সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান পরিস্কার করলেন রাহাত খান রুবেল
মুন্সিগঞ্জ, ৮ মার্চ, ২০২৩, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলা উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজি আবদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করে প্রার্থীতা বাতিলে সহায়তা করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা রাহাত খান রুবেল। এসময় তিনি নির্বাচন পরবর্তী তার অবস্থানের ব্যাখা দেন।
আজ বুধবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের শফিউদ্দিন আহম্মেদ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন করেন সোনারং-টংগিবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাহাত খান রুবেল।
এসময় রাহাত খান রুবেল অভিযোগ করে বলেন, অন্য আরেকজনের ঋণের গ্যারান্টেড থাকায় ঋণ খেলাপির অভিযোগে আমার প্রার্থীতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আমি নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই ঋণ পরিশোধ করে আপিল করলে তারা সেটি বাতিল করে দেয়। এরপর আমি হাইকোর্টে আপিল করে রিট করলে তারা রিট খারিজ করলে সুপ্রীম কোর্টে আপিল করি। তারাও আমার প্রার্থীতা বাতিল করে। এসবের পেছনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজি ওয়াহিদ ও তার লোকজন জড়িত। তারা এখন আমাকে নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে- আমি নাকি তার সাথে বসে আপস করেছি। আসলে এ কথা সত্য নয়, বিষয়টি পরিস্কার থাকা দরকার। ভবিষৎয়ে আমি আবারও নির্বাচন করবো।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে রুবেল বলেন, আমি বিদ্রোহী প্রার্থী নই। আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইনি। ভবিষৎয়ে দলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
অভিযোগের বিষয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজি ওয়াহিদ বলেন, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তার আপিল বাতিল করে দিয়েছে। সেখানে প্রভাব খাটানোর মত কোন বিষয় নেই। আদালত তো কারও প্রভাবে চলে না। তার সকল অভিযোগ মিথ্যা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সোনারং ইউনিয়ন আ. লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন শেখ, ৫নং ওয়ার্ড আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক সোহরাব বেপারি, ইউনিয়ন আ. লীগ নেতা আব্দুল হাই লাকুড়িয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির পাশা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, টংগিবাড়ী উপজেলা উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি মানিক মিয়া বাচ্চু মাঝি ও সোনারং টংগিবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাহাত খান রুবেল। তবে, গেল ২০ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে বাচ্চু মাঝি ও ঋণ খেলাপির অভিযোগে রাহাত খান রুবেলের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এরপর দুই প্রার্থী আপিল করলেও তা নাকচ হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কাজি আবদুল ওয়াহিদকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ।


