশিয়ান) বিনোদপুর এলাকার মৃত ইস্রাফিল মিয়ার ছেলে মো. আসাদ (৩০) বাদী হয়ে পেনাল কোডের ২৯৫/২৯৫ ক ধারায় ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত ও কোরআন শরীফকে অবমাননা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলায় ১৯ দিন পর জামিন পেলেন শিক্ষক হৃদয় মন্ডল। হৃদয় মন্ডলের জামিন শুনানিকে ঘিরে গতকাল আদালত পাড়ায় ছিলো সরব আলোচনা। সবার দৃষ্টি ছিলো আদালতের দিকে।

ঢাকা থেকে আগত ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলেন আদালত চত্বরে। সাধারণ মানুষও কৌতুহলে ছিলেন শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের জামিন শুনানি নিয়ে। অন্যান্য দিনের তুলনায় আদালত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।

‘রাষ্ট্র যেন আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন’

কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েই মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি নিরাপদ নই। রাষ্ট্র যেন আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আমার মতো যারা আছে তাদেরকে যেন নিরাপত্তা দেয়। পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে চাওয়া হচ্ছে আমার পথে ঘাটে বের হতে যাতে কোন অসুবিধা না হয়।’ গতকাল রোববার বিকাল পৌণে ৪ টায় কারাগার থেকে মুক্ত হোন শিক্ষক হৃদয় মন্ডল। তারপর কারাগার থেকে বের হয়ে একটি মাইক্রোবাসে উঠে পড়েন তিনি। তার সাথে ছিলেন তার স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা ও তার কয়েকজন বন্ধু। কারাগারের গেটে আসার পর সেখানে কয়েক মিনিটের জন্য সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয় তাহলে আমি স্কুলের কোয়াটারে গিয়ে থাকবে। আমি আমার নিরপত্তা নিয়ে চিন্তিত আছি। পরিবার নিয়ে সেখানে থাকতে পারব যদি সরকার নিরপত্তা দেয়। বর্তমান নিজ বাসাকে নিরাপদ মনে করিনা। আমি বর্তমানে নিজেকে নিরাপদ মনে করছি না। প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির ক্লাসে বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় মন্ডল। এ সময় তিনি ইসলাম ধর্ম ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তিকর কথা বলেন। যা শিক্ষার্থীরা মোবাইলে রেকর্ড করেন। এ বিষয়ে ক্লাস শেষে শিক্ষকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ২২ মার্চ বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। গত ২৩ মার্চ রাত সাড়ে ১০ টায় শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের বিরুদ্ধে ২৯৫ ও ২৯৫ (ক) ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করেন একই স্কুলের অফিস সহকারি (ইলেক্ট্রিশিয়ান) আসাদ মিয়া।

‘সাংবাদিকরাই শুরু থেকে পাশে আছে’

স্বামীর জামিনের খবরে আদালত প্রাঙ্গণে স্ত্রী ববিতা হাওলাদারের উচ্ছাস। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার বলেছেন, ‘আমার স্বামীর সাথে অন্যায় হয়েছে। ১৯ দিন যাবত কারাগারে ছিলেন। এসময় পর্যন্ত সাংবাদিকরা আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। সাংবাদিকরা পত্রিকা ও টেলিভিশনে খবর প্রকাশের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষ জেনেছে। আমার স্বামীও কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথমেই সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সব সাংবাদিকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। গতকাল রোববার বিকালে হৃদয় মন্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার আরও বলেন, আমার স্বামী ডায়াবেটিস রোগী। তিনি কারাগারে থাকাকালীন ঠিকমত ঔষধ নেননি। যার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে ঢাকায় বোনের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্কুলের ভিতরের লোকজন ও বাহিরের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। কারাগার থেকে বের হয়ে আমাকে এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী যেন স্কুলে ফিরতে পারেন। নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারেন। এলাকায় যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন সে ব্যাপারে সরকার যাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি স্কুলে চাকরি করার ক্ষেত্রে যাতে কোন অসুবিধা না হয়। তাছাড়া যারা পরিকল্পিত ভাবে আমার স্বামীকে ফাঁসিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আইসিটি ও মানহানি মামলা করার সুযোগ আছে ও সরকারেরও সুযোগ আছে। স্ত্রীর বড় ভাই বাদল হাওলাদার জানান, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কেউই আসেনি আদালত ও কারাগারে। শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ে আসেনি। আবার কেউ কেউ চায়নি সে জামিনে মুক্ত হোক।’

‘উশৃঙ্খল লোক জঙ্গিবাদ ছড়াতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে’

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী শাহিন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ বলেছেন, ‘মুন্সিগঞ্জ একটি ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জেলা। জঙ্গিবাদীদের অভয়ারণ্য হিসেবে মুন্সিগঞ্জকে পরিচিত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলা করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ ছড়ানোর জন্য কিছু উশৃঙ্খল লোক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৩০১ নম্বর কক্ষে হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের জামিন শুনানিতে তার পক্ষের আইনজীবী বিচারকের কাছে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এ কথা বলেছেন। বেলা ১২ টা ৫৩ মিনিটে জামিন শুনানি শুরু হয়। এরপর দুপুর ১ টা ১৭ মিনিটের দিকে আদালত ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করা হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোতাহারাত আখতার ভূঁইয়া জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। প্রায় ২৫ মিনিটের যুক্তিতর্কে উপস্থাপনকালে আইনজীবী শাহিন মোহাম্মদ আমান উল্লাহ এজলাসে বলেন, মামলার বাদী স্কুলটির ইলেক্ট্রিশিয়ান আসাদ মিয়াঁ ঘটনার দিন শ্রেণি কক্ষে থাকার কথা না। হৃদয় মন্ডল একজন মুক্তমনা ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। বিচারককে উদ্দেশ্য করে আইনজীবী শাহীন আমানউল্লাহ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদকে তার জীবদ্দশায় অনেক মানুষ কষ্ট দিয়েছেন। তার পথে কাটা বিছিয়ে আঘাত দিয়েছেন তবুও তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। ইসলাম জঙ্গীবাদের শিক্ষা দেয়া না। হৃদয় মন্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কুচক্রি মহল জড়িত। মামলার এজাহারে কোন জব্দ তালিকা নেই। স্কুলের ছাত্রদের কাছে মোবাইল থাকার কথা নয়। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে বিনা অনুমতিতে অন্যের কথোপকথন রেকর্ড করা যায় না। এই ক্ষেত্রে স্কুলের ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া দরকার। আইনজীবী আদালতের কাছে ফিরিস্তি দিয়ে বলেন, শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের কথোপকথনে ধর্ম অবমাননার প্রমাণ পাওয়া যায় না। এজাহারের কোথাও ধর্ম বা পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং ‘ধর্ম শৃঙ্খলাবোধ শেখায়’ এ কথার মাধ্যমে মানবতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তার একটি মহল- এ মামলা সেটিই প্রমাণ করে।’

‘স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নিরবতাও প্রশ্নবিদ্ধ’

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের পক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বদিউজ্জামান তপাদার বলেছেন, ‘হৃদয় মন্ডলের বিরুদ্ধে মামলাটি উদ্দেশ্যমূলক। শিক্ষক ছাত্রের মধ্যকার কথোপকথন সিলেবাস বহির্ভূত। ছাত্রদের এ ধরনের আচরণ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ। এই কথোপকথন মোবাইলে রেকর্ড ও হস্তান্তর উদ্দেশ্যমূলক। এ ধরনের ঘটনা সারাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উপর আঘাত। এক্ষেত্রে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নিরবতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। শিক্ষক হৃদয় মন্ডলকে সরিয়ে লক্ষ টাকার বিনিময়ে অন্য কোন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে তাদের।’ গতকাল রোববার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৩০১ নম্বর কক্ষে হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের জামিন শুনানিকালে এ কথা বলেন শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল পক্ষের আইনজীবী বদিউজ্জামান তপাদার। তিনি এজলাসে বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের সেদিনের বক্তব্য ধর্মের প্রতি হেয় ও উদ্দেশ্যমূলক ছিলনা। এছাড়া এজাহারের সাথে ফিরিস্তির মিল নেই। স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষকের প্রশ্নোত্তরে কখনো ধর্ম অবমাননা হয় না।’

 

 

error: দুঃখিত!