২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ১:০৪
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলা: ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুকে প্রধান আসামি করে মামলা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১০ মে ২০২৪, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকের উপর বর্বরোচিত হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে উপজেলার হোসেন্দি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুকে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন হামলার শিকার সাংবাদিক গোলজার হোসেন।

একইদিন বিকালে একই থানায় মিঠুকে প্রধান আসামি করে আরও একটি মামলা হয়।

হোসেন্দী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যালটপেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মিঠুকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও দুইশো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হয়ে ওই মামলাটি করেন গজারিয়া থানায় কর্মরত পুলিশের উপ পরিদর্শক জাহিদ হাসান।

সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় মামলাটি করেন দৈনিক মানবজমিনের মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি এবং মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি গোলজার হোসেন।

মামলার তথ্য নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব খান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীর উপর হামলা ন্যাক্কার জনক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুকে প্রধান করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলার আসামিসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’

প্রথম ধাপে গত বুধবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী, মারধরের শিকার ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা জানান, গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনারস প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থক ছিলেন হোসেন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু, তার ভাই গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইকবাল হক স্বপন, ভাতিজা তানভীর হক তুরিন ও তাঁদের লোকজন।

ভোটের দিন (৮ মে) সকাল ৯ টার দিকে ইউনিয়নটির ভবানিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে শতাধিক লোকজন নিয়ে জড়ো হন ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু।

পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য সোহেল রানা সবাইকে সরে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান মনিরুল হকের নির্দেশে সোহেলকে মারধর শুরু করেন তাঁর ভাতিজা তুরিন এবং তাদের লোকজন। এসময় পাশ থেকে নিজের মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করছিলেন দৈনিক মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি গোলজার হোসেন। পরে তাঁরা পুলিশ সদস্য সোহেলকে রেখে সাংবাদিক গোলজারের ওপর হামলা করেন।তাঁর মুঠোফোন, পকেটে থাকা টাকা, আইডি কার্ড ও পর্যবেক্ষক কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মারধর করতে থাকেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমে কর্মরত ৬-৭ জন সাংবাদিক ভুক্তভোগী সাংবাদিককে উদ্ধারে ছুটে আসেন। মিঠু ও তার ভাতিজার নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় সকল সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে মিঠু তার কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের হাত কেটে ফেলার হুকুম দেন।

মনিরুল হক মিঠু হুংকার দিয়ে বলেন, ‘দুই-চারজন সাংবাদিক মেরে ফেললে কী হবে?’ এসব দৃশ্য ধারণ করতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাই টিভি ও দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধির মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মিঠু।

এরপর আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সহায়তায় মারধরের শিকার ওই সাংবাদিককে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

error: দুঃখিত!