সুখ কিনতে গেলেন বিদেশ, জেল খেটে ফিরলেন দেশে
মুন্সিগঞ্জ, ২৯ জুন ২০২৫, জুয়েল দেওয়ান, গজারিয়া (আমার বিক্রমপুর)
দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়ে সচ্ছলতার স্বপ্ন ছিল ফরহাদ হোসেনের। কথা ছিল ভালো একটি কোম্পানিতে চাকরি হবে। খরচ বাদে মাসে ৭০ হাজার টাকা আয় হবে। বাস্তবে সে স্বপ্ন রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে।
কাজ তো জোটেনি, বরং জেল খেটে দেশে ফিরলেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে গজারিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ফরহাদ হোসেন। তিনি গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের মৃত রনি মিয়ার ছেলে।
গতকাল শনিবার বিকালে আক্ষেপের সঙ্গে ফরহাদ হোসেন জানান, সৌদি আরব থেকে ৭মাস জেল খেটে গত শুক্রবার দেশে ফিরেছেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট একই গ্রামের পারভেজ সরকারের মাধ্যমে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির লেবার ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। যাওয়ার আগে দালালকে প্রথমে ৫ লাখ ৫০ হাজার, পরে ২ লাখ টাকা দেন। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ৭লাখ ৫০ হাজার টাকা বিভিন্ন এনজিও ও মানুষের কাছ থেকে ধার নেয়া। সেখানে যাওয়ার পর তাকে বাসস্থান, কাজ ও কাগজপত্র কিছুই করে দেয়নি তারা। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় যাওয়ার দুই মাস পর ওই দেশের পুলিশ তাকে আটক করে জেলে পাঠায়। দীর্ঘ ৭ মাস জেল খেটে দেশে ফিরে আসেন ফরহাদ।
কান্না কন্ঠে ফরহাদ আরও জানান, এই ঋণ কিভাবে শোধ করবো। আমার মৃত্যু ছাড়া আর কোন পথ নাই। স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে কিভাবে চলবো। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার মতো যেন কেউ দালালের খপ্পরে পরে নিঃস্ব না হয়।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


