২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ৮:১১
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
৩০০ বছরের পুরোনো বিক্রমপুরের আউটশাহী মঠ
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৭ মে ২০২৩, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

১০০ ফুঠ উচ্চতার প্রাচীন বিক্রমপুর জনপদের আউটশাহী মঠের বয়স অন্তত ৩০০ বছর। হিন্দু ধর্মালম্বী বিজয় রাম কর ১৭৫৫ থেকে ১৭৫৭ সালে তার মায়ের মরদেহের উপর এই মঠটি নির্মাণ করেন। মঠের পাশেই দেবী দুর্গা এবং শিব ও দেবী পার্বতীর সংমিশ্রণে দুটি আলাদা মন্দিরও নির্মাণ করেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় হিন্দু ধর্মালম্বীরা এখানে নিয়মিত পূজা দেন। 

প্রাচীন বিক্রমপুরের অংশ বর্তমান মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের  আউটশাহী রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে এই মঠটির অবস্থান।

মুন্সিগঞ্জের যে মঠগুলো নিয়ে খুব একটা কথা হয় না বা অবহেলা করা হয় তার মধ্যে এটি একটি। জরাজীর্ণ এলাকায় অনেকটা আড়ালে-আবডালে এর অবস্থান। বর্তমানে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মঠটি চারিদিক থেকে গাছগাছালিতে ঢেকে গেছে। তবু এখানে বিভিন্ন জাতের পাখির বসবাস আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। তবে আক্ষেপের বিষয় আউটশাহীর এই মঠটির  সঠিক ইতিহাস সম্বলিত কোন প্ল্যাকার্ডও নেই মঠটির আশপাশে। ফলে দর্শনার্থীরা মঠটি পরিদর্শনে আসলেও এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছেন না কিছুই।

ছোট-বড় মিলিয়ে মুন্সিগঞ্জে ৬টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলাতেই ৩০-৩৫টি মঠ রয়েছে। মুন্সিগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ী, সিরাজদিখান, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার প্রান্তিক এলাকায় মঠগুলোর অবস্থান। তবে সবচেয়ে বেশি মঠ টংগিবাড়ী উপজেলাতেই। আর ২৪১ ফুট উচ্চতার ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে উচু শ্যামসিদ্ধির মঠের অবস্থানও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলাতে।

মুন্সিগঞ্জের এই একেকটি মঠ এই অঞ্চলের শত শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক মঠের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করলেও তাদের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে কোন ব্যবস্থাই যেন নেই। অথচ মুন্সিগঞ্জ জেলাকে ব্যান্ডিং করা হয়েছে প্রত্ননগরী মুন্সিগঞ্জ নামে। তাহলে কেন ইতিহাস সংরক্ষণে অবহেলা?

মুন্সিগঞ্জ মূল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নয়নাভিরাম আউটশাহী গ্রামের ঐতিহাসিক এই মঠটি স্থানীয় দখলদাররা যে কোন সময় অপসারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই মঠের মাথাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক আঘাতেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মঠটির বাইরের অংশ।

হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজন তাদের মা বাবার মৃত্যুর পর যে স্থানে দাহ করা হয়, তাদের চিতার ওপর স্মৃতি রক্ষার্থে সেখানে মঠ নির্মাণ করেন তারা। মঠের চূঁড়ায় পিতলের কলসিতে রাখা হয় চিতার ছাঁই ও সামান্য পরিমাণ ধাতব মুদ্রা।

১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জে অসংখ্য মঠ ছিলো। নদী ভাঙন ও দখলদাররা ভেঙ্গে ফেলার কারণে এ সংখ্যা প্রতিনিয়তই কমছে।

প্রাচীন ও ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জের এই আউটশাহী মঠকে সংস্কার করে অস্তিত্ব রক্ষার দাবি স্থানীয়দের।

error: দুঃখিত!