২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ১:২৪
মুন্সিগঞ্জে বিনা ইজারায় ৭টি গরুর হাট
খবরটি শেয়ার করুন:

ঈদুল আজহা সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জ জেলার ৪২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী গরুর হাটের মধ্যে ৩৫টি ইজারা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন।

দরপত্র বিক্রি ও দাখিল না হওয়ায় জেলার সাতটি গরুর হাট বিনা ইজারায় খাস কালেকশনে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে উঠেছে, খাস কালেকশনে গরুর হাট পরিচালিত করতেই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কৌশলে বাধা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন দরপত্র ক্রয় করেননি।ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জের ছয়টি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪২টি গরুর হাট পশু বিক্রির জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী ইজারা দেওয়ার দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৫টি গরুর হাট ইজারা দেওয়া হয়। বাকি সাতটি ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেগুলো খাস কলেকশনের মাধ্যমে পরিচালনার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চারটি গরুর হাটের মধ্যে দুটি ইজারা হলেও দুটি ইজারা দেওয়া যায়নি। এ ছাড়া চিতলিয়া বাজার ও বাংলাবাজারে পৃথক দুটি চক্র গরুর হাট বসানোর পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে সদর ইউএনও সুরাইয়া জাহান জানান, সদর উপজেলার চারটি গরুর হাটের মধ্যে মুক্তারপুর বিসিক ও চরডুমুরিয়া ইজারা হলেও শিলই ও মদিনাবাজার নামের দুটি গরুর হাট ইজারা হয়নি। আর চিতলিয়া ও বাংলাবাজার এলাকায় গরুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ১১টির মধ্যে ৯টি ইজারা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তিন দফা দরপত্র আহ্বান করলেও তা ক্রয় ও দাখিল না হওয়ায় বালিগাঁও ও বেতকা গরুর হাট ইজারা হয়নি।
তিন বছর আগে বালিগাঁও গরুর হাটটি ৪৩ লাখ টাকায় ইজারা দিলেও দুই বছর ধরে খাস কালেকশনে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হিসাবে দুই বছরে সরকারি তহবিলে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা হওয়ায় লাখ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়। এবারও সেই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বালিগাঁও গরুর হাটটি খাস কালেকশনে প্রক্রিয়ায় আবারও সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলো। বালিগাঁও হাটের মতো বেতকা গরুর হাটেরও একই অবস্থা বলে জানা গেছে।

লৌহজং উপজেলায় ছয়টির মধ্যে পাঁচটি গরুর হাট ইজারা হয়েছে। একটি গরুর হাট খাস কালেকশনে পরিচালিত হবে বলে জানান ইউএনও মো. মনির হোসেন।

সিরাজদিখান উপজেলায় ১১টির মধ্যে ৯টি ইজারা হলেও দুটি ইজারা হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবু তাহের। এ ছাড়া গজারিয়ায় উপজেলায় পাঁচটি ও শ্রীনগর উপজেলায় পাঁচটি গরুর হাট ইজারা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, জেলার গরুর হাটগুলোয় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

error: দুঃখিত!