২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | সকাল ৭:১৯
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
রামপাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ শিক্ষানুরাগী আব্দুল বারী ভূঁইয়া
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৯ নভেম্বর, ২০২০, মাহবুব আলম জয় (আমার বিক্রমপুর)

শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশে প্রাচীন সভ্যতার জনপদ বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জে জন্মেছে অনেক অালোকিত মানব।

নিজের উন্নত জীবনের কথা না ভেবে তিনি নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে রেখেছেন অগ্রনী ভূমিকা। সভ্যতার এই নগরীতে তার অবদান এখনো ছড়িয়ে অাছে। তিনি আব্দুল বারী ভূঁইয়া।

মুন্সিগঞ্জ সদরের রামপাল ইউনিয়নের সিপাহীপাড়া গ্রামে ১৮৮৮ সালের ৭ মে জন্ম গ্রহণ করেন। সেই যুগে শিক্ষা লাভ করা খুবই দূলর্ভ ছিল। তিনি ১৯০৩ সালে বজ্রযোগিনী উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক এবং ১৯০৫সালে কলিকাতা প্রেসিডেন্ট কলেজ হতে এফ এ পাস করেন। তারপর বরিশাল কলেজে ভর্তি হন।

কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের ফলে তিনি পরীক্ষা দেয়া হতে বঞ্চিত হন।

তিনি নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে রামপাল এন বি এম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ১৯২০ সালে মক্তব, ১৯২৮ সালে জুনিয়র মাদরাসা এবং ১৯৩৩ সালে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

তিনি সাধারন শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে ব্রতী হন।

শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি তিনি সমাজ কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি শিক্ষার্থী যোগার ও বিদ্যালয়ের খরচ যোগানের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুষ্টি চাউল সংগ্রহ করতেন বলে জানা যায়।

আব্দুল বারী ভূইয়া তৎকালীন বিক্রমপুর পরগনায় জ্ঞানী ও গুনী ব্যাক্তি হিসেবে অন্যতম ছিলেন।

১৯৩৬ সালে তিনি ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য এবং ১৯৪০ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি একটানা আঠারো বছর বহাল থাকেন।

১৯৫৪ সালে তিনি জেলা বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন এবং জুড়ি বোর্ডের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

তিনি ১৯৬৪ সালের ২ জুলাই নিজ গৃহে পরলোকগমন করেন। সহজ ও সরল জীবন করতেন বারী ভূইয়া।

তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে তাকে শায়িত করা হয়। এই কর্মবীরের ব্যাপক অবদান এই অঞ্চলে এখনো আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে আব্দুল বারী ভূঁইয়ার প্রতিষ্ঠিত রামপাল এন বি এম উচ্চ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার গুনগত মান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামূল হক সাইফুদ্দিন জানান প্রায় সতের শত শিক্ষার্থী এখানে শিক্ষা গ্রহণ করছে নিয়মিত।

মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুরের অন্যতম এই মহৎমানব সকলের হৃদয়ে রয়ে যাবেন নিজ মহিমায়। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার এসকল অবদান এই অঞ্চলের মানুষ কোনদিন ভূলতে পারবে না।

error: দুঃখিত!