মুন্সিগঞ্জ কারাগারে তারেক সাঈদকে মারধরের অভিযোগ, সরিয়ে নেয়া হয়েছে অন্যত্র
মুন্সিগঞ্জ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে মারধরের অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তবে কারাগারের জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কারাগারে তারেক সাঈদকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, অভিযোগের মধ্যেই তারেক সাঈদকে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারেক সাঈদের মা দিলুয়ারা বেগম গত ২১ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করে তাঁর ছেলের সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট, ইনজুরি রিপোর্ট ও আঘাতের ছবিসহ সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন তিনি।
মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চিঠি পেয়েছি। কারাগারে বন্দি থাকা আসামিদের জন্য আমাদের কার্যালয়ের একজন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক থাকেন। বন্দি কেউ অসুস্থ হলে তিনি তাকে দেখেন। চিঠি প্রাপ্তির পর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আমরা কারা কতৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানালে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
আবেদনে দিলুয়ারা বেগম দাবি করেন, কারাগারে তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়েছে। এসব আঘাতের বিষয়ে চিকিৎসা ও যথাযথ নথিপত্র তৈরির অনুরোধ জানান তিনি।
একই আবেদন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবেদনে তারেক সাঈদের সেল এবং এর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করারও অনুরোধ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।
এদিকে দিলুয়ারা বেগম মুঠোফোনে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিষয়ে স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের আগ্রহ প্রকাশ করায় তারেক সাঈদের ওপর কারাগারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদ।
জিয়াউল আহসানকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকালে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে জেল সুপারের অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ‘৪-৫ জন কারারক্ষী দিয়ে তারেক সাঈদকে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণে তিনি বা তাঁর স্বজনদের মাধ্যমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।’
জেল সুপার জানান, প্রশাসনিক কারণে গত ৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তারেক সাঈদকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে আনা হয়। এরপর কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণসহ কারা বিধি না মানার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর অন্যান্য সেলে থাকা বন্দীদের পরিদর্শনে গেলে তারেক সাঈদ আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং সেল এলাকা থেকে চলে যেতে বলেন। এ ঘটনায় তাঁকে এক মাসের জন্য পারিবারিক সাক্ষাৎ বন্ধ রাখার শাস্তি দেওয়া হয়।
এরপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক পরিদর্শনের সময় তারেক সাঈদের পাশের সেলে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক বন্দী মো. কামাল হোসেন সেলে আগে থেকে রাখা ময়লাযুক্ত পানি আমার দিকে ছুড়ে মারেন।
জেল সুপারের ভাষ্য, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন দাবি করেন, তারেক সাঈদ তাঁকে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ও ইন্ধন দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধেই কারা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কামাল হোসেনকে এক মাসের ডান্ডাবেড়ি পরানো এবং অন্য কারাগারে বদলি করা হয়। আর তারেক সাঈদের টেলিফোনে যোগাযোগ ও পারিবারিক সাক্ষাৎসহ সব ধরনের যোগাযোগ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
তারেক সাঈদ মোহাম্মদ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা দুটি মামলায়ও তিনি বিচারাধীন বন্দী হিসেবে রয়েছেন।







