৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | বিকাল ৩:১৫
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
রিয়াজের অসুস্থতা : কী ঘটেছিল ‘কৃষ্ণপক্ষ’র সেটে
খবরটি শেয়ার করুন:

গতকাল ১৯ অক্টোবর সোমবার মেহের আফরোজ শাওনের নির্মিতব্য কৃষ্ণপক্ষ সিনেমার শুটিং চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন রিয়াজ। তবে এখন শঙ্কামুক্ত এ চিত্রনায়ক। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। বর্তমানে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে এ অভিনেতাকে।

কৃষ্ণপক্ষ সিনেমার শুটিং চলাকালে যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন রিয়াজ তখন শুটিং সেটে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, চিত্রনায়িকা মাহি, নির্মাতা শাওন, নির্মাতা মাসুদ আখন্দসহ আরো অনেকে। কৃষ্ণপক্ষ সিনেমার শুটিং সেটে হঠাৎ নেমে আসা এমন দুঃসময়ের প্রত্যক্ষদর্শী মাসুদ আখন্দ। গতকালের সেই চিত্র নিয়ে লিখেছেন- মাসুদ আখন্দ

‘কৃষ্ণপক্ষের সেটে বসে গল্প করছি পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন এবং অভিনেতা ফেরদৌস ভাইয়ের সঙ্গে। সেট রেডি, অভিনেতা রিয়াজ ভাই ও মাহিয়া মাহি সেটে এলেই শুটিং শুরু হবে। এর মধ্যে একজন এসে জানালো রিয়াজ ভাই অসুস্থ এবং বমি করছেন। আমরা তিনজনেই দৌড়ে দোতলায় গেলাম।

দোতলায় একটা খাটে তিনি শুয়ে আছেন। আমরা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বললেন- একটু খারাপ লাগছে, ঠিক হয়ে গেলেই শুটিং করব। ফেরদৌস ভাই রিয়াজ ভাইয়ের গায়ে হাত দিয়ে বললেন, শরীর এত ঠান্ডা কেন? এক্ষুনি হাসপাতালে নিতে হবে। আমি স্পর্শ করে দেখি ফ্রিজের ঠান্ডা পানির বোতলের মতো তার শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে কিন্তু তিনি অনবরত ঘামছেন।

আমি আর ফেরদৌস ভাই ধরে রিয়াজ ভাইকে দ্রুত নিচে নামালাম এবং উত্তরা হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার বললেন, আপনারা সঠিক সময়ে উনাকে নিয়ে এসে খুব ভালো করেছেন। এমন সময় রিয়াজ ভাই পরিচালককে বললেন, শাওন আপনার শুটিং আছে, আপনি যান। আমি ঠিক হয়ে যাব।

পরিচালক কিছু না বলে বাইরে এসে ঢক ঢক করে অনেকটা পানি খেলেন। আমি প্রশ্ন করি, গুরুপত্নী ভয় পেয়েছেন? তিনি দিশেহারা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকান। আমি নির্ভয়ের হাসি দেওয়ার চেষ্টা করি। ওই যে দেখা যায় ফেরদৌস ভাই রিয়াজ ভাইকে ছায়ার মতো আগলে আছেন।

রিয়াজ ভাইকে রেখে আমি যখন হাসপাতাল থেকে বেরিয়েছি তখন রিয়াজ ভাইকে একটি রিং পরানো হয়েছে। তখন বুঝেছি তিনি বিপদমুক্ত।

সিসিইউর সামনে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির যত শিল্পী কলাকুশলী খবর পেয়েছেন সবাই চলে এসেছেন। রিয়াজ ভাইয়ের জনপ্রিয়তা সেটা অনেকের চোখের জল আমাকে বলে দিচ্ছিল প্রচণ্ডভাবে। দেশের বাইরে থেকে এই জনপ্রিয়তা ঠিকভাবে বোঝা যায় না।

আমার বিশ্বাস রিয়াজ ভাই খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে কৃষ্ণপক্ষ-এর কাজ শেষ করবেন ইনশা আল্লাহ।

এই লেখাটি কিছু অদ্ভুত অদ্ভুত আজগুবি নিউজ দেখে লিখলাম। না জেনে আজগুবি কথাগুলো কেন পত্রিকা লিখছে আমি বুঝতে পারছি না। বাংলাদেশের মানুষগুলোই বুঝি এমনই অদ্ভুত। অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার উত্তরা থেকে বসুন্ধরা যাওয়ার পথে আমার সঙ্গে অভিনেতা মান্নার মৃত্যু কাহিনি বর্ণনা শুরু করল। এর সঙ্গে রিয়াজ ভাইয়ের বর্তমান ঘটনার কতটুকু মিল সেটা বোঝাচ্ছিল, কারণ একই ড্রাইভার অভিনেতা মান্নার সময়েও ছিলেন।

আমি আহত কণ্ঠে বললাম, ভাই আপনার কি মাথা খারাপ? কি সময়ে কিসের গল্প শুরু করলেন? গাড়ি চালান। সে আমাকে বলে, সরি স্যার সরি। আসলে রিয়াজ ভাইকে এমন অবস্থায় দেখে আউলা হয়ে গেছি। তিনি আমার খুব প্রিয় একজন নায়ক।

আমি হতভম্ব হয়ে বাঙালি দেখি। সাংবাদিক থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার সবার মাথাই আউলা হয়ে গেছে।’

error: দুঃখিত!