১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | বিকাল ৫:১৯
মুন্সিগঞ্জ: ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগে’ ত্রাণ বিতরণে আগ্রহ নেই আ. লীগ নেতাদের
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৫ জুলাই, ২০২১, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী চলমান লকডাউনের মধ্যে মুন্সিগঞ্জে ত্রাণ কার্যক্রমে মাঠে নেই আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ নিয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আহবান জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি মুন্সিগঞ্জে।

আরও পড়তে পারেন: মুন্সিগঞ্জ: ক্ষমতার অযুহাতে ত্রাণ বিমুখ বিএনপি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জে পদধারী আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দুই একজন ছাড়া ব্যক্তিগত পরিচয় নেই সাধারণ মানুষের কাছে। পদের বাইরে দুই একজন নেতাকে গতবার কঠোর লকডাউনের সময় মাঠে দেখা গেলেও তাদেরও এবার মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

অভিযোগ আছে, পদধারী নেতারা অপেক্ষায় আছেন সরকার ত্রাণ পাঠালে সেটা তারা নিজেদের নামে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে তুলে দিবেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পদধারী কিছু নেতা যারা আবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তারা শুধুমাত্র সরকারের দেয়া ত্রাণকে বিভিন্ন উপায়ে নিজেদের নামে প্রচার করে থাকেন। ত্রাণের প্রচার করতেই তারা আলাদা বিনিয়োগ করে থাকেন। কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ দেয়ায় আগ্রহ নেই তাদের।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য মেম্বার (ইউপি সদস্য) ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কিছুদিন আগেও ব্যানার-পোষ্টার টাঙিয়ে সরব অবস্থান তৈরি করলেও করোনার কারনে নির্বাচন কমিশন ইউপি নির্বাচন স্থগিত করায় তারাও এখন মাঠে নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান যিনি আবার গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি বলছেন, ‘সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ চলছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর রাখছি। অনেককে বিকাশে টাকা দিচ্ছি। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের বলেছি। লকডাউন দীর্ঘায়িত করা হলে বড় পরিসরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ দেয়ার পরিকল্পনা আছে আমার।’

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, ‘এবছর এখনো ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ শুরু করিনি। লকডাউনের কারনে বসতে পারছি না। লকডাউনের পরে দেখবো।’

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান বলছেন, ‘আমাদের মুন্সিগঞ্জে এখনো ত্রাণ দেয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এখনো এমন হয়নি যে কেউ একেবারে বেকার হয়ে গেছে। লকডাউন তো মাত্র ৭ দিন। যদি বাড়ানো হয় আরও আমরা তাহলে ত্রাণ দিবো। আমাদের পরিকল্পনা আছে।’

error: দুঃখিত!