৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ৩:৩৪
৩ সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মা সেতুর পিলারে ৩ বার ধাক্কা, অর্ধেক ভারী যান পারের সিদ্ধান্ত
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১১ আগস্ট, ২০২১, ডেস্ক রিপোর্ট (আমার বিক্রমপুর)

৩ সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মা সেতুর পিলারে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে চলাচলকারী ৩ টি ফেরির ধাক্কার ঘটনায় এবার ফেরি চলাচলে সিদ্ধান্ত বদলেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

গতকাল মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাতে নতুন সিদ্ধান্তে বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, যত দিন নদীতে তীব্র স্রোত থাকবে, তত দিন ফেরিতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ভারী যানবাহন তোলা যাবে। বাকিটা হালকা যানবাহন থাকবে। এতে ফেরি হালকা থাকবে।

এ ছাড়া সতর্কতা হিসেবে পদ্মা সেতুর পিলারে রাবারের আস্তর দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

সেতু বিভাগ বলছে, ফেরি দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছে না তারা। এ জন্য সোমবার লৌহজং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।

গত ২০ জুলাই পদ্মা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রো রো ফেরি শাহ মখদুমের তলা ফুটো হয়ে যায়। ২৩ জুলাই মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি শাহজালাল ১৭ নম্বর পিলারে ধাক্কা দিলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর গত সোমবার সন্ধ্যায় রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ১০ নম্বর পিলারে সজোরে ধাক্কা খায়। সব কটি ঘটনায় পিলারের পানির লাগোয়া অংশে (পাইল ক্যাপ) পলেস্তারা উঠে গর্তের সৃষ্টি করেছে।

পদ্মা সেতুর পিলারে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের ধাক্কার কারণ হিসেবে ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার ও হুইল সুকানির অদক্ষতাকে দায়ী করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। গতকাল সংস্থার এক আদেশে ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার দেলোয়ারুল ইসলাম ও হুইল সুকানি আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা করা হয়। তাঁদের নামে বিভাগীয় মামলা হবে।

ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘ভারপ্রাপ্ত মাস্টার অফিসার ও হুইল সুকানি দক্ষতার সঙ্গে ফেরিটি পরিচালনা করলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। দায়িত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁদের ফেরিটি সাবধানতার সঙ্গে পরিচালনা করা উচিত ছিল। পদ্মা সেতুর নিচে এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

তবে ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার দেলোয়ারুল ইসলাম দাবি করেছেন, তীব্র স্রোতের কারণে সেতুর পিলারের কাছে ঘূর্ণি তৈরি হয়। ফলে স্রোতের দিকে ফেরি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ঘূর্ণির কারণে ফেরি চালাতে অসুবিধার কথা আগেও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিআইডব্লিউটিসির কারিগরি বিভাগের পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগের গত ২৩ জুলাইয়ের দুর্ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি রোববার সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেরির মাস্টার, সুকানিসহ ফেরি পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও আবশ্যকীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ব্রিজের পিলারে নেভিগেশনাল বাতি ও রাবারের আস্তর দেওয়া, পিলারের দুই দিক থেকে দৃশ্যমান চিহ্ন রাখা।

error: দুঃখিত!