২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ৯:২০
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জে স্বর্ণের চেইনের জন্য বৃদ্ধাকে মেরে ফেলেন আল আমিন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৯ নভেম্বর ২০২৩, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

১১ বছর আগে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পালগাওঁ গ্রামে ৯ আনা স্বর্ণের চেইনের জন্য বৃদ্ধা আবেদা খাতুনকে (৭৫) হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আল আমিন মল্লিক (৩৩) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন উর্মি এ রায় প্রদান করেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. হাছান ছারওয়ার্দী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৫ আগস্ট লৌহজং উপজেলার পালগাওঁ গ্রামের মৃত রুস্তম হাওলাদারের ছেলে মামলার বাদি ফরহাদ হাওলাদার ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে আসেন।

বাড়ি ফিরে ফরহাদ তার মাকে দেখতে না পেয়ে ছেলে মিজানুর ও স্ত্রীকে খুঁজতে পাঠান। সে সময় ফরহাদের স্ত্রী দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন মল্লিককে তাদের বাড়ির পিছনে বসে থাকতে দেখেন। বাদির স্ত্রীকে দেখে আল আমিন দ্রুত সটকে পড়েন।

পরে ফরহাদ তার মাকে অনেক খোঁজাখুঁজির বসত ঘরের পিছনে নীচু ধানক্ষেতে পানির মধ্যে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। প্রথমে, তার মা স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন ভেবে দাফন সম্পন্ন করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরলে ফরহাদ দেখেন, তাদের বসত বাড়িতে আসামি আল আমিনের ২টি স্যান্ডেল পরে রয়েছে। তখনই সন্দেহ বাড়ে তার।

পরে ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ওই গ্রামের লোকজন নিয়ে আসামি আল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়- ফরহাদের মা নিহত আবেদা খাতুনের গলায় থাকা ৯ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন টান মেরে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আবেদা খাতুন বাধা দেওয়ায় তাকে দেয়ালের সাথে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দিয়ে শ্বাসরোধ করেন তিনি।

আলামিন একই গ্রামের মৃত রাজ্জাক মল্লিকের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত আবেদা খাতুনের ছেলে ফরহাদ বাদী হয়ে ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট লৌহজং থানায় ১০(৮) ২০১২ নং মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিকে বুধবার দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মো. সিরাজুল ইসলাম পল্টু বলেন, ১৭ জন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডসহ বাদির মায়ের গলার চেইন চুরি করায় ৩৭৯ ধারায় ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। বিচারকের এ রায়ে বাদী ও আমি রাষ্ট্র পক্ষ সন্তুষ্ট।

error: দুঃখিত!