১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
রবিবার | দুপুর ১:১৫
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জ: রাস্তার দুঃখে ধানের চারা রোপণের ছবি ভাইরাল, ঠিকাদার উধাও
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২০ জুন, ২০২১, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ীদে একটি রাস্তা কার্পেটিং করার জন্য খুড়ে রাখা হয়েছে। রাস্তা খুড়ে রাখার পর ওই রাস্তার দুপাশে মাটি দিয়ে বাধ নির্মান করে রাখা হয়েছে রাস্তার মধ্যে বালু ইটের সুড়কি ফেলানোর জন্য।

এতে চলমান বৃষ্টিতে ওই রাস্তার মধ্যে অনেক স্থানে প্রায় হাটু পর্যন্ত পানি জমেছে। বেশ কিছুদিনের বৃষ্টিতে পানি জমে থাকা রাস্তাটিতে কাদার স্তর দিন দিন ভাড়ি হচ্ছে। আর ওই কাদার মধ্যে ধানের চারা রোপণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৯ জুন) ধানের চারা রোপণের ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোড করা হলে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

জানা গেছে, উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের পরিষদ ভবনের সামনে হতে টংগিবাড়ী কামারখাড়া সংযোগ সড়কের পাতাইল্লা ব্রীজে সংযুক্ত হওয়া এই সড়কটি দীর্ঘ প্রায় ২ মাস যাবৎ খুড়ে রেখেছে ঠিকাদার।

উপজেলার নসংকর, আদাবাড়ী, বাইনখাড়া,ভাঙ্গনিয়া, ভিটি মালধা গ্রাম ও তার আশেপাশের গ্রামের কয়েক হাজার লোক এ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন আগে রাস্তাটিতে কাজ শুরু করে ইট বিছানো রাস্তাটি খুড়ে রেখেছে ঠিকাদার। কাজ শেষতো দূরের কথা তাকে এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এলাকাবাসী আরও জানান, কোন এক দলিল লেখক রাস্তাটির কাজ করার ঠিকাদারী নিয়েছেন। যার কাজ দলিল লেখা তার ঠিকাদারি কি দরকার। ওই ঠিকাদারের কারনে আমাদের বাড়ি হতে পায়ে হেটে বের হতেও দূর্ভোগে পরতে হচ্ছে।

জুয়েল দেওয়ান নামের একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন,মাননীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি আপা ও উপজেলা চেয়ারম্যান ভূতু হাওলাদার সাহেব এর দৃষ্টি আর্কষণ করছি, এটি কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার রাস্তা। নসংকর, আদাবাড়ী, বানীখাড়া, আরো অনেক গুলো গ্রামের মানুষের চলাচলে অতি জরুরি প্রয়োজন এ রাস্তাটি। রমজানের ঈদের আগে এই রাস্তার কাজ ধরেছেন ঠিকাদার, এখনও পর্যন্ত কাজটি সম্পূর্ণ হচ্ছে না কেন? আপনাদের কাছে আকুল আবেদন কার্যকারী মূলক পদক্ষেপ নিন যেন এই কাজটি তারাতারি শেষ হয়।

মো. আমির নামের আরেকজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, যিনি এই কাজের ঠিকাদার ওনি নাকি দলিল লেখক, আমি মনে করি ওনাকে দলিল লেখকই মানায়, ঠিকাদারী নয়।

এ ব্যাপারে আদাবাড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ইট বিছানো রাস্তাটি খুড়ে দু-ধারে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মান করে গেছে ঠিকাদার। বৃষ্টিতে রাস্তার মধ্যে দু ধারে বাধের কারনে হাটু পানি। যানবাহন চলাচল ও রাস্তায় এখোন কিছুতেই সম্ভব নয়। পায়ে হেটে যেতেও কষ্ট হচ্ছে মানুষের।

এ ব্যাপারে কামারখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার জানান, দুই কিলোমিটার রাস্তাটি আরো এক বছর আগে টেন্ডার হয়। রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ খুড়ে রাখলেও কোন কাজ করছে না ঠিকাদার। আমি দীর্ঘদিন এ ব্যাপারে এলজিআরডি অফিসে যোগাযোগ করলেও ঠিকাদার কাজটি শুরু করছেন না।

এ ব্যাপারে টংগিবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এর আগেও এই ঠিকাদারের অনেকগুলো কাজ বাতিল করেছি আমরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঠিকাদার তার কাজ শেষ না করলে তার কাজ বাতিলের সুপারিশ করবো আমরা। যে কোন উপায়ে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য যা করণীয় সব ধরনের ব্যাবস্থা আমরা নিবো।

error: দুঃখিত!